অ্যাজমা বা হাঁপানি

6

অ্যাজমা বা হাঁপানি হলো ইমিউনজনিত শ্বাসনালির এক ধরনের অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া। বংশানুক্রমিকভাবে এই রোগে আক্রান্ত সন্তান, যাদের শ্বাসনালি খুবই সেনসেটিভ, বিভিন্ন উত্তেজক বস্তু বা অ্যান্টিজেনের সংস্পর্শে এসে উত্তেজিত হয়ে ফুলে ওঠে। এর ফলে তাদের শ্বাসনালির মধ্যে কফের নিঃসরণ বেড়ে যায় এবং শ্বাসনালি সংকুচিত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় শুরু হয় লাগাতার কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ ইত্যাদি।
রোগের কারণ : হাঁপানি কোনো সংক্রামক ব্যাধি নয়। শীতের এই সময়টি ছাড়াও বাড়ির আশপাশে যদি কোনো পরিবেশ দূষণকারী কলকারখানা থাকে অথবা অতিরিক্ত ধোঁয়া, ধুলো, ফুলের রেণু ইত্যাদি থাকে, তবে আপনার সন্তানের হাঁপানি হতে পারে। শীতের সময় কুয়াশা, সোয়েটার, লেপ-কম্বলের মাইট বা কাপড়ের মাঝে থাকা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পোকা হাঁপানির অন্যতম কারণ।
রোগের লক্ষণ : হাঁপানি দেখা দিলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় শোঁ শোঁ শব্দ, আর একটু বড় শিশুদের বুকে চাপ, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা ইত্যাদি হয়ে থাকে। এ ছাড়াও অল্প কাজেই পরিশ্রান্ত হওয়া বা হাঁপিয়ে ওঠা, রাতে একটানা ঘুম না হওয়া, অল্প খেলাধুলায় হাঁপিয়ে যাওয়া- এসব হাঁপানি রোগের অন্যতম লক্ষণ।
হাঁপানির চিকিৎসা : হাঁপানি রোগের স্থায়ী কোনো প্রতিকার নেই। এমন কোনো ওষুধ নেই, যা হাঁপানি রোগকে গোড়া থেকে নির্মূল করে দেয়। এই রোগের আদর্শ চিকিৎসা হলো নেবুলাইজার বা ইনহেলারের মাধ্যমে ব্রংকোডাইলেটর জাতীয় ওষুধের মাধ্যমে শ্বাসকষ্টের উপশম করা।
মুখে খাওয়ার থিওফাইলিন বা সালবিউটামল জাতীয় ওষুধে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক বেশি। যেহেতু ইনহেল করা ওষুধ সরাসরি ফুসফুসে পৌঁছায়, তাই এ ক্ষেত্রে রোগীর (ওষুধের) খুব সামান্য অংশের প্রয়োজন হয় এবং তা তাড়াতাড়ি কাজ করে। অনেকে অজ্ঞাতবশত ইনহেলারকে শেষ এবং ক্ষতিকর চিকিৎসা মনে করে থাকেন, যা একেবারে অমূলক। চিকিৎসকরা সাধারণত দুধরনের ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন। প্রশমনকারী বা রিলিভার (সালবিউটামল) এবং প্রিভেন্টার বা প্রতিরোধক। প্রিভেন্টার হলো স্টেরয়েড, যার কাজ হলো শ্বাসনালির সংবেদনশীলতাকে ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা। তাই এ ধরনের ওষুধগুলো নিয়মিত নিতে হয়। আর যদি কোনো অ্যান্টিজেন বা অ্যালার্জেন শ্বাসনালিকে উত্তেজিত করে, কাশি শুরু হয় বা নিঃশ্বাসের কষ্ট হয় তবেই রিলিভার জাতীয় ওষুধগুলো নিতে হবে। অর্থাৎ প্রয়োজনে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী (রিলিভার+প্রিভেন্টর) দুটোর মাধ্যমেই চিকিৎসা চালিয়ে নিতে হবে। প্রিভেন্টার বা প্রতিরোধক প্রথমে দিনে দুবার করে শুরু করার পর যদি ন্যূনতম ছয় মাস যদি রোগী রোগমুক্ত থাকে, তবে চিকিৎসক এ ওষুধের ডোজ কমিয়ে আনেন। আর এই কম ডোজ যদি একবার করে দিয়েই রোগী দিব্যি ভালো থাকে তবে তা ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া হয়। হাঁপানির সমস্যা যেন কম হয় এ জন্য মন্টিলুকাস্ট জাতীয় ওষুধ সেবনের পরামর্শ চিকিৎসকরা দিয়ে থাকেন।
রোগ প্রতিরোধ শিশুর হাঁপানি : হাঁপানি ঘন ঘন দেখা দিলে শিশুর শরীর পরিমিত অক্সিজেন পায় না। আর অক্সিজেনের অভাবে দেহের বিভিন্ন কোষের গঠন বৃদ্ধি সঠিকভাবে হতে না পারায় শিশুটির গ্রোথ ফেইলুর হয়। এমনকি দীর্ঘমেয়াদি হাঁপানির কারণে শিশুর বুকের গড়ন কবুতরের বুকের খাঁচার আকার ধারণ করতে পারে। এ জন্য হাঁপানি প্রতিরোধের ব্যাপারে শিশুর বাবা-মাকে অধিক নজর দিতে হবে। শীতের সময় গরম কাপড়গুলো ধুয়ে অথবা রোদে দিয়ে পড়তে হবে। অ্যালার্জিক বা উত্তেজক বস্তু, খাবার, ধুলাবালু এসব থেকে শিশুকে দূরে রাখতে হবে। আশা করি শীতের এ সময়টিতে আপনার সাবধানতা তথা স্বাস্থ্য সচেতনতায় শিশু হাঁপানি জাতীয় কষ্ট থেকে মুক্তি পাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here