অবৈধদের জন্য ড্রাইভার লাইসেন্স ছাত্ররা পাবে স্টেট ফান্ড ও স্কলারশিপ

নিউইয়র্কে ড্রিম অ্যাক্ট পাস

8

ঠিকানা রিপোর্ট : নিউইয়র্কে কাগজপত্রহীন ছাত্রদের সাহায্যার্থে ড্রিম অ্যাক্ট অনুমোদন করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবৈধ ছাত্রদের বিরুদ্ধে জেহাদী মনোভাবের তিরস্কার করার মধ্য দিয়ে এই ড্রিম অ্যাক্ট পাস করা হয়েছে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে। গত এক দশক নিউইয়র্কের স্টেট সিনেট ডেমক্রেটদের হাত ছাড়া ছিল। বিগত নির্বাচনে এই সিনেট এখন ডেমক্রেটদের দখলে আসার পর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে, ইমিগ্রেশন বান্ধব এই বিল পাস করে উচ্চ শিক্ষার জন্য স্টেট ফিন্যান্সিয়াল এইড ও উচ্চ শিক্ষার জন্য স্কলারশিপ প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয় কাগজপত্রহীন ছাত্রদের জন্য।
গভর্নর এন্ড্রু কুমো এই বিলে সই করে তা আইনে পরিণত করবেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ফেডারেল ইমিগ্রেশন নীতির বিপরীতে ডেমক্রেট অধ্যুষিত সিনেটে ক্রমাগতভাবে ইমিগ্র্যান্টদের লেবেল প্রটেকশন দেয়ার জন্য ড্রিম হচ্ছে সর্বশেষ উদ্যোগ। এই উদ্যোগ ডেমক্রেটিক পার্টির ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট প্রাইমারিতেও বিশেষ প্রভাব ফেলবে। যে সব প্রতিদ্বন্দ্বী লিবারেল কর্মীদের আকৃষ্ট করতে চান তাদের ক্ষেত্রে এসব ইস্যু সমর্থন করলে তা ভালো ভূমিকা পালন করবে।
গত নভেম্বর মাসে স্টেট সিনেট গত এক দশক পর ডেমক্রেটদের দখলে আসলে সেখানে ইমিগ্র্যান্ট সমস্যা প্রধান লেজিসলেটিভ হিসেবে পরিণত হয়। এই ইস্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে অবৈধদের জন্য স্টেট ড্রাইভার লাইসেন্স দেয়া ও অনেক ক্ষেত্রে কতিপয় মিসডেমিনার অপরাধের জন্য জেলের মেয়াদ কমিয়ে তাদের ডিপোর্টেশন যোগ্য অপরাধের সংখ্যা কমানো।
কুইন্সের এসেম্বলি মহিলা সদস্য ক্যাটালিনা ক্রুজ বলেন, ড্রিম অ্যাক্ট করতে এক দশক নিয়েছে আর ওয়াশিংটনের রাজনীতি আমাদের পরিবার ধ্বংস করার জন্য যে সব ব্যবস্থা নিয়েছে, তা বাতিল করতে আরও ৫, ১০ ও ২০ বছর সময় নিতে পারে। ক্যাটালিনা ক্রুজ কলম্বিয়ায় জন্ম নিয়ে অবৈধ শিশু হিসেবে নিউইয়র্কে এসেছিলেন।
নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন ও অন্যান্য ইমিগ্র্যান্ট বান্ধব সংগঠনগুলো এই বিল পাস হওয়ার পর আইন প্রণেতাদের আরও বড় ধরনের আইন প্রণয়ের দিকে নজর দেয়ার কথা বলেন। তার মধ্যে রয়েছে, ইমিগ্র্যান্টদের জন্য লিগ্যাল সার্ভিস ও হেলথ কেয়ার।
আইন প্রণেতারা বলেন, এসব প্রয়োজনীয় কাজ বলে প্রতীয়মান হবে এবং দক্ষিণ সীমান্তের দেয়াল নির্মাণ নিয়ে চলতি বিতন্ডার ওপর প্রভাব ফেলবে।
নিউইয়র্কের ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ল’ এর মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের পরিচালক মুজাফফর চিশতি বলেন, ট্রাম্প যখন ইমিগ্রেশনকে তার নির্বাচনের কেন্দ্রীয় থিমে পরিণত করেছেন, তখন স্টেট লেবেলে ইমিগ্রেশনকে আরও প্রমিনেন্ট ইস্যুতে পরিণত করেছে।
