আইএনএফ চুক্তি বাতিল: পরমাণু অস্ত্র অত্যাধুনিক করবে যুক্তরাষ্ট্র

7

ঠিকানা ডেস্ক : রাশিয়ার সঙ্গে মাঝাারিপাল্লার পরমাণু শক্তি (ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস-আইএনএফ) চুক্তি ভেঙ্গে যাওয়ার সুযোগে যুক্তরাষ্ট্র এখন নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু করবে। একই সঙ্গে তা দেশটিকে পরমাণু অস্ত্র অত্যাধুনিক করার সুযোগও করে দেবে। গত বছর পরমাণু অস্ত্রের আধুনিকায়নের ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যেই জানিয়েছিল ওয়াশিংটন। ওয়াশিংটনের চুক্তির শর্ত স্থগিত ঘোষণার এক দিন পর রাশিয়া চুক্তিটি বাতিল করে দেওয়ার পর এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

গত ১ ফেব্রæয়ারি শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র আইএনফ চুক্তির বাধ্যবাধকতা স্থগিত এবং ছয় মাসের মধ্যে চুক্তিটি থেকে সরে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ঘোষণা পরদিন শনিবার থেকেই তা কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো জানায়, মার্কিন মিত্ররা এই চুক্তি থেকে সরে আসাকে পুরোপুরি সমর্থন এবং রাশিয়ার ৯এম৭২৯ নামের ভূমি থেকে নিক্ষেপণযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেমটি এই চুক্তির লঙ্ঘন বলে একমত পোষণ করে।

এই ঘোষণার এক দিন পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন পাল্টা ঘোষণা দিয়ে চুক্তিটি থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে বসেন। একই সঙ্গে নতুন ধরনের অস্ত্র তৈরির ঘোষণাও দেন। পুতিন ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তকে একতরফা বলে মন্তব্য করেন।

যুক্তরাষ্ট্র কয়েক বছর ধরেই অভিযোগ করে আসছে, রাশিয়া আইএনএফ চুক্তি লঙ্ঘন করে আসছে। কিন্তু এখন তারা প্রকাশ্যেই বলছে, এই চুক্তি বাতিল তাদের জন্য পরমাণু অস্ত্র আধুনিকায়নের একটি সুযোগ।

গত বছরের ফেব্রæয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র যখন তার নতুন পরমাণু নীতি প্রকাশ করে, তখন সতর্ক করে বলেছিল তারা নতুন দুটি অস্ত্র ক্রয় করার পরিকল্পনা নিয়েছে। অস্ত্র দুটির একটি হচ্ছে সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপণযোগ্য নতুন ধাঁচের কম ক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও নতুন ধাঁচের পরমাণু ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, যা আইএনএফ চুক্তি লঙ্ঘন করবে। পেন্টাগন আরো জানিয়েছিল, এই নতুন ধাঁচের ক্ষেপণাস্ত্র আগামী এক দশকের মধ্যে ব্যবহার উপযোগী হবে। আর এটি মোতায়েন করা হলেই শুধু চুক্তির লঙ্ঘন হবে। পেন্টাগন বরাবরই জোর দিয়ে বলে আসছে যে ১৯৮৭ সালের চুক্তিতে অস্ত্রসংক্রান্ত গবেষণা ও অস্ত্র তৈরির কর্মসূচি নিষিদ্ধ করা হয়নি।

এই প্রেক্ষাপটেই গত ১ ফেব্রæয়ারি শুক্রবার পেন্টাগনের মুখপাত্র জনি মাইকেল বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘অতএব আমরা এখন আর চুক্তিতে আবদ্ধ থাকতে বাধ্য নই।’ ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেটেই নতুন ধরনের মাঝারিপাল্লার ভূমিভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো গবেষণার পর্যায়েই রয়েছি।’

বাস্তবতা হচ্ছে, রাশিয়ার ৯এম৭২০ ক্ষেপণাস্ত্রের জবাব দেওয়ার জন্য পেন্টাগন তখনই প্রস্ততি নিচ্ছিল, যেটিকে মস্কো সর্বোচ্চ ৪৮০ কিলোমিটার পাল্লার বলে দাবি করে আসছে। কিন্তু পেন্টাগনের অভিযোগ, এরই মধ্যে রাশিয়া যে ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে, তা আরো বেশি দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রাচীনতম গবেষণা প্রতিষ্ঠান জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির গবেষক জেফারি প্রাইস মনে করেন, আইএনএফ চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেই ছিল। কারণ এতে ৫০০ থেকে পাঁচ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি নিষিদ্ধ ছিল। টুইটারে সাবেক এই পেন্টাগন কর্মকর্তা আরো বলেন, বরং চুক্তিটি রাশিয়ার জন্য বৈষম্যের বিষয় ছিল। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নৌ ও বিমান বাহিনী। আর চুক্তিতে নৌ ও বিমান বাহিনীর জন্য কোনো বাধা-নিষেধ ছিল না।

স্টিমসন সেন্টারের গবেষক মাইকেল ক্রিপনও মনে করেন, ‘আমরা এখন নতুন পরমানু অস্ত্র প্রযোগিতার দিকে অগ্রসর হয়েছি।’ সূত্র : এএফপি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here