প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন ‘ট্যাক্স কাট ও জব অ্যাক্ট’ প্রসঙ্গে

231

মোহাম্মদ এন মজুমদার

২০১৮ সালের ট্যাক্স ফাইলিং গত ২৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। এবারকার ট্যাক্স রিটার্ন অনেকটা ভিন্নধর্মী, নতুন ও সংক্ষিপ্ত হবে। এতে চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট, করপোরেট ট্যাক্স, স্টেট ট্যাক্স, গেইন ট্যাক্স, মেডিকেল এক্সপেন্স, মুভিং এক্সপেন্স, স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন, স্টুডেন্ট লোনসহ বহু পরিবর্তন এসেছে।
উদাহরণ-১ : চ্যান্ডার্ড ডিডাকশনের ক্ষেত্রে অংকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পুরানো আইন অনুসারে, যেখানে বিবাহিত পরিবারের জন্য ১২ হাজার ৭০০ ডিডাকশন ছিল, এ বছর তা ২৪ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে।
উদাহরণ-২ : ইতিপূর্বেকার প্রচলিত মুভিং এক্সপেন্স বিলুপ্ত করা হয়েছে। শুধুমাত্র প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যারা মুভ্্ড হবেন, তারাই ডিডাকশন পাবেন।
উদাহরণ-৩ : জব রিলেটেড তথা কাজের ক্ষেত্রে ব্যয়কৃত অর্থ ডিডাকশন করা যাবে না। এ আইন ২০২৫ সাল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
উদাহরণ-৪ : ইতিপূর্বেকার চাইল্ড ট্যাক্সের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে এবং ১ হাজার ৪০০ ডলার পর্যন্ত রিফান্ডেবল ক্রেডিট নেয়া যাবে। এ আইনটি গরীব ও গণমানুষের জন্য একটি চমৎকার সংযোজন। এ আইন ২০২৫ সাল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। উল্লেখ্য, যাদের আয় দুই লক্ষ ডলারের নিচে, কেবলমাত্র তারাই চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট পাবেন।
উদাহরণ-৫ : ওবামা কেয়ারের আওতায় ইন্সুরেন্স না করার জন্য যে জরিমানার প্রথা ছিল, তা ১ জানুয়ারি ২০১৯ সাল থেকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
উদাহরণ-৬ : ট্যাক্সের ভার কমানো এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে উৎসাহব্যঞ্জক ৫২৯ প্ল্যানে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। ইতিপূর্বেকার আইন অনুযায়ী শুধুমাত্র উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য ব্যয়কৃত অর্থই ট্যাক্স ডিডাকশন করা যেতো। জানুয়ারি ২০১৮ থেকে প্রাইভেট স্কুলে প্রি-কে থেকে ১২ ক্লাশ পর্যন্ত প্রাইভেট স্কুলে অধ্যয়নের খরচও ট্যাক্স ডিডাকশনের আওতায় আনা যাবে। উল্লেখ্য, এ আইনটি ধনী পরিবারের জন্যই সুখবর বয়ে আনবে।
উদাহরণ-৭ : আলামনি অথবা স্ত্রীর ভরপোষণের জন্য দেয়া ইতিপূর্বে দেয় অর্থ ইতিপূর্বে একদিকে দাতা যেমন ট্যাক্স ডিডাকশন করতে পারতেন, অন্যদিকে গ্রহীতাও একে আয় হিসাবে গণ্য করতেন। বর্তমান আইন অনুসারে ভরণপোষণ ট্যাক্স আওতা বহির্ভূত করা হয়েছে। এ আইন গত ১ জানুয়ারি ২০১৯ সাল থেকে কার্যকরী হয়েছে।
উদাহরণ-৮ : ইতিপূর্বেকার আইন অনুযায়ী মৃত্যু অথবা পঙ্গুত্বের কারণে যে সমস্ত স্টুডেন্ট লোন মওকুফ পাওয়া যেতো, সেগুলোকে আয় হিসাবে গণ্য করা হতো। বর্তমান আইনে উক্ত আয়কে ট্যাক্সের আওতা বহির্ভূত করা হয়েছে।
উদাহরণ-৯ : এস্টেট ট্যাক্স বা পারিবারিক সম্পদের ট্যাক্স ইতিপূর্বে ৫ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলারের অধিক যাদের সম্পদ ছিলো, তারাই এস্টেট ট্যাক্স দিতে হতো। বর্তমান আইন অনুযায়ী যাদের সম্পদের পরিমাণ ১১ দশমিক ২০ ডলারের উর্ধ্বে, তাদেরই এ ট্যাক্স দিতে হবে। এ আইন বর্তমানের বলবৎ এবং এর ফলে প্রচুর মিলিয়নিয়ার মিলিয়ন-মিলিয়ন ডলার ট্যাক্স প্রদান থেকে অব্যাহতি পাবেন।
মোট কথা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর ঞধী ঈঁঃ ্ ঔড়ন অপঃ-এর কারণে যদিও দরিদ্র জনগোষ্ঠী সামান্য ট্যাক্স বেনিফিট পাবেন, তবে আমেরিকার ধনিক শ্রেণিই মূলত নতুন আইনের আওতায় লক্ষ লক্ষ ডলার ট্যাক্স বেনিফিট পেয়ে যাবেন।
লেখক পরিচিতি : এই প্রবন্ধটির লেখক মোহাম্মদ এন মজুমদার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং নিউইয়র্কস্থ টরো ল সেন্টার থেকে আইনে এলএলএম ডিগ্রিধারী, তিনি নিউইয়র্কস্থ একটি ল ফার্মে ১৯৯৯ সাল থেকে কর্মরত আছেন। এ ছাড়াও তিনি নিউইয়র্কের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকা-ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি ব্রঙ্কস প্লানিং বোর্ড-৯ এর সদস্য ফাস্ট ভাইস চেয়ারম্যান এবং ল্যান্ড এন্ড জোনিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ১৯১০ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উপরোক্ত লিখাটি লেখকের সুদীর্ঘকালের ল ফার্মে কর্ম অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ল স্কুলের শিক্ষা থেকেই লিখা। এটিকে লিগ্যাল এডভাইজ হিসেবে গ্রহণ না করে আপনাদের নিজ নিজ আইনজীবীর সহযোগিতা নিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here