নিউইয়র্ক স্টেট ইয়ুথ লিডারশিপ কাউন্সিল ও নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি ল’ স্কুলের ইমিগ্র্যান্ট রাইটস ক্লিনিকের এক বিশ্লেষণে বলা হয়, নিউইয়র্ক বিল পাস হওয়ায় তা ১৪৬,০০০ যুবক যারা পাবলিক স্কুল থেকে পাস করে ফিন্যান্সিয়াল এইড না পাওয়ায় কলেজে লেখাপড়া করতে পারেনি তাদের সহায়তার জন্য সুযোগ এনে দেবে।
ডেমক্রেটিক স্টেট সিনেটর লুইস সেপুলভেদা বলেন, এই ইয়ং কাগজপত্রবিহীন ইমিগ্র্যান্টরা কাজ করবে এবং কর প্রদান করবে। তারা পণ্যদ্রব্য কিনবে এবং যত বেশি তারা আয় করবে তত বেশি তারা কর দিতে পারবে।
কিন্তু অনেক রিপাবলিকান বলেছেন, এই ব্যবস্থা বৈধ রেসিডেন্টদের জন্য প্রদত্ত অর্থ কর্তন হবে এবং করদাতাদের অর্থ ব্যয় হবে। রিপাবলিকান স্টেট সিনেটর জেমস সিওয়ার্ড বলেন, কীভাবে তিনি তার এলাকায় লোকদের বলবেন- যে ফান্ড তাদের জন্য আসছে না তা অবৈধদের দেয়া হচ্ছে।
এই অবৈধ ছাত্রদের আর্থিক সহায়তার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত স্টেট সিনেটে আটকে ছিল। আর এখন গভর্নর কুমো আইন প্রণেতাদের সাথে বসে তা পাস করানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।
গত সপ্তাহের ২২ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট কুমো মহিলাদের প্রজনন স্বাস্থ্য আইন পাস করে গর্ভপাতের অধিকার সম্প্রসারণ করেন। ১৯৭০ সাল থেকে নিউইয়র্কের গর্ভপাত আইন আধুনিক করা হয়। অর্থাৎ রু ও ওয়েড মামলার তিন বছর পূর্ব থেকেই তার কোন পরিবর্তন হয়নি। এই ব্যবস্থা গর্ভপাত নিয়ন্ত্রণ পেনাল কোড থেকে স্বাস্থ্য কোডে নেয়া হয় এবং প্রজননকে স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা হয়, এখন তা আর অপরাধ নয়। স্টেট ড্রিম অ্যাক্ট পাস করে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, নিউ মেক্সিকো, ওয়াশিংটন, ওরিগণ ও সিনেমোটার সাথে একীভূত হলো। এই স্টেটগুলোতে কাগজপত্রহীন ছাত্রদের বহু আগে থেকেই স্টেট ফান্ডের ফিন্যান্সিয়াল সহায়তা দেয়া হয়। প্রায় এক ডজন স্টেটে অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের ড্রাইভার লাইসেন্স দেয়া হয়। তিনটি স্টেট মাত্র স্টেট টিউশন রেটে অবৈধদের সুযোগ লাভ আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর দুই স্টেট আলাবামা ও সাউথ ক্যারোলিনার সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশনের পর কোন সরকারি ইনস্টিটিউশনে তাদের জন্য ভর্তি নিষেধ করা হয়।
ড্রিম অ্যাক্ট করে ডেমক্রেট পার্টি বাম পথে সরে আসলো। অথচ এক সময় ডেমক্রেটরা ভয়ে ভয়ে ড্রিম অ্যাক্ট নিয়ে কথা বলতেভ। নিউইয়র্কের সিনেটর কার্স্টটেন জিলিব্রান্ড ইমিগ্রেশনের বিরুদ্ধে কট্টর ছিলেন। এখন তিনি অনেক উদার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here