সিলেট এম সি কলেজের দিনগুলো

199

ড. মাহবুব উদ্দীন চৌধুরী

সিলেটে বাড়ি হলেও বাবার চাকরিসূত্রে রাজধানী শহর ঢাকায় থেকেই স্কুল, কলেজ ও বিশ্ব বিদ্যালয়ের পড়াশুনা সারি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৯ সালে পদার্থবিদ্যায় এম. এসসি. পাশ করে আমার জীবনের প্রথম চাকরি হয় সিলেটে ১৯৬০ সালে। সিলেটের বিখ্যাত সরকারী মুরারীচাঁদ কলেজে, যা এম সি কলেজ নামেই প্রখ্যাত । এম সি কলেজের ছাত্র না হলেও সেখানে কিছুকাল শিক্ষকতা করার সুযোগ হয়েছিল। শিক্ষকতার দিনগুলোতে থাকতাম সিলেট শহরের তৎকালীন অভিজাত এলাকা কুমারপড়ায় আমার নানার বাসায়। সেই পাড়ায় এম সি কলেজের আরও কয় জন অধ্যাপকও থাকতেন। সিলেটে এম সি কলেজের ছোট বড় সব শিক্ষককেই সবাই প্রফেসার সাহেব বলেই সম্বোধন এবং সম্মান করতেন। আমার ভাগ্যেও সেই সম্মান জুটেছিল। শহরের বাইরে এমনকি সিলেটে আমার গ্রামের বাড়িতে গেলেও সবাই প্রফেসার সাহেব বলে সম্বোধন করতেন এবং যথাযথ সম্মানও জানাতেন। বেশ ভালই লাগতো। সিলেটে তৎকালে স্বল্প ভাড়ার রিক্সাই ছিল চলাচলের প্রধান বাহন। চার আনা ভাড়ায় সারা শহর ঘুরে বেড়ানো যেত। আর এম সি কলেজ ছিল শহরের বাইরে, সেখানে যেতে প্রতি ট্রিপে লাগতো ছয় আনা। কলেজ পর্য্যÍ কয়টা বাসও চলাচল করতো। শহর থেকে ছাত্রদের আনা নেয়া সেইসব বাসই করতো। তবে অধিকাংশ ছাত্ররা কলেজের কাছেই কলেজের নিজস্ব ছাত্রাবাসেই থাকতো। অনেক শিক্ষকও থাকতেন কলেজের আশপাশের বাড়িগুলোতে। তারা প্রায়শ হেঁটেই আসতে পারতেন। আমরা যারা শহরে থাকতাম তারা রিক্সাযোগেই যাতায়াত করতাম। রিকশা চালকেরা প্রফেসার সাহেবদের নিয়ে যাওয়ায় নিজেরাই সম্মানিতবোধ করতো। তাদের ভাবসাবে তা বুঝা যেত। অনেকসময় তারা আমাদের জন্য বাসার সামনেই অপেক্ষা করত।
তবে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমন্ডিত সিলেটের প্রচ- বৃষ্টি প্রায়ই বাধ সাধতো। মুষলধারে পড়তে থাকে এক ঘণ্টা দু’ঘণ্টা নয়, দুই চার দিন ধরে। আর স্যাঁৎসেঁতে বৃষ্টি,মাঝে মাঝেই চলতে থাকতো এক সপ্তাহ দু’সপ্তাহ ধরে। তখন চলাফেরাই দায় হত। অবশ্য সিলেটবাসী বৃষ্টিপাত আমলে না নিয়ে ছাতি নিয়ে বেড়িয়ে পড়তেন। ক্লাশে আমাদের প্রায়শ ভেজা অবস্থায় রিকশা চড়ে কলেজে যেতে হত। তবে রিক্সাওয়লারা নিজেরা প্রায় সম্পূর্ণ ভিজে গেলেও আমাদের যতদূর সম্ভব ঢেকে নিয়ে যেত। সেই বৃষ্টিতে আমাদের যতœ সহকারে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের দু’আনা বেশি পারিশ্রমিক দিতাম, আর তাতেই তারা শ্রদ্ধাভরে খুশি হত। সেই সময়ের স্মৃতিমধুর দিনগুলো বলতে গেলে স্বপ্নমুখর পরিবেশে কাটিয়েছি।
