গেদুচাচার খোলা চিঠি

2

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
হাছিনা বিবি,

চিঠির শুরুতে দেশ-গেরামের লাখো কুঠি পাবলিকের পক্ষ হইতে আপনি এই অধম নাখান্দা-নালায়েক গেদুচাচার শতকুঠি ছালাম গ্রহণ করিবেন। আশাকরি মহান আললাহ মালিকের অপার মহিমায় এক প্রকার ছহি ছালামতে আছেন। আমরাও খোদার ফজলে শাহজী বাবার নজর করমে কোনো রকমে জানে-পরানে বাঁচিয়া আছি। আজও বেশকিছু দরকারি কথাবার্তা লইয়া আপনার সমীপে দুই কলম লেখিতে বসিলাম। অতীতের চিঠিতে লিখা বহু কাজ কাম হইয়া যাওয়ায় পাবলিক অগণিত সমস্যা ও ফরিয়াদের কথা আমার পকেটে ভরিয়া দিতেছে। পাবলিক মনে করে আপনার কাছে লিখিলে দায়িত্ববানরাও ডরে-ভয়ে কাম-কাজগুলো করিয়া দেয়। আবার আপনার নজরে পড়িলে আপনিও করিবার জন্য ওয়াডার করেন।

পর সমাচার হইলো এই যে- চট্টগ্রামে বিমান ছিনতাই চেষ্টার কথা শুরিয়া আমাদের মজিদের বাপে হার্টফেল করিয়াছে। তাহার কথা হইলো, যেইখানে বাঘের ভয়, সেইখানেই রাইত হয়। আপনি যখন চাটিগাঁতে সেই সময় কেন এই ঘটনা ঘটিলো? কিভাবে এই পলাশ বেটা বিমানে ঢুকিলো? একটা চুল পর্যন্ত যখন চেক হয়, তখন একটা খেলনা পিস্তল লইয়া কিভাবে সে ঢুকিয়া গেলো? ইহার আগেও আপনাকে বহন করা বিমানের নাট-বলটু ঢিলা করিয়া বিমানকে উড়াইয়া দিবার একটা চক্রান্ত হইয়াছে। বিমানের টপ টু-বটম এ হইতে জেড পর্যন্ত শতভাগ কর্মচারীকে অদল-বদল করা ফরজ।

জননীগো, অস্ত্রই যদি না থাকে ছেলেটাকে মারিয়া ফেলার কারণই বা কি? সে বাঁচিয়া থাকিলে শোনা যাইতো কোনো দরবেশের কেরামতিতে সে বিমানে ঢুকিয়াছিলো বা কেন ঢুকিতে গেলো?

বিমান কর্তৃপক্ষ, বিমান কর্তা, র‌্যাবসহ প্রশাসন কেন এতরকম প্রেসব্রিফিং করিলো? কেন কহিলো তিনটা গুলীর শব্দ শোনা গিয়াছে? নিরস্ত্র একটা বালককে ধরিতে কি কমান্ডো অভিযান লাগে? একটা ঘটনায় একটা ব্রিফিংই কি যথেষ্ট ছিলোনা? এইরকম লেজে-গোবরে প্রেসব্রিফিং পাবলিকে ভুল বার্তা দেয়।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপনি কঠিন বার্তা দিলেও নাগরিক সমাজ কহিলো, রাঘববোয়ালদের আগে না ধরিলে কামের-কাম কিছুই হইবেনা। কুঠি কুঠি টাকার দুর্নীতি অহোরাত্রি হইতেছে। অনেক এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান হইতে সরকারি তেনারা এইরকম দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। এইসকল ক্ষত আগে সরাইবার কথা ভাবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস নাকি কি বই ছাপা হইয়াছে, তাহাতে নাকি আইউব-মোনায়েম, জিয়া-এরশাদ-খালেদা সকলেই আছে। অথচ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু নাই। ইহা কোনোভাবেই ভুল হইতে পারেনা। ইহা আলবদরের গোষ্ঠীই করিয়াছে। এই সকল কামে ব্যাংকের গভর্নর, মন্ত্রী কেহই দায় এড়াইতে পারেননা। তদন্ত করিয়া এই চক্রকে বান্ধিয়া আদালতে পাঠাইতে কহেন।

