আত্মসমর্পণের আগেই সম্পত্তি বিক্রির চেষ্টা

3

কক্সবাজার : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক কারবারি টেকনাফের নুর মোহাম্মদ চলতি মাসের শুরুতে ইয়াবাসহ আটকের পর এখন পুলিশ হেফাজতে আছেন; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাড়া খেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা আছেন আত্মগোপনে। কিন্তু টেকনাফের নাজিরপাড়ায় প্রায় ৪০ শতক জমির ওপর তৈরি তার দোতলা আলিশান বাড়ি বিক্রির চেষ্টা থেমে নেই।

গত দুই দিন সরেজমিনে ঘুরে নুর মোহাম্মদের মতোই তালিকাভুক্ত একাধিক মাদক কারবারির সম্পত্তি বিক্রির চেষ্টা চলছে বলে তাদের স্বজনরা জানিয়েছেন। তবে মাদক কারবারিরা যাতে তাদের সম্পত্তি বিক্রি করতে না পারেন, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে বলে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারিদের সম্পত্তি তদন্তের পর বাজেয়াপ্ত করতে পুলিশসহ একাধিক সংস্থাও তৎপর রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মাদক কারবারিদের সহায়-সম্পত্তি বিক্রি করে দেওয়ার পাঁয়তারার তথ্য আমরা পেয়েছি। আমরা বিষয়টি নজরদারির মধ্যে রেখেছি। আমরা চাইছি মাদক কারবারিদের সম্পত্তিগুলো তদন্তের পর বাজেয়াপ্ত করতে। দুদক ও এনবিআরসহ কয়েকটি সংস্থাও তদন্ত করতে চাইছে। ইতোমধ্যে সিআইডি টেকনাফের ইয়াবা কারবারি নুরুল ইসলাম ভ‚ট্টোর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে আদালতে আবেদন করেছে। আশা করি, পুলিশকে দিয়েই সম্পদের বিষয়টি তদন্ত করাবে।’

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৪-এর ৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধের জন্য দায়েরকৃত কোনো মামলা চলাকালীন অভিযোগকারী যদি এই মর্মে আবেদন করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির মাদকদ্রব্য অপরাধ প্রমাণিত হইলে তাহার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করিবার প্রয়োজন হইবে এবং সেই কারণে তাহার সম্পত্তির বিক্রয়, বন্ধক, হস্তান্তর অথবা অন্য কোনো প্রকার লেনদেন মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ করিবার আদেশ প্রদান প্রয়োজন, তাহা হইলে ম্যাজিস্ট্রেট বা ট্রাইব্যুনাল উভয় পক্ষকে যুক্তিসংগত শুনানির সুযোগ দান করিয়া, প্রয়োজনবোধে, অনুরূপ আদেশ প্রদান করিবে।’

পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত বছর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তালিকায় কক্সবাজার ও টেকনাফে ১ হাজার ১৫১ জন মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা চ‚ড়ান্ত করা হয়। এর মধ্যে ৭৩ জন শীর্ষ মাদক কারবারি বা পৃষ্ঠপোষকের নাম আছে। তালিকার মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিসহ তার পরিবারের ২৬ জন সদস্যের নাম রয়েছে। তা ছাড়া টেকনাফ ও কক্সবাজার অঞ্চলের আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলামের নেতাদেরও নাম আছে। তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের বিপুল সম্পত্তির বিষয়টিও তাদের নজরে আছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে টেকনাফের মাদক কারবারিরা পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন, কেউ কেউ পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন; আবার কেউ ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘গোপনে জমি বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি বিক্রি করতে চায়, তাহলে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে অবশ্যই অনুমতি নিতে হবে। কোনো মাদক কারবারি যদি অনুমতি ছাড়া সহায়-সম্পত্তি বিক্রি করে, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here