পারুল বেগমের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে, তা এই প্রথম জানলাম!

11

গোলাম মোর্তোজা

সিঙ্গাপুর থেকে একজন প্রবাসী যোগাযোগ করলেন, তিনি সূবর্ণচরের পারুল বেগমকে সহায়তা করতে চান। সহায়তার অর্থ আমার কাছে পাঠাতে চান।
৪ সন্তানের জননী পারুল বেগমের ধর্ষণের সঙ্গে নির্বাচন-ভোট-রাজনীতির সম্পর্ক আছে। সহায়তার মাঝখানে থাকতে স্বস্তিবোধ করছিলাম না। ‘উদ্দেশ কী’ প্রশ্ন আসতে পারে।
তাছাডা সিঙ্গাপুর থেকে যিনি যোগাযোগ করছেন, তাকেও জানি না। আগে এমন কাজে এত প্রশ্ন মাথায় আসত না। পরিবর্তিত বাংলাদেশে, এখন আসে। পারুল বেগমের উপকার হোক, টাকা আমার কাছে না আসুক, এমন উপায় খুঁজছিলাম। ডেইলি স্টারের নোয়াখালী প্রতিনিধি নুরুল আমীন ভাইকে ফোন করলাম। বলে রাখা দরকার, নুরুল আমীনের রিপোর্টের কারণেই পারুল বেগমের বিষয় নিয়ে আলোড়ণ তৈরি হয়। কিন্তু সিঙ্গাপুর থেকে নোয়াখালীর সূবর্ণচরে পারুল বেগমের কাছে সরাসরি টাকা পাঠানোর উপায় খুঁজে পেলাম না। প্রসঙ্গ এলো, একটি অটো রিকশা কিনে দেওয়ার। পারুল বেগমের স্বামী এবং ছেলে অটো রিকশা চালায়। চিন্তা করলাম, টাকা সরাসরি অটো রিকশা ডিলারের কাছে পাঠানো যেতে পারে।
সিঙ্গাপুর প্রবাসীর সঙ্গে আবার কথা হলো। তিনি আবারও টাকা আমার কাছেই পাঠাতে চাইলেন। কেন আমার কাছে পাঠাতে চাইছেন? বললেন ‘আমার মনে হয়েছে আপনার কাছে পাঠালে টাকাটা ঠিকমত পারুল বেগমের কাছে পৌঁছবে।’
ঠিক আছে পাঠান। পরের দিনই তিনি টাকা পাঠিয়ে দিলেন।
কথা হলো পারুল বেগমের সঙ্গে। তিনি বললেন, ভাই আমি অসুস্থ, নিরাপত্তার সমস্যা। এখন অটো রিকশা কিনে ঠিকমত রাখতে পারব না। যদি টাকাটা আমার অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন, তবে আমি সুস্থ হয়ে অটো রিকশা কিনব। একটা অটো রিকশা কিনতে পারলে আমরা একটু ভালো থাকতে পারব। খুব সহজে কথাগুলো লিখলাম। তবে অসুস্থ পারুল বেগমের কথাগুলো শুনে কান্না থামানো যাচ্ছিল না। পারুল বেগমের যে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে, তা এই প্রথম জানলাম।
গতকাল পারুল বেগমের অ্যাকাউন্টে ৩ লাখ টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের ম্যানেজার নিশ্চিত করেছেন, টাকা পারুল বেগমের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে।
কিছুক্ষণ আগে কথা বললাম পারুল বেগমের সঙ্গে। তার অ্যাকাউন্টে ৩ লাখ টাকা, অচেনা একজন দিয়েছেন তার ঘোর কাটছে না! ৩ লাখ! অটো রিকশা!! অসুস্থ্য মানুষটি বিড়বিড় করে কিছু একটা বলছিলেন। সম্ভবত ৩ লাখ টাকা এক সঙ্গে কোনোদিন দেখেননি পারুল বেগম।
সিঙ্গাপুর প্রবাসী যিনি এই টাকাটা দিলেন, তিনি নাম-পরিচয় কিছুই জানাতে চান না। ‘সহাযতা করেছি, জানানোর কী আছে’ সহজ-সরল কথা! মানুষ এখনো মানবিক। প্রবাসীদের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা-ভালোবাসা, সব সময়ই ছিল। আরেকবার তা দৃশ্যমান হলো, বাড়লো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here