ফ্যামিলি ইমিগ্রেশান পিটিশান বা ও-১৩০ পিটিশান প্রসঙ্গে

28

মোহাম্মদ এন মজুমদার

l-130 পিটিশান গ্রীনকার্ড ধারা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনেরা তাদের নিকটাত্মীয়দের জন্য করতে পারেন এটা সাধারণ রূপ। তবে গ্রীনকার্ডধারী এবং সিটিজেনদের আবেদনের ভিন্ন প্রক্রিয়া এবং প্রসেসিং এর সময়ের ব্যবধান রয়েছে।
গ্রীনকার্ডধারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য রুলসমূহ :
এজনজন গ্রীনকার্ডধারী শুধুমাত্র তাঁর স্বামী-স্ত্রী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক, অবিবাহিত সন্তানাদির জন্যই আবেদন করতে পারেন। গ্রীনকার্ডধারী তাঁর পিতামাতার জন্য আবেদন করতে পারেন না। গ্রীনকার্ডধারী ব্যক্তিরা তাঁদের আবেদনের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকালে বা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অবৈধ বা কাগজপত্রহীন ব্যক্তিগণের জন্য আবেদন করে যুক্তরাষ্ট্র অবস্থানকালে গ্রীনকার্ড পেতে পারেন না বা এডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস লাভ করতে পারেন না। অনেকে না বুঝে অথবা অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শে স্বামী-স্ত্রীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই l-৪৮৫ বা গ্রীনকার্ড পিটিশান করে থাকেন। এটি সংশ্লিষ্ট বেনিফেসিয়ারির জন্য সমূহ আইনগত জটিলতা সৃষ্টি করে।
সুতরাং গ্রীনকার্ডধারীরা শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান বা বসবাসরত তাঁদের স্বামী-স্ত্রী এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানাদির জন্য আবেদন করতে পারেন।
সিটিজেনদের জন্য প্রযোজ্য রুলসমূহ
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকগণ, গ্রীনকার্ডধারীদের চাইতে অনেক বেশি সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন। একজন ইউএস সিটিজেন তার পিতামাতা, ভাইবোন, স্বামী-স্ত্রী, প্রাপ্ত এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়েদের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে আবেদন প্রক্রিয়া, আবেদনের প্রসেসিং এর সময় কমবেশি হয়ে থাকে। একজন সিটিজেন তার স্বামী-স্ত্রী এবং পিতামাতার জন্য তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালেই তাদের জন্য l-১৩০ এবং l-৪৮৫ একসাথে ফাইল করতে পারেন এবং বেনিফেসিয়ারিগণ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালেই গ্রীনকার্ড পেতে পারেন। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘অফলঁংঃসবহঃ ড়ভ ংঃধঃঁং বা যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই গ্রীনকার্ড এর স্ট্যাটাস পাওয়া। যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশান আইনের সেকশান ২৮৫ (!) এর আওতায় বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে অভিবাসীগণ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই গ্রীনকার্ড পেতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে আইনজীবী ও অভিজ্ঞ ল ফার্মের শরণাপন্ন হওয়া অত্যাবশক।
যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনগণ যাদের ভাইবোনদের জন্য আবেদন করতে চান তাদেরকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে আবেদন প্রসেসিং করতে হবে। কারণ, আবেদন করার তারিখ থেকে কমপক্ষে ১২ বছর পর তাদের প্রসেসিং শুরু হয়, এ যাবৎকাল জন্ম, মৃত্যু, বসতবাড়ি স্থানান্তর বয়সবৃদ্ধি আবেদনকারীর মৃত্যু, আইনজীবীর আবার গ্রহণ ইত্যাদি কারণে আবেদন এর সাথে বিভিন্ন পরিবর্তন ও সংযোজনের প্রয়োজনে আবেদনটি সংরক্ষণ ও সুসংরক্ষণ না করলে আবেদনাকরীকে বহু ঝামেলা পোহাতে হয়। যেমন : অতিরিক্ত ডকুমেন্ট চেয়ে ও অতিরিক্ত তথ্য চেয়ে ইমিগ্রেশান বিভাগে চিঠি পাঠাতে পারে যার উত্তর নির্দিষ্ট সময় না দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। সেই জন্য ভাইবোন, প্রাপ্ত বয়স্ক এবং বিবাহিত সন্তানাদির জন্য আবেদনসমূহ অত্যন্ত সুচারু এবং সুদক্ষ ব্যক্তির দ্বারা পূরণ করা উত্তম। এ ছাড়া সকল প্রকার যোগাযোগ, বেনিফেসিয়ারি এবং তাদের পোষ্যদের বয়স বৃদ্ধির সাথে ঈঝচঅ বা কেইচ অ্যাটাস প্রটেকশন এর আওতায় দরখাস্ত ইত্যাদি প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য। ও-১৩০ সংক্রান্ত আরও তথ্য এবং এ সংক্রান্ত আরও তথ্যের জন্য কল দিন মোহাম্মদ এন মজুমদার 917-597-6349. mujumderlow@yahoo.com

লেখক পরিচিতি : এই প্রবন্ধটির লেখক মোহাম্মদ এন মজুমদার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং নিউইয়র্কস্থ টরো ল সেন্টার থেকে আইনে এলএলএম ডিগ্রিধারী, তিনি নিউইয়র্কস্থ একটি ল ফার্মে ১৯৯৯ সাল থেকে কর্মরত আছেন। এ ছাড়াও তিনি নিউইয়র্কের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকা-ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি ব্রঙ্কস প্লানিং বোর্ড-৯ এর সদস্য ফাস্ট ভাইস চেয়ারম্যান এবং ল্যান্ড এন্ড জোনিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ১৯১০ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উপরোক্ত লিখাটি লেখকের সুদীর্ঘকালের ল ফার্মে কর্ম অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ল স্কুলের শিক্ষা থেকেই লিখা। এটিকে লিগ্যাল এডভাইজ হিসেবে গ্রহণ না করে আপনাদের নিজ নিজ আইনজীবীর সহযোগিতা নিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here