উপজেলা নির্বাচনে বিএনপিকে শিকারের চেষ্টা

চ্যালেঞ্জের মুখে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড

60

বিশেষ প্রতিনিধি : আসন্ন উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দলে-জোটে ধারণাতীত যন্ত্রণায় পড়েছে সরকার। একদিকে বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের তা বর্জনের ঘোষণায় উপজেলা নির্বাচন একতরফার দিকে এগোচ্ছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দলে তৈরি করেছে গুমোট পরিস্থিতি। বলা হয়েছিল এমপিদের উপজেলায় প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে খবরদারি না করতে। কিন্তু কিছু কিছু এলাকায় এমপিরা তা আরো বেশি করছেন। জেলা-উপজেলা আওয়ামী লীগ প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারিদের অনেকে কেন্দ্রে এ-সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাঠিয়েছেন। সংখ্যায় এ রকম এমপি প্রায় ২০০।
সরকারের শীর্ষ মহলের আরেকটি কৌশল ছিল, বিএনপির কিছু স্থানীয় নেতাকে স্বতন্ত্র হিসেবে জিতিয়ে আনার। কোথাও কোথাও আওয়ামী লীগের এমপি, কোথাও কোথাও স্থানীয় নেতারা তা হতে দিতে নারাজ। তাদের অনেকে এরই মধ্যে মনোনয়ন-বাণিজ্য শুরু করেছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেন্দ্রে প্রতি উপজেলায় তৃণমূলের তিনজনের নাম পাঠানো হয়েছে। কোনো কোনো উপজেলায় তিনজনের সঙ্গেই করা হয়েছে এই বাণিজ্য। প্রাপ্ত অভিযোগগুলো সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সূত্র জানায়, উপজেলা চেয়ারম্যানের মনোনয়নের জন্য তৃণমূল থেকে আসা এই তালিকায় শেষ পর্যন্ত ব্যাপক কাটছাঁট হতে পারে। তালিকার বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থিতার দুয়ার খুলে দেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে একক প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা থেকে সরে আসতে হবে। যদিও আগে বলা হয়েছিল, কেউ স্বতন্ত্র হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের নিবন্ধিত দলগুলোকে আলাদাভাবে ভোট করতে বলা হয়েছে। মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিকেও বলা হয়েছে আলাদা ভোট করতে। নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দেখাতেই নেওয়া হয় এমন কৌশল। এ ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করার আয়োজন উপজেলা নির্বাচনকে সংঘাতপূর্ণ করে তুলে কি না, সেই দুশ্চিন্তা ভর করেছে সরকারের হাইকমান্ডকে। শুরুতে এমন ধারণা করা হয়নি।
বিএনপি সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে উপজেলা নির্বাচনে না যাওয়ার। তারা নিশ্চিত, উপজেলায়ও ৩০ ডিসেম্বর ধাঁচের নির্বাচনই হবে। বাম দল ও জোটের মনমর্জিও তা-ই। চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলনেরও একই প্রতিক্রিয়া। বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের কাছাকাছি থাকা চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, শতভাগ প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও তারা সিটি, উপজেলা বা পৌরসভা কোনো নির্বাচনেই যাবেন না। কারণ হিসেবে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা ও কাজে মিল না থাকায় উপজেলা নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত তাদের।
এদিকে উপজেলা নির্বাচনের ধরন নিয়ে শঙ্কিত সরকারের নির্বাচনী পার্টনার ১৪ দলও। ২০১৫ সালের পৌরসভা ও ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মুরব্বি দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা তাদের লজ্জাজনকভাবে বঞ্চিত করেছেন। বিএনপিসহ অন্য দলগুলোর অনুপস্থিতিতে এবার আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংঘাত বেশি হয় কি না, এ নিয়েও শঙ্কা আছে শরিকদের। এ ছাড়া জোটগতভাবে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরও এবার ১৪ দলের শরিক দলের কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। নির্বাচনের পর ১৪ দলের আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠকও হয়নি। আওয়ামী লীগের বিজয় উদ্্যাপন অনুষ্ঠানেও ১৪ দলের আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ ছিল না। গোটা পরিস্থিতিটা শরিকদের জন্য বিব্রতকর। মুখ খুলে কিছু বলতেও পারছে না তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here