বাড়তি চর্বি ছেঁটে ফেলুন

3

স্কিনের নিচের চর্বি মেশিনের মাধ্যমে টেনে বের করার পদ্ধতিকে লাইপোসাকসন বলে। অন্যদিকে অপারেশনের স্থান অবশ করার পর ওষুধ দিয়ে ফুলিয়ে ফেলা হয়, তাকে টিএল লাইপোসাকসন বলে। লাইপোসাকসন অপারেশনের সময় ব্যথা হয় না, হলেও তা অতি সামান্য। সে জন্য পেইন কিলার দেওয়া হয়, যাতে রোগী ব্যথা অনুভব না করে।
এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। ডাক্তার ও রোগী গাফিলতি না করলে এটি অবিশ্বাস্য রকম নিরাপদ। এ পদ্ধতিতে পেট, কোমর, ব্রেস্ট, থুঁতনি, আর্ম (হাত), থাই (ঊরু) অপারেশন করা যায়। লাইপোসাকসনের পর রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় না এবং নিজেই বাসায় চলে যেতে পারেন। মনে রাখতে হবে, প্রতিটি চিকিৎসার পর রোগীর বাসায় বিশ্রাম নিতে হয়। লাইপোসাকসনের পর রোগীকে বাসায় একদিন বিশ্রামে থাকতে হয়। পরে দুদিন বাসায় হাঁটাচলা করা যাবে। চতুর্থ দিন থেকে স্বাভাবিক কাজ করা যাবে। ১০ দিন পর থেকে ভারী সব ধরনের কাজ করা যাবে। একটা কথা বললেই নয়, অনেকেই মনে করেন লাইপোসাকসনের পরই অপারেশনের জায়গাটি স্লিম হয়ে যাবে, তা কিন্তু নয়।
সিøম হতে সাধারণত তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগে। স্থানভেদে এ অপারেশনের মাধ্যমে এক-দুই লিটার থেকে পাঁচ লিটার পর্যন্ত ফ্যাট বের করা হয়। অনেকেই শরীরের ওজন কমানোর জন্য এটি করে থাকেন। তা কিন্তু তা উচিত নয়। সাধারণত এ অপারেশনের মাধ্যমে যত লিটার ফ্যাট বের করা হয়, তার দ্বিগুণ পর্যন্ত ওজন কমে। এ অপারেশনের পর ওজন না বাড়লে কখনোই আর নতুন চর্বি জমা হবে না। মনে রাখতে হবে, ওজন কমানোর স্পষ্ট উপায় হলো ডায়েটিং ও ব্যায়াম। অনেকেই একটি প্রশ্ন করে থাকেন, লাইপোসাকসনের ফলে প্রেগন্যান্ট হতে অসুবিধা হবে কি না? মনে রাখতে হবে লাইপোসাকসনে শুধু ফ্যাট কমায়। এতে প্রেগন্যান্সি ও ব্রেস্ট ফিডিংয়ে অসুবিধা হয় না। ১৬ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ইচ্ছে করলে লাইপোসাকসন করতে পারেন। এর ফলে চামড়া ঝুলে যাবে না ও ছিদ্র দেখা যাবে না।
লাইপোসাকসনের পর করণীয়-
-প্রচুর তরল খাবার খেতে হবে।
-এক দিন বিশ্রামে থাকতে হবে।
-পরবর্তী দুদিন বাসায় হাঁটাচলা করা যাবে।
-চতুর্থ দিন থেকে স্বাভাবিক কাজ করা যাবে।
-১০ দিন পর থেকে স্বাভাবিক ও ভারী কাজ করা যাবে।
-চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে।
-দুদিন ধূমপান করা যাবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here