জমতে শুরু করেছে বইমেলা পছন্দের শীর্ষে উপন্যাস

4

রাজধানী ডেস্ক : বাড়ছে বই, বাড়ছে ক্রেতা। জমতে শুরু করেছে বইমেলা। গত দুই দিনের তুলনায় গত ৩ ফেব্রুয়ারি বইমেলার চিত্র ছিল ভিন্ন। মেলায় দল বেঁধে বইপ্রেমীদের প্রবেশ বলে দিয়েছিল কেমন হবে বিকেলের বইমেলা। সন্ধ্যার আগেই মেলার সোহরাওয়ার্দী প্রাঙ্গণ অনেকটা লোকারণ্য হয়ে গিয়েছিল। অন্য দিকে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তেমন সমাগম ছিল না। কারণ সেখানে বেশির ভাগ সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্টল থাকায় মেলায় আগতদের বেশির ভাগ ছিলেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানমুখী।

বই বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত তিন দিনে যারা বই কিনতে এসেছেন তাদের মধ্যে উপন্যাসের ক্রেতাই বেশি। এর মধ্যে হুমায়ূন আহমেদ, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ইমদাদুল হক মিলন ও আনিসুল হকের বইয়ের পাঠকই বেশি।

নবদূত বইঘরের বিক্রেতা সুজন জানান, তাদের স্টলে হুমায়ূন আহমেদ, মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও ইমদাদুল হক মিলনের বইয়ের ক্রেতাই বেশি। এর বাইরে শিশুদের বইয়ের ক্রেতাও কম নয়।

পাঠক সমাবেশের মামুন জানান, এবারের মেলায় তাদের যত বই প্রকাশ হয়েছে তার মধ্যে অনুবাদ ‘প্লেটো’ বেশি বিক্রি হয়েছে। সময় প্রকাশনের তমাল জানান, এবারে তারা বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, প্রবন্ধ ও গবেষণা বিষয়ে একাধিক বই প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ‘নির্বাচন ও প্রশাসন’। মুনতাসীর মামুনের ‘ভিন দেশীদের মুক্তিযুদ্ধ’ ও আসাদুজ্জামান নূরসহ অনেক লেখকের বই রয়েছে। তবে অপাতত তাদের স্টলে হুমায়ূন আহমেদ ও জাফর ইকবালের বইয়ের ক্রেতা বেশি।

এ ছাড়া প্রকাশ হয়েছে ‘আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ৫টি বিশ্বসেরা গল্প’, অনন্যা প্রকাশনের ‘রাষ্ট্র সমাজ ও অপরাধ চিন্তা’, লেখক নজরুল হোসেন বুলবুল ও মুক্তধারা প্রকাশন থেকে প্রকাশ হয়েছে বাংলাদেশ লেখক শিবিরের বই ‘বাংলাদেশের সামাজিক অগ্রগতির সমস্যা’।

প্রথমা প্রকাশনের মোহাম্মদ ইউনূস জানান, তাদের অনেক বই এলেও আজিজুর রহমানের ‘আমার সমাজতন্ত্র’ বই ভালো চলছে। কাকলী প্রকাশনীর রেজাউল করীম জানান, তাদের প্রকাশনীতে আনিসুল হক ও সুমন্ত আসলামের নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। তবে উপন্যাসের চাহিদা বেশি। এর মধ্যে হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস ‘মিছির আলী’ ও ‘হিমু’ বেশি চলছে। এ ছাড়া পাঞ্জেরি পাবলিকেশন্সের রুবি আক্তার জানান, তাদের স্টলে শিশুদের বইয়ের চাহিদা বেশি।

উৎস প্রকাশনের সুমাইয়া ইসলাম জানান, তাদের স্টলে ভ্রমণ, সাহিত্যের ক্রেতা বেশি। আগন্তুকের নিলয় জানান, শিশুদের বই, ধাঁধা এসবের ক্রেতা বেশি। গত ৩ ফেব্রæয়ারি তৃতীয় দিনে বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলে। এর মধ্যে বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের সুবর্ণজয়ন্তী’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুছ। আলোচনায় অংশ নেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, নাসির উদ্দীন ইউসুফ ও অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

আলোচকেরা বলেন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদের স্বপ্ন আজো পূরণ হয়নি। এই অভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ সঙ্কেত। সব শ্রেণিপেশার মানুষ আর্থসামাজিক-রাজনীতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির স্বপ্নে ৫০ বছর আগে পাকিস্তানি রাষ্ট্রকাঠামো ও সামরিকতন্ত্রের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছিল। আজ গণ-অভ্যুত্থানের সুবর্ণজয়ন্তী এবং স্বাধীনতার আসন্ন সুবর্ণজয়ন্তীর পরিপ্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে মানুষের সে স্বপ্ন পূরণের দিন এসেছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ক্ষুধা-দারিদ্র্য ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে গণ-অভ্যুত্থানের সুবর্ণজয়ন্তীতে এ আমাদের দৃঢ় প্রত্যাশা।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি রবিউল হুসাইন এবং আলতাফ হোসেন। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী সৈয়দ হাসান ইমাম ও ঝর্ণা সরকার। সঙ্গীত পরিবেশন করেন ফাহিম হোসেন চৌধুরী, সাজেদ আকবর, সালমা আকবর, আবদুর রশিদ ও নূসরাত বিনতে নূর। যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন সুবীর চন্দ্র ঘোষ (তবলা), সুনীল কুমার সরকার (কী-বোর্ড), নাজমুল আলম খান (মন্দিরা) ও অসিত বিশ্বাস (এসরাজ)। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের সাহিত্যকর্ম বিষয়ে আলাপনে অংশ নেন আবুল কাশেম, দিলদার হোসেন, শামীম রেজা, অদিতি ফাল্গুনী ও কৌস্তুভ শ্রী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাহবুবা রহমান। গত ৩ ফেব্রæয়ারি মেলায় নতুন বই এসেছে ১৩৮টি। এর মধ্যে গল্প ২০, উপন্যাস ২০, প্রবন্ধ ১৫, কবিতা ২০, গবেষণা ৪, ছড়া ৮, শিশুসাহিত্য ১০, জীবনী ৬, মুক্তিযুদ্ধ ৬, বিজ্ঞান ২, ভ্রমণ ৩, ইতিহাস ৫, রাজনীতি ৩, চিকিৎসা/স্বাস্থ্য ৩, রম্য/ধাঁধা ১, অনুবাদ ২, সায়েন্স ফিকশন ২ ও অন্যান্য ৮।

গত ৪ ফেব্রæয়ারি অনুষ্ঠান অমর একুশে গ্রন্থমেলার চতুর্থ দিনে মেলা চলবে বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি অর্জনের সুবর্ণজয়ন্তী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন নূহ-উল-আলম লেনিন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সুভাষ সিংহ রায়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তোফায়েল আহমেদ এমপি। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here