ধর্ষণ জঘন্য পাপ

11

মাহমুদ আহমদ

ইসলামের দৃষ্টিতে ধর্ষণ একটি জঘন্য পাপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু ইসলাম নয়, কোনো ধর্মেই ব্যভিচারের শিক্ষা নেই। ইসলাম ব্যভিচারকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজ এবং হারাম আখ্যায়িত করেছে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয় এটা প্রকাশ্য অশ্লীলতা ও অত্যন্ত মন্দ পথ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত : ৩২)। বাইবেলে বলা হয়েছে, তোমরা ব্যভিচার করবে না।

দিনের পর দিন ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মাত্রা যেন বেড়েই চলেছে। গত কয়েক দিনে নারী ও শিশু নির্যাতনের যে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, তা পাঠ করে প্রত্যেকেরই হƒদয় কেঁপে ওঠে। নোয়াখালীর সুবর্ণচরের ঘটনা, তারপর তিন বছরের শিশুর সঙ্গে এমন পৈশাচিক নৃশংসতা কোনোভাবেই এটি মেনে নেওয়া যায় না। মেয়েরা আজ কোথাও নিরাপদ নয়। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, গৃহবধূ এমনকি অবুঝ শিশুও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। আজ মাদ্রাসার শিক্ষক কর্তৃক দশম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষিত হওয়ার সংবাদও পাচ্ছি; আবার মসজিদে আরবি পড়তে গিয়ে ইমাম কর্তৃক তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষিতÑ এমন সংবাদও পাওয়া যায়। অথচ ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা আলেম সমাজ আন্দোলন চালিয়ে যাবÑ এমনটিও দেখছি না।

আমরা জানি, কয়েক বছর আগে দিল্লিতে চলন্ত বাসে ৬ নরপশুর গণধর্ষণের কবলে পড়ে মেডিকেল ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা শুধু ভারতকেই নয়, বরং কাঁপিয়ে দিয়েছিল গোটা উপমহাদেশ ও বিশ্ববাসীকে। জাতিসংঘের মহাসচিব গভীর শোক প্রকাশ করেছিলেন তার মৃত্যুতে। তার পরিবারসহ গোটা বিশ্বের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি। ভারতে এর জন্য প্রচলিত আইন সংশোধনেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আইনে দÐিত ধর্ষকের ফাঁসি অথবা রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগে খোঁজা করে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। আমাদের দেশেও এ বিষয়ে আইন রয়েছে। বাংলাদেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমনে কঠোর আইন আছে; তবে এই আইনের কার্যকারিতা তেমন একটা দেখা যায় না। ফলে দিনের পর দিন ধর্ষণের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে আর নারীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে সর্বত্র।

যারা এ ধরনের পৈশাচিক কার্যক্রমে লিপ্ত হয়, তাদের কোনো ধর্ম নেই। তারা মানুষ নয়, অমানুষ। কুরআন ও হজরত রাসুল (সা.) আমাদের এই শিক্ষাই দেন, তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যাবে না। আমাদের এমন সব কর্ম থেকে দূরে থাকতে হবে, যা নিজেদের মনে কুপ্রভাবের সৃষ্টি করে। হজরত রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার দুই চোয়ালের হাড্ডির মাঝখান অর্থাৎ জবানের ও দুই পায়ের মাঝখানের অর্থাৎ লজ্জাস্থানের জামানত আমাকে দেবে, আমি তার জান্নাতের জামিন (বোখারি)। হজরত রাসুল (সা.) আরও বলেন, অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে উপার্জন করা ব্যভিচার। নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি দৃষ্টিপাত করা চোখের ব্যভিচার। যা শ্রবণ করা নিষিদ্ধ, তা শোনা কর্ণের ব্যভিচার; যে কথা বলা নিষেধ, তা বলা জিহŸার ব্যভিচার; নিষিদ্ধ জিনিসে হাত দেওয়া হাতের ব্যভিচার; নিষিদ্ধ স্থানে যাওয়া পায়ের ব্যভিচার (বোখারি ও মুসলিম)।বিয়ে করা স্ত্রী ছাড়া কারও সঙ্গে কোনোরূপ যৌন সম্পর্ক স্থাপন করাকে ইসলাম কঠিনভাবে নিষিদ্ধ করেছে এবং এটিকে মহাপাপ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাই কুরআনের সুরা নেসায় যুদ্ধবন্দিনীকেও বিয়ে না করা পর্যন্ত তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অনুমতি তো দেয়ইনি বরং কুরআনে স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, এই বন্দিনীদের স্ত্রীরূপে রাখার আগে স্বাধীন নারীদের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করতে হবে। এই যে একের পর এক নারী নির্যাতিত হচ্ছে, এর কি শেষ হবে না? যারা এসব অপকর্মে লিপ্ত, তারাও তো কোনো না কোনো পিতামাতারই সন্তান। প্রত্যেকেই যদি তার পরিবারের প্রতি সবসময় খেয়াল রাখতেন, তাহলে হয়তো আপনার-আমার সন্তানটি এ ধরনের জঘন্য কাজটি করতে পারত না। আমাদের সন্তানরা কোথায় যায়, কী করে, কার সঙ্গে সময় কাটায়, তা নিয়ে কি আমরা আদৌ চিন্তিত? আমরা যদি সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই উত্তমভাবে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করতাম, তাহলে কি আজ এমন পৈশাচিক কর্মকাÐের সংবাদ পেতাম?

তাই সর্বদা সন্তানদের জন্য দোয়া করতে হবে। তবে তার আগে আমাদের পবিত্র হতে হবে। আমি নিজেই যদি খারাপ কাজে লিপ্ত থাকি আর সন্তানকে ভালো কাজের উপদেশ দিই, তাহলে তা কোনো কাজে লাগবে না। আমার সন্তান একটি মেয়ের জীবন নষ্ট করবে বা আরেক মায়ের বুক খালি করবে আর আমি সেই সন্তানকে আবার আশ্রয় দেবোÑ এটা কোন ধর্মের শিক্ষা? তাই সমাজ থেকে ধর্ষণ বলুন আর যেকোনো মন্দ কাজ বলুন, তা দূর করতে প্রথমে প্রত্যেক পরিবারকে সোচ্চার হতে হবে। অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তাকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। ইসলামী গবেষক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here