মুসলিম সম্পর্কে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মিথ্যা তথ্য শোধরাবে না

5

ঠিকানা রিপোর্ট : জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট তাদের বিতর্কিত এক রিপোর্টে অভাবিতভাবে দেয়া তথ্য বিভ্রান্তির কথা স্বীকার করলেও তারা তা প্রত্যাহার করতে নারাজ। একবছর আগে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ অনুসারে এই রিপোর্ট দেয়া হয়। রিপোর্টে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে ইমিগ্রেশনের যোগসূত্র খোঁজা হয়। এই বিষয়ে প্রদত্ত তথ্য ভুল বলে স্বীকার করলেও তা তারা ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করেছে।
ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এই রিপোর্ট পেশ করে। রিপোর্টে বলা হয় ২০০১ সালে ১১ সেপ্টেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের অভিযোগে ৫৪৯ জন দ-িত ব্যক্তির মধ্যে ৪০২ জনের জন্ম বিদেশে। তাদের সংখ্যা প্রায় প্রতি চার জনে তিনজন। এই রিপোর্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৭ সালে মার্চ মাসে ছয়টি মুসলিম দেশ থেকে ইমিগ্রেশন বন্ধে যে নির্বাহী আদেশ দিয়েছেন তার বরাতে প্রকাশিত হয়েছে।
সমালোচকরা এনিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এসব ডাটা প্রচ- রকমের বিভান্তিকর। এসব ডাটা দেয়া হয়েছে অপ্রয়োজনে। তারা মনে করেন ইমিগ্রেশন বিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়নে এসব ডাটা আইন প্রয়োগকারীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেবে। আর সাবেক সিনিয়র কাউন্টার টেরোরিজম কর্মকর্তারা বলেন, এসব তথ্য টেরোরিস্টদের হাতে পড়লে তারা বিষয়টা নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দিতে পারে। আর তা অনেককে সন্ত্রাসী করে তুলতে পারে। কয়েকটি সরকারি ওয়াচডগ ও সিভিল লিবার্টি গ্রুপ গত মে মাসে দুটি এজেন্সিকে দুটি ফেডারেশন কোর্টে এনিয়ে মামলা করে। ইনফরমেশন কোয়ালিটি এ্যাক্ট অনুসারে এই তথ্য সংশোধনের দাবি জানায় তারা। কিন্তু এজেন্সিসমূহ তা করতে অস্বীকার করে। এবং কোর্ট দুটি প্রশাসনিক আপীলের জন্য ল’ সুইট দুটির বিপরীতে আপীল করতে সুযোগ দেয়।
এখন দুই দফার পর জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট বলেছে, তারা এই তথ্য থেকে সরে আসবে না বা ভুল সংশোধন করবে না। তারা বলেন, ভবিষ্যতের রিপোর্টে এই নিয়ে ভুল ব্যাখ্যার অবকাশ যাতে না থাকে তার ব্যবস্থা নিবেন। ডেপুটি এসিসটেন্ট এটর্নি জেনারেল মাইকেল এইচ এলেন, মামলার বাদী গ্রুপ দুটোকে এ বিষয়ে চিঠি দেন।
এই ভুলটি সাধারণ নয় মোটেও, এই ভুলে বিদেশে জন্ম নেয়া অথবা আমেরিকার বসবাসকারী শিশুদের ওপর দোষারোপ করা হয়েছে। আর সে কারণে বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র আইনগত দিক থেকে নয়। এই ধরনের তথ্যে সঠিক চিত্র দেয়ার ব্যাপারে তাদের কর্তব্য রয়েছে। কাউন্সিল ফর প্রটেক্ট ডেমোক্রেসির বেন বারউইক বলেন, এই ধরনের তথ্য সরকারের ওপর আস্থা নষ্ট করে এবং ডেমক্রেসির ধ্বংস ডেকে আনে। রিপোর্টে বলা হয়, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ২৫৫৪ জনকে যারা ওয়াচ লিস্টে ছিলেন তাদের বিভিন্ন পোর্টে দেখেছে। বলা হয়েছে, তারা মূল পথে এসেছেন। কিন্তু তার মধ্যে মাত্র ৩১৫ জন স্থলপথে এসেছেন। ২৪৫৪ জন যে বলা হচ্ছে তাদের অধিকাংশ বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তা রক্ষীর হাতে ধরা পড়ে। রিপোর্টে বলা হয়, ৪০০০ সন্ত্রাসী ধরা পড়েছে। বিভিন্ন দেশের আসলে ৪০০০ লোককে ধরা হয়েছে যারা যে সব দেশ থেকে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে সে সব দেশের। রিপোর্টে বলা হয়, ২০০৩ থেকে ২০০৯ যৌন নিপীড়ক ৬৯৯২৯ জন। আসলে এ সংখ্যা গত ৫৫ বছরের উল্লেখিত ৬ বছরের নয়। আর এই সংখ্যা যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তা দ-িতদের সংখ্যা নয়। এসব পরিসংখ্যান মুসলিম দেশসমূহ যে সব দেশ ট্র্যাভেল ব্যানে সে সব দেশকে লক্ষ্য করে বলা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here