দেয়াল নির্মাণের চাইতে সরকারি কর্মদক্ষতা বাড়ানো জরুরি

24

মঈনুদ্দীন নাসের : ফেডারেল সরকারের শাটডাউন বন্ধ হয়েছে। কিন্তু দেয়াল সমস্যা এখনও ঝুলে আছে মাথার উপর। ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও ভয়-ভীতি দেখানোর রাজনীতি করে চলেছেন। ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় হাউজ ও সিনেট কনফারেন্স কমিটি কোন সমাধান দিতে না পারলে তিনি জাতীয় ইমারজেন্সি ঘোষণা করবেন। তবে বর্তমান পর্যায়ে তিনি তা করতে পারেন না। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, দেয়াল নির্মাণের অর্থ দেয়া কিংবা সীমান্ত নিরাপত্তা আরো জোরদার ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে কি সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব? আমেরিকার ইতিহাসে ৩৫ দিনের দীর্ঘতম সরকার বন্ধকরণ এর ঘটনা ফেডারেল কর্মচারীদের দুঃখ বিগ্রহের প্রতি আমেরিকার নজরকে আরও শানিত করেছে। কিন্তু তারও চাইতে বেশি দুঃসংবাদ সামনে আপেক্ষা করেছে বলে অনেকে মনে করেন। চলতি সপ্তাহে টাইম ম্যাগাজিন এনিয়ে একটি মতামতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। এই মতামতের মূলে রয়েছেন তিনজন প্রাক্তন ফেডারেল সরকারের কর্মকর্তা যারা উচ্চ পর্যায়ে কাজ করেছেন অথচ কোন দলের লেজুড় নন। মলি জান, গ্রেগরী ট্রেবারইন ও ডেভিড এই তিনজন যে মতামত দিয়েছেন তা প্রণিধানযোগ্য। তারা বলেন, এমন কিছু ঘটছে যা আরও খারাপ এবং আরও মৌলিক ঘটনার প্র¯্রবন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দেখা যাচ্ছে এই কর্মবাহিনী দিনের পর দিন নিজেদের পিঠে বোঝা ছেপে নিয়েছে। আর তাতে ক্রমাগত দেশ এমন এক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে যা দেশের অধিকাংশ নাগরিক বুঝতেও অক্ষম।
দুই দশক ধরে ফেডারেল ব্যক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে এবং শাটডাউনের পূর্বে কর্মচারীদের সাথে থাকা ফোকাস গ্রুপের সাক্ষাৎকার নিয়ে এই বিশেষজ্ঞ দল অনুসিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, আমেরিকান সরকার কোন বৃহত্তর জাতীয় সংকট দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করতে সক্ষম নয়। অথবা দেশের অভ্যন্তরে কিংবা বিদেশে একাধিক কোন জরুরি সমস্যা সৃষ্টি হলে তা নিরসনেও একযোগে যথার্থ মোকাবেলায়ও সক্ষম নয়।
অদলীয় সিনিয়র নির্বাহী এসোসিয়েশন এনিয়ে তাদের ফাইন্ডিং প্রকাশ করেছে। আর এই অনুসন্ধান আমেরিকার জনমনে সৃষ্টি করেছে এক গভীর উদ্বেগ। আপনি চিন্তা করতে পারেন ফেডারেল সরকার ছোট না বড় হওয়া প্রয়োজন? কিন্তু সেক্ষেত্রে রিপোর্টে ভাবা হয়েছে জরুরি অবস্থার সময় এই ফেডারেল সরকার কার্যকরী কিনা? ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যাপক বন ফায়ার এর পর আমেরিকা মেক্সিকো উপকূলে হারিকেনের আঘাতে বন্যা ও ভূমিধস সৃষ্টির করুণ অবস্থা মোকাবিলা কতটা জরুরি তা দেখা দরকার। একইভাবে নর্থ কোরিয়ার আণবিক বোমা নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের আণবিক বোমা তৈরির পরিকল্পনা একই সময়ে মোকাবেলা কতটুকু কার্যকরীভাবে করা যাবে তা বোঝা কষ্টকর। এই দুই দশার যথাযথ মূল্যায়ন করতে বর্তমান ফেডারেল কর্মীবাহিনী যথেষ্ট পরিমাণে অপারগ।
ফেডারেল কর্মী বাহিনীর ক্রমাগত দুরবস্থা একদিনে সৃষ্টি হয়নি। গত ৬০ বছর আমেরিকার জনসংখ্যা বেড়েছে ৮১ শতাংশ। তা আমেরিকার সিভিল সার্ভেন্টের সেবা করা, সহায়তা দেয়া ও রক্ষা করা দুঃসাধ্য। তারপরও দেখা যায় জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সিভিল সার্ভেন্ট বাড়েনি। ১৯৫০ সালে বেসরকারি ওয়ার্ক ফোর্স ছিল ১.৮ মিলিয়ন, আর ২০১৭ সালে তা বেড়ে হয়েছে মাত্র ২.১ মিলিয়ন বেসরকারি কর্মকর্তা।