সিলেটে এখন বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে ও উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন উন্নতমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। সিলেটের ঐহিত্যবাহী এম সি কলেজ স্থাপিত হয় ১৮৯২ সালে। কলেজটি প্রতিষ্ঠাতা সিলেটের বায়নগরের উদারচেতা রাজা গিরিশ চন্দ্র রায় কলেজটির নাম রাখেন তাঁর মাতামহ মুরারি চাঁন্দের নামে। সিলেটের রাজা গিরিশ চন্দ্র স্কুলের পার্শ্বেই কলেজটির প্রথম ভবন নির্মাণ করা হয়। ১৯০৮ সাল পর্যন্ত রাজা গিরিশ চন্দ্র নিজ অর্থব্যয়ে কলেজটি চালিয়ে যান। ১৯০৮ সালে তাঁর মৃত্যুর পর কলেজটি সরকারি সাহায্যে চলতে থাকে এবং ১৯১২ সাল থেকে কলেজটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন একটি পুরোপুরি সরকারি কলেজের মর্যাদা পায়। ১৯২৫ সালে সিলেট শহরের অদূরে টিলাগড়ের থ্যাকারী হিলে এক অনিন্দ্যসুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে কলেজটি স্থানান্তর করা হয়। আজও কলেজটি সেখানে রয়েছে, তবে নগরায়ণের ছোবলে সেদিনের সেই প্রাকৃতিক বা মানবিক পরিবেশ আজ আর নেই। তবে আধুনিক বিদ্যাপিঠ হিসেবে উচ্চ শিক্ষার জন্য কলেজটি কেবল সিলেটের নয় সারা বাংলাদেেেশর জন্য একটা আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে আজও বিবেচিত হচ্ছে।
চির সবুজ গাছপালায় আচ্ছাদিত উঁচুনিচু পাহাড়ের চূড়া থেকে ঢালু ও সমতল পাদদেশ জুড়ে ছিল কলেজের দালানকোঠা। পাহাড়ের সবচেয়ে উঁচুতে ছিল প্রিন্সিপালের বাড়ি। পুরো বাড়িটাই ছিল গাছপালা পরিবেষ্টিত এক সুন্দর পরিবেশে। প্রিন্সিপালের বাংলোর ঠিক নিচের টিলাতে ছিল কলেজের প্রধান অফিস, প্রিন্সিপালের কক্ষ ও অধ্যাপকদের বসার বড় সড় একটা হল ঘর। প্রিন্সিপালের টিলার মত এই টিলাতেও ছিল সাজানো-গোছানো বাগান ও অসংখ্য গাছপালা, যা সৃষ্টি করেছিল এক ছায়াঘেরা বনানি পরিবেশ। অফিস টিলার সামনে ও প্রিন্সিপালের টিলার নিচে আরকেটি লম্বালম্বি নিচু টিলাতে প্রায় এমাথা-ওমাথা জুড়ে ছড়িয়ে ছিল কলেজের প্রধান দ্বিতল ভবন। ভবনটি নিচের সমতল এলাকা থেকে ছিল কিছুটা উঁচুতে, আর উঠতে হত সুন্দর সিঁড়ি বেয়ে। এই দু’তলা ভবনটিকে বলা হত ‘আর্টস’ বিল্ডিং, যদিও কিছুকিছু বিজ্ঞানের ক্লাস ও ল্যাবরোটারিও সেখানে ছিল।
আমাদের ডিপার্টমেন্ট অর্থাৎ পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ ছিল পাহাড়ের নিচে সমতল এলাকায় লম্বালম্বি করে বানানো ঢেউ টিনের একটা ব্যারাক। সিলেট শিলং রোডের পাশেই কলেজের প্রায় সীমানা বরাবর ছিল ব্যারেকটি । ঢেউ টিনের চালে লাল রং লেপে দেয়ায় দূর থেকে চোখে পড়তো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন আসাম প্যাটার্নের চুনকাম করা দেয়ালের এই ব্যারাকটি। পেছনেই আরেকটি সারিতে ছিল লাল ঢেউ টিনের চাল বিশিষ্ট আরেকটি সমান মাপের সুন্দর ব্যারাক যেটাতে ছিল কেমিস্ট্রি বিভাগ । তবে সামনে থাকায় পদার্থ বিজ্ঞানের আমাদের ব্যারাকটি রাস্তা থেকেই চোখে পড়তো এবং কলেজের গেট দিয়ে ঢুকতেই সামনে সুন্দর বাগান ও ছিমছাম করে রাখা এই দুটি ব্যারাকই কলেজের এক রুচিসম্মত পরিবেশের পরিচয় দিত। কলেজের সামনের গেট দিয়ে ঢুকলেই প্রথম পড়তো এই পদার্থ বিদ্যা বিভাগের এই ব্যারাকটি। আমি এম সি কলেজে পড়ি নি, পড়েছি ঢাকার সিদ্দিক বাজারিস্থিত জরাজীর্ণ পরিবেশের মধ্যে অবস্থিত তৎকালীন ঢাকা কলেজে। তাই এম সি কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের এই বিরল ও সুন্দর পরিবেশ দেখে ঈর্ষান্বিত বোধ করেছি।
