ভালোবাসা গাইড

6

প্রেমে ছ্যাঁকা খেয়ে বা প্রেম করতে না পেরে লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছেন, নেশা করে জীবন নষ্ট করেছেন এমন অসংখ্য মানুষ আছেন। আত্মহত্যাও অনেকে করেছেন। আবার প্রেম শুরু করে সেটি সত্যিকারের রূপ পায়নি এমন অনেক সত্যি ঘটনা আছে, বিয়ে পর্যন্তও যায়নি এমনও আছে অসংখ্য উদাহরণ। কীভাবে প্রেম করতে হবে, কীভাবে ভালোবাসতে হবে, বিয়ে করতে হবে সেসব পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মেহ্্জাবীন হক। অনুলিখন করেছেন জাওয়াদুল আলম

প্রেম করবেন কীভাবে?

  • অল্প দিনের পরিচয়ে কারও প্রেমে পড়া যাবে না। কিন্তু এখন অনেকে কয়েকদিনের পরিচয়েই প্রেমে পড়ে যান। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এমন সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
  • সম্পর্ক শুরু করার আগে সঙ্গীর ব্যাপারে ভালোভাবে জানা প্রয়োজন।
  • সে জন্য তাকে সময় দিতে হবে।
  • তাকে ভালোভাবে বুঝতে চেষ্টা করতে হবে।
  • আগে একে অপরকে জানতে হবে।
  • এরপর বন্ধুত্ব আপনা আপনি সময় দেওয়ার মাধ্যমে তৈরি হবে।
  • সব শেষে প্রেমের সম্পর্ক শুরু করতে হবে।
  • প্রেম নিবেদন করার পর ওপাশ থেকে আসা যেকোনো উত্তর মেনে নেওয়ার মতো মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
  • উত্তর ‘না’ হলে কোনোভাবেই ভেঙে পড়া যাবে না।
  • নিজেকে লেখাপড়া, পরিবারকে সময় দেওয়ার মধ্যে ব্যস্ত রাখতে হবে।
  • মা-বাবা, ভাই-বোনরা যে সহজেই মেনে নেন, এমন একজনকে সঙ্গী হিসেবে বেছে নেওয়া ভালো।
  • বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
  • কোনো কথা না লুকিয়ে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।
    সম্পর্কের কীভাবে তৈরি করবেন?
  • সম্পর্ক থাকলে সব বিষয়ে সব সময় একে অন্যকে সাহায্য করতে হবে।
  • কখনোই কোনো বিষয়ে একে অন্যের জীবনের প্রতিবন্ধক হওয়া যাবে না।
  • এমন কোনো কারণ থাকলে সেটি খুঁজে বের করে দূর করতে হবে। না হলে সেই সম্পর্ক বাঁচবে না।
  • পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ না থাকলে সম্পর্কে জড়িয়ে কোনো লাভ হবে না।
  • বন্ধুদের সঙ্গে প্রেমের ব্যাপারে সকল খুঁটিনাটি বিষয় জানিয়ে রাখা ভালো।
  • তাদের পরামর্শ মেনে চলা উচিত। তাহলে অভিজ্ঞতার মাধ্যমে যে কোনো সমস্যার সমাধান করা যাবে।
  • সম্পর্কের প্রতি দুজনকেই শ্রদ্ধাশীল হতে হবে ও সেটির চর্চা করতে হবে।
  • শুধু মানুষকে নয়, সম্পর্ককেও গুরুত্ব দিতে হবে।
  • সম্পর্ক ভালো রাখার জন্য দুজনকেই দুজনের জন্য শ্রম দিতে হবে।
  • সম্পর্কের পরিচর্যা করতে হবে। পরিচর্যা না করলে যেমন গাছের চারা নষ্ট হয়ে যায়, তেমনি ঠিক পরিচর্যার অভাবে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়। ভুলভাবে বেড়ে ওঠে।
  • কোনো প্রতিশ্রুতি দিলে সেটি অবশ্যই দুজনকেই পূরণ করতে হবে।
  • মেয়েটিকে কখনো খাটো করে দেখা যাবে না।
  • সম্পর্কের ভাঙা-গড়া সামলানোর মানসিকতা থাকতে হবে।
  • সম্পর্ককে কখনোই ছেলেখেলা মনে করা যাবে না।
  • ছোটখাটো বিষয়েই ব্রেকআপ আবার কিছুক্ষণের মধ্যে প্যাচআপ সম্পর্কের গুরুত্বহীনতার পরিচয় দেয়।
  • আবেগ নয়, বুদ্ধিমত্তা ও যুক্তিকেও সবসময় ব্যবহার করতে হবে।
  • কোনো কিছুই বেশি প্রত্যাশা করা যাবে না।
  • যতটুকু নিজে দিয়েছেন, বিনিময়ে ঠিক ততটুকুই প্রত্যাশা করতে হবে।
  • সম্পর্কের ক্ষেত্রে একে অপরের প্রতি অবশ্যই স্বচ্ছ থাকতে হবে।
    পরিবারকে ম্যানেজ করবেন কীভাবে?
  • মা-বাবাকে হঠাৎ করে বলবেন না। সম্পর্কের কথা বলার আগে থেকে অল্প হলেও জানিয়ে রাখতে হবে।
  • এই সম্পর্ক বা যেকোনো সম্পর্কের ব্যাপারে তারা খোলামেলা কি না বুঝতে হবে।
  • সম্পর্কের ব্যাপারে পরিবারের কাছে কখনোই কোনোকিছু গোপন করা যাবে না।
  • ছেলেটির আচার-আচরণ, লেখাপড়া সব বলতে হবে।
  • তাদের সব প্রশ্নের জবাব ভালোভাবে দিতে হবে।
  • কেন এ সঙ্গীকেই বেছে নিলেন তা ঠিকভাবে তাদের বোঝাতে হবে।
  • সঙ্গীর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ভালোভাবে বুঝিয়ে বলতে হবে।
  • দুজনের সুন্দর ভবিষ্যৎ হবে এই কথাটি যুক্তি দিয়ে বলতে হবে।
  • বাবা-মা সহজে রাজি না হলে তাদের বারবার ও ভালোভাবে বুঝিয়ে বলতে হবে।
  • প্রয়োজনে এক্ষেত্রেও আত্মীয়-স্বজনের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
  • হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিলে দুজনের জীবন বাঁচবে।
    সংসারে ভালো থাকবেন কীভাবে?
  • আগের মতো একে অপরকে ভালোবাসতে হবে।
  • নতুন জীবন হলে সঙ্গীর প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও বিশ্বাস থাকতে হবে।
  • তাকে সময় দিতে হবে।
  • সময় না দিলে ও বুঝতে চেষ্টা না করলে সেভাবে না চললে কোনো সম্পর্কই ভালো থাকে না।
  • কোনো ভুল করলে সেটি ধরিয়ে দিয়ে তা কীভাবে ঠিক করতে হবে বলতে হবে।
  • একে অন্যের প্রতি সৎ থাকতে হবে।
  • দুজনের ছোটখাটো ভুল মেনে নেওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে ও সেটির চর্চা করতে হবে।
  • ভালো, খারাপ দুটোকেই মোকাবেলা করার মতো মানসিকতা থাকতে হবে। করতেও হবে।
  • একে অন্যকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে।
  • বিনোদনে যেতে হবে ও আনন্দ করতে হবে।
  • সংসারের সব কাজ দুজনে মিলে ভাগ করে করতে হবে।
  • সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে।
  • সন্তান লালন পালনের দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নিতে হবে ও কাজগুলো করতে হবে।
  • দোষ ধরার মানসিকতা ত্যাগ করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here