মঙ্গলে বিশাল গর্ত মিলতে পারে পানি

3

বিশ্বচরাচর ডেস্ক : বরফে ঢাকা মঙ্গলের দক্ষিণ মেরুতে সম্প্রতি হদিস মিলেছে বিশাল একটি গর্ত বা ক্রেটারের। এতে জল্পনা শুরু হয়েছে, এবার কি তাহলে দেখতে পাওয়া যাবে ‘লাল গ্রহ’ মঙ্গলের অন্দরে বয়ে যাওয়া কোনো পানির স্রোত? বিজ্ঞানীদের ধারণা, মঙ্গলের জন্মের বহু বহু কোটি বছর পর কোনো একটি গ্রহাণু বা অ্যাস্টারয়েডের ধাক্কায় ওই সুবিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে লাল গ্রহের পিঠে। আর মহাজাগতিক সময়ের নিরিখে সেই ঘটনাটা ঘটেছে হালেই। খুব বেশি হলে, গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে।

মঙ্গলের পিঠে বহু গ্রহাণুর আছড়ে পড়ার প্রমাণ এর আগে পাওয়া গেলেও আমাদের প্রতিবেশী গ্রহের দক্ষিণ মেরুতে গ্রহাণুর ধাক্কা মারার ‘পদচিহ্ন’ মিলল এই প্রথম। নাসার উপগ্রহ ‘মার্স রিকনাইস্যান্স অরবিটার’ (এমআরো)-এর আলট্রা-হাইটেক ক্যামেরার চোখেই ধরা পড়েছে মঙ্গলের দক্ষিণ মেরুর গর্তটি। ওই ক্যামেরাটির নাম ‘হাই-রেজোলিউশন ইমেজিং সায়েন্স এক্সপেরিমেন্ট’ (হাইরাইজ)।বিজ্ঞানীদের অনেক দিনের ধারণা, মঙ্গলে এখনও বয়ে চলেছে তরল পানির স্রোত। আর সেই বিশাল নদীটা লম্বায় অন্তত ২০ কিলোমিটার। তা রয়েছে দক্ষিণ মেরুর অত্যন্ত পুরু বরফের স্তরের প্রায় দেড় কিলোমিটার তলায়। কিন্তু লাল গ্রহের দক্ষিণ মেরুর সেই পুুরু বরফের স্তর ফুড়ে সেই নদীকে দেখার কোনো সুযোগই পাননি বিজ্ঞানীরা এত দিন।

‘এই গর্তের হদিস মেলায় এবার সেই সুযোগটা অন্তত এলো’ বলছেন নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে ‘পাথফাইন্ডার মিশন’-এর অন্যতম প্রধান বিজ্ঞানী অমিতাভ ঘোষ। তিনি অবশ্য বলেছেন, এখন দেখতে হবে সেই গর্ত বা ক্রেটারের গভীরতা কতটা। দেখতে হবে সেই গর্তের নিচটার মুখ কতটা খোলা। ওই সব কিছু জানা সম্ভব হলে যন্ত্রের সাহায্যে ভবিষ্যতে হয়তো জানা যাবে, সত্যিই এখনো তরল জলের স্রোত বয়ে চলেছে কি না মঙ্গলের অন্তরে। অমিতাভ বলছেন, হাইরাইজ ক্যামেরার তোলা ছবি জানাচ্ছে বেশ বড়সড় একটা গ্রহাণু জোরে ধাক্কা মেরেছিল দক্ষিণ মেরুতে। ধাক্কাটা জোরালো ছিল বলেই তার জেরে দক্ষিণ মেরুর অত্যন্ত পুরু বরফের তলায় থাকা বালুর স্তরটি বেরিয়ে পড়ছে। আর সেটা ছিটকে সোজা উপরে উঠে এসেছে।

মুম্বাইয়ের ‘টাটা ইনস্টিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ’ (টিআইএফআর)-এর জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের সিনিয়র প্রফেসর দেবেন্দ্র ওঝা বলছেন, গ্রহাণুর চেহারাটা বড়সড় আর তার ধাক্কাটা জোরালো ছিল বলেই বিজ্ঞানীদের অনুমান। ফলে যে গর্তটা হয়েছে মঙ্গলের পিঠে, তার গভীরতা হবে অনেকটাই। আশা করা হচ্ছে, সেই সুগভীর গর্তের নিচের দিকটার মুখটা ঢাকা নেই। সেটিও খোলা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here