সামনের দিকের এই সুন্দর দু’টি ব্যারাক ছাড়াও আর্টস বিল্ডিংয়ের টিলার পূর্ব পাশে সমতল এলাকায় আরো দুটি ঢেউ টিনের ব্যারাক ছিল। একটিতে ছিল লাইব্রেরি ও অন্যটি ছিল হল রুম। শুনেছি লাইব্রেরিতে ছিল লক্ষাধিক বই পুস্তক। বলাবাহুল্য দেশের মধ্যে এটা ছিল একটা শ্রেষ্ঠ পাঠাগার। আর হল রুম ব্যবহার করা হ’ত কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মিলনায়তন হিসাবে ও পরীক্ষার সময় হল রুম হিসাবে। পাশেই ছিল কয়টা ছোট ছোট ক্লাস রুম। যথারীতি উভয় ব্যারাকের সামনেই ছিল সাজানো গোছানো বাগান। এই ব্যারাকগুলোতে খুব আসা যাওয়া লাগতো না। কেবল পরীক্ষা ও কোন সভা এবং অনুষ্ঠান উপলক্ষে মাঝে মাঝে এসেছি। আর যখনই এসেছি গাছপালা ও সুন্দর বাগান ও উন্মুক্ত পরিবেশ দেখে অভিভূত হয়েছি।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এম সি কলেজের হোস্টেলগুলো ছিল আরো ছিমছাম ও সুন্দর। আবার সেই ঢেউ টিনের সুন্দর কয়টি ব্যারাক ও সামনে সুন্দর করে সাজানো গাছপালা পরিবেষ্টিত সুন্দর খোলামেলা আঙিনা। আর সামনে চলে গেছে শাহি ঈদগার দিক থেকে আসা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পাকা রাস্তা। সেই রাস্তার ওপর পাড়ে ছিল কলেজের খেলার মাঠ। সেই রাস্তায় যানবাহন চলাচল প্রায় ছিলই না। আশেপাশে কোন বসতিও ছিল না বললেই চলে। বনজঙ্গলে ঢাকা ২/৪টা বাড়ি ছিল একটা টিলার উপরে। সেখানে ‘করিমুল্লাহ’ হাউস বলে একটা বাড়িতে পরিবার পরিজন ছাড়া যে সকল অধ্যাপক আসতেন তারাই থাকতেন মেস করে। আর আশপাশের আরো কয়টা বাড়িতেও ভাড়াটে হিসাবে থাকতেন পরিবার নিয়ে বসবাসকারি কিছু প্রফেসার। তবে অধিকাংশ অধ্যাপক সপরিজনে থাকতেন শহরে ছেলে মেয়েদের স্কুলের সুবিধার্থে। হোস্টেলের ছাত্ররা সবাই হেঁটেই চলে যেত কলেজে। শহরে যেতে হলে কলেজের সমনে সিলেট-শিলং রোড থেকে গাড়ি বা রিকশা ধরা যেত। শহর থেকে আসা ছাত্ররা বাস, রিকশা বা সাইকেলে আসা যাওয়া করতো।
সব কিছু মিলিয়ে এম সি কলেজের পরিবেশকে মনে হত পড়াশুনা করার একটা আদর্শ নিকেতন। আমাদের মত শিক্ষকরাও সেই মনোমুগ্ধকর পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পেয়ে উল্লসিত বোধ করতেন। আর বর্তমানের মত স্কুলের একাদশ বা দ্বাদশ শ্রেণী তখন ছিল না, তখন মেট্রিক পাশ করে কলেজে ভর্তি হয়ে কলেজের ছাত্র-ছাত্রী হিসাবে ছেলে-মেয়েরা বড়দের কাতারে উঠে যেত। এম সি কলেজের ইন্টারমিডিয়েট ক্লাসের ছাত্ররা সেই কাঁতারেই পড়ত। তবে এত সুন্দর পরিবেশে পড়তে পারার সুযোগ পেয়ে তারও সম্ভবত নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করতো। আর ডিগ্রি ক্লাসের ছাত্রদের আমার আরো পরিপক্ক মনে হত। এম সি কলেজে আমার স্বল্পকালীন অধ্যাপনাকালে এম সি কলেজের ছাত্রদের কোন উচ্ছৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করতে আমি দেখিনি।
