কক্সবাজারে মূল্যস্ফীতির হার বেশি

পর্যটক ও রোহিঙ্গাদের চাপ

2

কক্সবাজার : পর্যটক ও রোহিঙ্গাদের বাড়তি চাপের কারণে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার চাহিদা বেড়ে গেছে। এর প্রভাবে বেড়েছে এগুলোর দাম। এ ছাড়া বেড়েছে টাকার প্রবাহ। ফলে বেড়ে গেছে মূল্যস্ফীতির হার। ক্ষয় বেড়েছে টাকার। এসব কারণে স্থানীয় চাকরিজীবী ও স্বল্পআয়ের লোকজন বিপাকে পড়েছেন। তাদের জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে গেছে। কিন্তু সেভাবে আয় বাড়েনি। এতে জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে তাদের আপস করে চলতে হচ্ছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ও বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক এমকে মুজেরি বলেন, কক্সবাজারে এখন প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবে কক্সবাজারে বিভিন্ন জিনিসপত্রের চাহিদা আছে, তা অনেকগুণ বেড়ে গেছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গাকে নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। তাদের প্রতিনিধি দল কক্সবাজারে অবস্থান করছে। এর মধ্যে পর্যটকরাও কক্সবাজারে আসা-যাওয়ার মধ্যে আছেন। সব মিলিয়ে সেখানে মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেছে। ফলে দ্রব্যসামগ্রীসহ সবকিছুর একটা অতিরিক্ত চাহিদা ও চাপ সৃষ্টির কারণে কক্সবাজারে মূল্যস্ফীতির হারও অনেক বেশি।

এ দিকে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্তু গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ। কক্সবাজারে এ হার ছিল কমপক্ষে ৬ শতাংশের বেশি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলে চাকরিজীবীদের বেতনের সূচক বেড়েছে ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ তাদের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়েছে বেশি। এর মধ্যে সেবা খাতে ২০১৭ সালে ব্যয় বৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। গত বছর বেড়েছে ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন থেকে ২০১৭ সালের শেষ দিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একটি চিঠি দেয়া হয়। এতে বলা হয়, কক্সবাজার একটি পর্যটন শহর। এখানে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসে। ছুটির দিনগুলোতে ১০-১২ লাখ পর্যটক অবস্থান করেন এখানে। ছুটির দিন ছাড়া বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে বা শীতের সময় ৬-৮ লাখ পর্যটক থাকেন। অন্য সময়ে দুই থেকে আড়াই লাখ পর্যটক থাকেন।

এসব কারণে এখানে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার মূল্য একটু বেশি। ফলে খাবার বা পরিবহন বাবদ বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হয়। যেটা অন্যান্য জেলায় করতে হয় না। এ কারণে তারা কক্সবাজারে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাদের বাড়তি ভাতা দেয়ার প্রস্তাব করেছেন। একে তারা পর্যটক ভাতা নাম দিয়েছেন। এ চিঠি দেয়ার পর বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এরপর এ বিষয়ে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এ দিকে ২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত জেলা কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় আশ্রয় নেয়। বর্তমানে সরকারি হিসাবে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা রয়েছে। বাস্তবে আরও বেশি হতে পারে। এর প্রভাবেও মূল্যস্ফীতির হার বাড়ছে।

এ দিকে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পর্যটকদের কাছে মাছের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রূপচাঁদা। কক্সবাজার সদরে প্রতি পিস রূপচাঁদা বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকা। একই মাছ চট্টগ্রাম শহরে বা টেকনাফে বিক্রি হচ্ছে ১০০-১৫০ টাকা। কক্সবাজারে কোরাল মাছ প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ২৫০, চট্টগ্রাম ও টেকনাফে বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা। টেকনাফের শ্যামলাপুর বিচে বিক্রি হচ্ছে আরও কম দামে ৮০-১০০ টাকার মধ্যে। কক্সবাজারে এখন ফুটপাথে প্রতি কাপ চা ১০ টাকা, স্টোরে ২০ টাকা, কক্সবাজারের বাইরে ফুটপাথে ৫ টাকা করে বিক্রি হয়। এভাবে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বেশি।

কক্সবাজার গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ছুটির দিনগুলোতে কক্সবাজার জমজমাট থাকবে। প্রায় সবকিছুর দাম বাড়ে। কক্সবাজার হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, তারকা হোটেলগুলোর রুম ভাড়া পুরো বছরই এক। তার ওপর মৌসুমভেদে ডিসকাউন্ট থাকে। কিন্তু নন-স্টার হোটেলগুলো চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে কম-বেশি ভাড়া আদায় করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here