পুড়ে গেল প্রিমিয়ামের ওজনপার্ক শাখা

12


ঠিকানা রিপোর্ট: আগুনে পুড়ে গেছে প্রিমিয়াম সুপার মার্কেটের ওজন পার্ক শাখা। এমনভাবেই পুড়েছে তাতে প্রিমিয়ামের আর কোন কিছুই অবশিষ্ট নেই। সব পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। এই অবস্থায় বেকার হয়ে গেছেন প্রিমিয়ামের ২০জন স্টাফ। সেই সঙ্গে প্রিমিয়ামের মালিক বাবু খানও লোকসানের মুখে পড়তে যাচ্ছেন। ৩ ফেব্রুয়ারি রবিবার রাতে সাড়ে ১০টা থেকে এগারোটার মধ্যে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে প্রিমিয়াম সুপারশপের স্টাফরা সুপারশপের মালিক বাবু খানকে জানান। ফায়ার সার্ভিসের লোকজনকে খবর দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস এর কর্মীবাহিনী আগুন নেভাতে সক্ষম হন।
প্রিমিয়ামের মালিক বাবু খানের কাছে এই ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ঘটনার দিন আধঘন্টা আগেও আমি দোকানে ছিলাম। আধঘন্টা পরেই খবর পাই আগুন লাগার। আসতে না আসতেই পুড়ে যায় দোকান। তিনি জানান, ঘটনাটি নিয়ে এখন তদন্ত চলছে। এই কারণে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কিছু বলতে পারছি না। তবে তার সন্দেহ ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে ও নাশকতার ঘটনা বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, আমি ওজন পার্ক এলাকায় গত বছর প্রিমিয়ামের শাখা খুলি। এরপর সেখানে আমাদের অনেক ক্রেতা তৈরি হয়। এর আগে সেখানে যারা বাস করেন তারা অনেক বেশি দামে পণ্য কিনছিল। এতে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় ছিল অনেক বেশি। কিন্তু আমাদের প্রিমিয়াম চালু হওয়ার পর আমরা অনেক কমদামে ও সাশ্রয়ী মূল্যে ক্রেতাদের পন্য সরবরাহ করতাম। আমাদের এই বিষয়টি হয়তো কেউ কেউ মেনে নিতে পারেনি। তিনি বলেন, এখনও আমি সার্বিক কারণ বলতে পারছি না ঠিক কারা এই অগ্নিকান্ডটি ঘটিয়েছে। তবে ঘটনার তদন্ত চলছে, আশা করছি আগামী সপ্তাহে এই বিষয়ে আপনাদেরকে কিছু বলতে পারবো। তদন্তর পর প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখন কিছু বলতে পারছি না।


তিনি বলেন, প্রিমিয়ামের ওজন পার্কের শাখায় ২০ জনের মতো স্টাফ ছিল। এখন অগ্নিকান্ডে শপটি পুড়ে যাওয়ার কারণে তারা বেকার হয়ে পড়েছেন। আমি চেষ্টা করছি তাদেরকে অন্য শাখায় কর্মসংস্থান করার। কিন্তু একসঙ্গে সবার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রিমিয়ামের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, দোকানে কয়েক মিলিয়ন ডলারের পণ্য ছিল। সবই পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক মিলিয়ন ডলার হতে পারে।
তিনি বলেন, রোববার রাতের ঘটনার পর এত বড় একটি দূর্ঘটনায় আমরা ভীষন আহত হয়েছি। এই কারণে এত দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব কিছু বলতে পারছি না। আপনাদেরকে অনুরোধ করবো আপনারা একটু ধৈর্য্য ধুরন আমরা এই ব্যাপারে সাংবাদিকদের জানাবো। এখন ঘটনার তদন্তের স্বার্থে অনেক কিছুই বলা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, খালি এইটুকু বলবো আমি এত কম মূল্যে মানুষকে খাবার সরবরাহ করছিলাম। এতে করে ওজন পার্কের মানুষের বাজারের খরচ অনেক কমে গিয়েছিল। তারা স্বস্তিতে ছিল। এই কারণে আমার কিছু শত্রু তৈরি হয়েছিল। তারা আমার এত কমমূল্যে জিসিপত্র বিক্রি করার বিষয়টি ভাল ভাবে নিচ্ছিল না।
বাবু খান দাবি করেন, আমি অত্যন্ত সততার সঙ্গে ব্যবসা করে আসছিলাম। কিন্তু এটাই অনেকের সহ্য হচ্ছিল না। এই ঘটনায় প্রিমিয়াম কর্তৃপক্ষ কিংবা তিনি কোন মামলা দায়ের করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা মামলা করিনি। ঘটনার তদন্ত শেষ হলে সরকার থেকেই এই মামলা করা হবে। তিনি বলেন, অত্যন্ত দু:খজনক হলেও পুরো দোকান পুড়ে গেছে, একটি সূতাও নেই।
তিনি আবার ওজন পার্কে প্রিমিয়ামের শাখা খুলছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ওজন পার্কে প্রিমিয়ামের নতুন একটি শাখা করবো। তবে কবে নাগাদ সেটা করতে পারবো এখনই বলতে পারছি না। আমাদের যারা ক্রেতা আছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলবো আপনারা হতাশ হবেন না। আমরা আপনাদের জন্য আবারো আপনাদের জন্য সেবা নিয়ে আসছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here