এম সি কলেজের তৎকালীন প্রিন্সিপাল সলমান চৌধুরী ছিলেন একজন অত্যন্ত গুরুগম্ভীর, নিয়মানুবর্তী ও কড়া প্রশাসক। তিনি কলেজ প্রাঙ্গণে হাঁটাহাঁটি করলে কলেজের ছাত্র-শিক্ষক সবাই শ্রদ্ধাভরে সংযত হয়ে যেত। আর আমার পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড.এইচ কে পাল ছিলেন একজন বিশিষ্ট পদার্থ বিজ্ঞানী। তিনি সেই যুগে জার্মানি থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন শেষে দেশে অধ্যাপনায় আত্মনিয়োগ করেন। তার পা-িত্য, শান্ত-গম্ভীর প্রকৃতি ও কড়া প্রশাসন সারা পদার্থ বিজ্ঞান ভবনটিতে প্রতিফলিত হত। সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা আমার মত একজন আনাড়ি প্রভাষকও প্রায় দু শত ছাত্র ভর্তি ক্লাসকে সংযত রেখে যথারীতি ক্লাস চালিয়ে যেতে কোন সময় কোন অসুবিধায় পড়িনি। তার অন্যতম কারণ তৎকালীন ছাত্রদের সংযত ব্যবহার এবং অন্যটি পাশের কামরায় ড. এইচ কে পালের গুরুগম্ভীর উপস্থিতি।
এম.সি. কলেজের বহু ছাত্র ব্যক্তিজীবনে নিজেরাই কেবল প্রতিষ্ঠা লাভ করেন নি , জাতীয় জীবনেও বিরাট অবদান রেখে গেছেন। আর আমার তৎকালীন ছাত্রদের মধ্যেও অনেকে জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। তাদের কারো কারো সঙ্গে পরবর্তী জীবনেও আমার যোগাযোগ আছে। আর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হলে আজও তারা তারা যেভাবে ‘স্যার’ বলে ডাক দেয়, তাতে মন আবেগভরে জুড়িয়ে যায়। আবেগ বলছি এজন্য যে তাদের সেই ডাকে শ্রদ্ধাভরা ভালবাসার সুর আজও উপলব্ধি করি। পরবর্তী সরকারি চাকরি জীবনে আমার অধীনস্থ কর্মকর্তা বা কর্মচারি, বা আমার কনিষ্ঠ সহকর্মীরা আমাকে এই ডাকেই সম্বোধন করতো এবং আমরাও আমাদের জ্যৈষ্ঠ কর্মকর্তাদের সেভাবেই সম্বোধন করতাম। তবে সরকারি চাকরির সেই ‘স্যার’ ডাকে ছিল এক ধরনের আজ্ঞাবাহী অধীনস্থতার সুর। পক্ষান্তরে আমার এম সি কলেজের ছাত্রদের সেই ‘স্যার’ ডাকে ছিল এক শ্রদ্ধাভরা মাধুর্য যা আজও আমার মনকে আলোড়িত করে তুলে। আজও তাদের সেই ডাককে আমার কাছে তাদের শ্রদ্ধা ও ভালবাসার আবেগ হিসেবেই প্রতীয়মান হয়।
এম সি কলেজে খুব স্বল্প সময়ে জন্য ছিলাম। এর মধ্যেই অসংখ্য ছাত্রের শ্রদ্ধা ও ভালবাসা অর্জনের সুযোগ পেয়ে ছিলাম। আজ মনে হয় কেন আরো কিছুদিন এম সি কলেজে কাটালাম না, তা হলে হয়তো আরো বহু সংখ্যক ছাত্রের শ্রদ্ধা ও ভালবাসা পেতাম। সরকারি চাকরি ছেড়ে যখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের চাকরিতে চলে গেলাম, তখন একজন বিজ্ঞানী হিসাবে অনেক সম্মান পেয়েছি এবং সবার কাছে মিস্টার বা ডক্টর চৌধুরী হিসাব পরিচিত হয়েছি। এম সি কলেজের আমার ছাত্রদের সেই শ্রদ্ধা বা ভালবাসার ডাকে আমাকে সম্বোধন করার কোন সুযোগ ছিল না। এম সি কলেজে আমার স্বল্পকালীন অভিজ্ঞতায় উপলব্ধি করেছি যে শিক্ষকরা শিক্ষা দিতে গিয়ে ছাত্রদের শ্রদ্ধা ও ভালবাসা পেতে চায়, আর তা অর্জন করতে পারলে নিজেদের প্রচেষ্টা স্বার্থক হয়েছে মনে করে তৃপ্তি পায়। সিলেটে আমার স্বল্পকালীন শিক্ষকতায় আমি কতটুকু সফল হয়েছি তা যাচাই করা হয়তো সম্ভব নয়, তবে তৎকালীন ছাত্রদের সঙ্গে দেখা হলে আজও তারা যে সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালবাসা প্রদর্শন করে তাতে আমি অপরিমেয় পরিতৃপ্তি বোধ করি।
আটলান্টা, জর্জিয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here