সিটি স্টেট ও ফেডারেল সরকার সম্পর্কে সম্যক ধারণা

69

মোহাম্মদ এন মজুমদার

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকগণ মূলত তিনটি স্তরের শাসন ব্যবস্থার আওতাধীন। তা হচ্ছে, সিটি, ভিলেজ অথবা টাউনশিপ প্রশাসন। এই লেখার অধিকাংশ পাঠক যেহেতু নিউইয়র্ক ভিত্তিক, তাই আলোচনা করা যায় নিউইয়র্ক সিটির অধিবাসীদের নিয়েই। মনে রাখতে হবে আপনি নিউইয়র্কে বাস করলে, নিউইয়র্ক সিটি ট্যাক্স স্টেট সেলস ট্যাক্স ও প্রপার্টি ট্রান্সফার ট্যাক্স, বিভিন্ন সারকে টেলি ইত্যাদিতেও সিটি ও স্টেটের ভাগাভাগি রয়েছে। এছাড়া ফেডারেল ট্যাক্স প্রত্যেক কোম্পানি, ব্যক্তি, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকেই দিতে হয়। যেমন কিছু লিখলেই ট্যাক্স, রেস্টুরেন্টে খেলে, রাস্তা পারাপার হলে, যেকোনো সেবা নিয়েই দামের সাথে ট্যাক্স পে করতে হয়।
আবার এই শহরে অপরাধের জন্য সিটির প্রশাসন, পুলিশ, ডিস্ট্রিক্ট এটর্নি আপনাকে বিচারের আওতায় এনে শাস্তি দিতে পারে। অপরাধ ও আইনের প্রকার ভেদে স্টেট ট্রুপার এবং এটর্নি জেনারেল আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন। আর ইমিগ্রেশন ব্যাংক একাধিক স্টেটের মধ্যে ব্যবসা কিংবা সংগঠনিক ঘটনার বিচারাদি এবং একাধিক রাষ্ট্রে সংশ্লিষ্ট অপরাধ এবং লেনদেনের কারণে ঘটিত বিষয়াদি এবং সেখানেই ফেডারেল কোনো ব্যবস্থা নেন।
আবার এই তিনটি স্তরের সরকার ব্যবস্থা, যেমন প্রশাসন, আইন রচনাকারী, আইন প্রয়োগকারী, বিচার বিভাগ ও পররাষ্ট্র বিভাগ রয়েছে। সিটি মেয়র নিউইয়র্ক সিটির প্রধান হিসেবে নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী আবার সিটির নিজস্ব বিচার বিভাগ রয়েছে, আইন প্রণয়নে জন্য সিটি আইন প্রণয়নের জন্য সিটি কাউন্সিলের ৫১ সদস্য রয়েছে। এছাড়া হাউজিং ইমিগ্রেশন, স্মল বিজিনেস, পুলিশ, ফায়ার, ইলেকশান, হিউম্যান রাইট এর মতো কমিশনারের অধীনে সিটির বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে।
একইভাবে নিউইয়র্ক স্টেটের গভর্নর হচ্ছেন স্টেটের সর্বোচ্চ ও প্রধান নির্বাহী তার অধীনে বিভিন্ন কমিশনার ও সেক্রেটারি রয়েছেন সেক্রেটারি অব স্টেট সেক্রেটারি অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান রাইট, ইত্যাদি বিভাগ, বিচার বিভাগ, আইন প্রণয়নের জন্য স্টেট এসেম্বলি এবং স্টেট সিনেট রয়েছে।
সর্বোপরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তি হচ্ছেন, প্রেসিডেন্ট তিনি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোট এবং ইলেক্ট্রন কলেজের সমন্বয়ে বছরের জন্য নির্বাচিত হন এবং পুনরায় দ্বিতীয় বারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন এবং পুনর্নির্বাচিত হলে দ্বিতীয় মেয়াদ ৪ বছরের জন্য ক্ষমতায় থাকতে পারেন।
ফেডারেল সরকারের সিনেটের সদস্য সংখ্যা ১০০ জন, তথা প্রত্যেকটি স্টেটে দুইজন করে সিনেটর থাকেন। সিনেটরগণ ছয় বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন। ছোটবড় সকল স্টেটেই ২ জন করে সিনেটর থাকেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ৪৩৫ জন সদস্য থাকেন, তাদেরকে কংগ্রেসম্যান ও ওমেন বলা হয়। এদেরকে হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভও বলা হয়। জনসংখ্যার অনুপাতে তথ্য জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রত্যেক স্টেটে হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভ এর সংখ্যা নির্ধারিত হয়। তারা প্রতি দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ হতে সুপ্রিম কোর্ট সর্বসময় জুডিসিয়ারি ক্ষমতার অধিকারী সুপ্রিম কোর্টের বিচারকগণ সারা জীবনের জন্য নির্বাচিত হন। কেবল মানসিক ও শারীরিক অক্ষমতার ফলে বিচারগণ পদত্যাগ করেন, এছাড়া তাদের কোনো প্রকার চাকরিচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা নাই। সুপ্রীমকোর্টের বিচারকরা প্রেসিডেন্টের অনুমোদনক্রমে সিনেট কনফরমেশনের ভিত্তিতে নিয়োগ লাভ করেন।
লেখক পরিচিতি : এই প্রবন্ধটির লেখক মোহাম্মদ এন মজুমদার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং নিউইয়র্কস্থ টরো ল সেন্টার থেকে আইনে এলএলএম ডিগ্রিধারী, তিনি নিউইয়র্কস্থ একটি ল ফার্মে ১৯৯৯ সাল থেকে কর্মরত আছেন। এ ছাড়াও তিনি নিউইয়র্কের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকা-ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি ব্রঙ্কস প্লানিং বোর্ড-৯ এর সদস্য ফাস্ট ভাইস চেয়ারম্যান এবং ল্যান্ড এন্ড জোনিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ১৯১০ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উপরোক্ত লিখাটি লেখকের সুদীর্ঘকালের ল ফার্মে কর্ম অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ল স্কুলের শিক্ষা থেকেই লিখা। এটিকে লিগ্যাল এডভাইজ হিসেবে গ্রহণ না করে আপনাদের নিজ নিজ আইনজীবীর সহযোগিতা নিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here