স্টাফ ও নাগরিক অনুপাত যেখানে কমেছে সেখানে বাজেট ও কর্মসূচি বৃদ্ধি পেয়েছে। কংগ্রেস বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। সাম্প্রতিক ওয়ার্কফোর্স স্টাডি দেখিয়েছে যে, ১৫ বছর আগে স্টাফ যে পরিমাণ কাজ করতো বর্তমানে সে স্টাফ কাজ করছেন ৫২ শতাংশ বেশি। সিনেট সম্পূরক স্টাফদের একই সময়ে ৩০ শতাংশ কাজ বেড়েছে। ফেডারেল সরকারকে যথাযথ স্টাফ দিয়ে প্রয়োজনীয় শক্তিশালী না করতে পারায় তাদের রাজনীতিবিদরা দূরে রাখতে চায়। যেহেতু কংগ্রেস প্রত্যেক অর্থবছরে ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পূরকে সক্ষম নয়, তারা ব্যয় দক্ষতা বাড়াতে ও কার্যকর ফল দিতে অপারগ। এই সমস্যা সংকুল আস্থা কোন একটি রাজনৈতিক দলের শাসনামলে ঘটেনি। দেখা যায় রিপাবলিকান প্রশাসনের সময় সরকার অনেক বেশি দূর বিস্তৃত হয়েছে। কিন্তু ক্লিন্টনের প্রশাসনেও একই অবস্থা দেখা যায়। এই সমস্যা ট্রাম্পের প্রশাসনের সময় সবচেয়ে খারাপভাবে বিস্তৃত হয়েছে। সিনিয়র লেবেলে অভূতপূর্ব হারে স্টাফ দেয়া হয়েছে। ২০০৯ সালে কেবিনেট লেবেলে যে স্টাফ বিদায় নিয়েছিল ২০১৭ সালে তার চেয়ে দ্বিগুণ বেশি স্টাফ বিদায় নিয়েছে। ২০০৯ সাল ওবামার শাসনামলের ১ম বছর এই সমস্যা সিনিয়র নির্বাহী শাখায় বিভিন্ন পজিশনের শূন্যতা পূরণের ব্যর্থতাকে প্রকাশ করেছে।
ফেডারেল কর্মকর্তা কর্মচারীরা বলেন, তারা মান্ধাতা আমলের প্রক্রিয়াধীনে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জারিমানা গুনেছেন। অতি পুরোনো ধরনের পদক্ষেপে তা করার জন্য তাদের জরিমানা দিতে হয়েছে কিন্তু তাদের উৎসাহের জন্য তা দিতে রাজি নয়। সিনিয়র ক্যারিয়ার সিভিল সার্ভেন্টদের রাজনৈতিক নিয়োগ প্রাপ্তিরা ভুল বোঝান অনেক বিষয়ে। যে সব প্রশাসনিক কর্মকর্তা কোন সরকারের আমলে কাজ করলে অন্য প্রশাসন তাদের প্রান্তিকতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। আর সরকারি কর্মকর্তারা যখন নতুন সমস্যায় পড়ে তখনই এসব কিছু ঘটে। সাইবার আক্রমণ সরকারের দক্ষতাকে হ্রাস করতে পারে। আর তার মধ্যে ভোটের মেশিন থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক গ্রিড কিংবা জাতীয় সিকিউরিটি এজেন্সির কাজের হাতিয়ার পর্যন্ত রয়েছে। যেমন ২০১৭ সালে ওয়ান্নাক্রাই রেনসম আক্রমণও অন্তর্ভুক্ত। এসবের সঙ্গে রয়েছে ভুল তথ্য প্রচার করার মতো কাজ। বিশেষ করে সম্ভাব্য ক্ষেত্রে বিদেশি সরকারের দ্বারা সংঘটিত। আর তা সম্ভাব্য ক্ষেত্রে জনগণের ক্ষমতায়ন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
আমেরিকায় প্রজাতন্ত্রের স্বার্থে তাই আজ সবচেয়ে প্রয়োজন সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানো। ২০ বছর আগে অন্তত যতটুকু দক্ষ ছিল সরকারি ছক, অন্তত ততটুকুতে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সেক্ষেত্রে আজ তাকে আরও দুর্বল করেছে বিভিন্ন সমস্যা। আমেরিকাকে ২১ শতাব্দীর উপযোগী করতে এবং এর অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা ও জনসম্পদ রক্ষার ব্যবস্থা নেয়ার যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া জনস্বার্থে অত্যন্ত প্রয়োজন।
চিন্তার এই সম্প্রসারণ আজ আমেরিকাকে তাড়িত করছে। তাড়িত করছে প্রশাসনের কর্মীদের ফুড ব্যাঙ্কে লাইন কেন ধরতে হয়? তাড়িত করছে ফেডারেল কর্মীদের সমবেদনাহীন কর্মজীবনের কাহিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here