জামায়াতের সহকারী মহাসচিব আবদুর রাজ্জাক ব্যারিস্টার হঠাৎ ডিগবাজী মারার কারণ কি? তাইনে নিজেও আলবদর ছিলেন। আবার যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য বড় উকিল ছিলেন। নিজে বাঁচার জন্য হঠাৎ লন্ডনে পলাইয়া যান। এখন জামায়াত নিষিদ্ধের কথা উঠিবার পর তাইনে নতুন সুরে কথা কহিতেছেন। নিজে এত অপরাধ করিলেন, অপরাধীদের পক্ষে সাফাই গাইয়া ওকালতি করিলেন, জামায়াতের এতবড় নেতা ছিলেন, তাহারতো প্রথমে মাফ চাওয়া উচিৎ দেশবাসীর কাছে। আসলে কি জামায়াতিদের বাঁচানোর জন্য তাইনে সপ্তডিঙ্গা মধুকরের সারিন্দা সাজিয়েছেন?
সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র বাবুর বিরুদ্ধে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার মামলায় দেখা যায়, সুরেন্দ্র বাবু হুদার কাছে কয়েক কুঠি টাকা ঘুষ চাহিয়াছেন, না হয় তাহাকে সাজা দেওয়ার কথা কহেন। কি আজব দেশের গজইব্যা বিচারপতির কিসশা শুনিগো মা জননী? ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন লইয়া সাংবাদিক সমাজের মধ্যে আগ হইতে নানা রকম উৎকণ্ঠা ছিলো। দুই-তিনজন সাংবাদিক এই আইনে আটক হইলো। আসলে অপরাধ করিলে ফৌজদারি ধারারতো শেষ নাই। ডিজিটাল আইনটা দিয়া সাংবাদিকদের হয়রানির কি দরকার। সাংবাদিক মার্ডারেরতো ইললাহ মাশাললাহ একটাও ক‚ল-কিনারা হইলো না। কথায় কহেন ‘ভাত দিবার মুরোদ নাই-কিল মারণের গোসাই।’ সাগর-রুনি, শামছুর রহমান, হুমায়ূন কবির বালু, মানিক সাহা, সুবর্ণা আক্তার নদীসহ ৩৩ জন সাংবাদিক খুনের আজও বিচার হয় নাই। অথচ পান হইতে চুন খসিলেই সাংবাদিকদের আটক করা বা মামলা দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত? ‘খুলনার কণ্ঠ’ পত্রিকার সম্পাদ ইশরাত ইভাকে ভূমিদস্যু তকদির হোসেন সত্য সংবাদ হওয়া সত্তে¡ও এই আইনে মামলা দিয়া হয়রানি করিতেছে। এইগুলার জন্য একটা বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন হওয়া দরকার।

আপনার বিগত ১০ বছরের শাসনামলে চাঞ্চল্যকর হত্যার মধ্যে আরও আছে কুমিললায় ছাত্র তনু ধর্ষণ ও হত্যা, চট্টগ্রামে এসপি বাবুলের স্ত্রী মিতু হত্যা, টিভি উপস্থাপক মাওলানা ফারুকী হত্যা, ছাত্রলীগ নেতা মহিউদ্দিন সোহেল, মোহাম্মদ মামুন, সুদীপ্ত বিশ্বাস, দিয়াজ ইফরান চৌধুরীসহ আরও কয়েকজন সিলেটে খুন হইয়াছে বেশ কয়েকজন। এই সকল হত্যাকাÐ নিখোঁজ হত্যায় পরিণত হইয়াছে। দিয়াজের মাতা শহীদ মিনারে শুইয়াও পুত্র হত্যার বিচার চাহিয়াছেন। এইদিকে এক মেডিক্যাল ডাক্তারকে সুইসাইডে বাধ্য করা হইয়াছে। এইগুলার ঝটপট তদন্ত ও বিচার দরকার।
চকবাজারের ঘটনায় আরও কোনোরকম তালবাহানা আর তনোমনো না করিয়া এক মাসের মধ্যে সকল ক্যামিকেল ব্যবসা আললাহর দিকে চাহিয়া বন্ধ করিয়া দেন। অন্য জায়গায় সরাইতে ওয়াডার দেন।

মুক্তিযোদ্ধা তালিকা লইয়া আর নতুন-গবেষণা না করিয়া একটা ইতি টানেন। নতুন যাহাদের যাচাই-বাছাই স্থগিত আছে, তাহাদের ভেতরে জেনুইন যোদ্ধাদের সম্ভব হইলে তালিকায় নেন। বিএনপি-জামায়াত-সরকারের সময় যাহাদের গেজেট হইয়াছে, তাহা একটু খতাইয়া দেখেন। স্বাধীনতাবিরোধী কেহ থাকিলে তাহা বাদ করিয়া দেন। তখনকার সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মুজাহিদের সুপারিশে ভাতা বরাদ্দ হইলে অবশ্যই তাহা বাতিল করেন। ৪ বছরের ছেলে ৭১ সালে যোদ্ধা থাকার কথা নহে, কিভাবে এমন কেউ তালিকায় ঢুকিলো? ২৬ মার্চ না পারেন ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবসে হইলেও মুক্তিযোদ্ধাদের ডিজিটাল কার্ড দেন।

মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের নাম বদল করিয়া মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় করেন। ট্রাস্টের নামও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ ট্রাস্ট করেন। ১০ বছর পর মন্ত্রী বানাইবার জন্য ও একজন মুক্তিযোদ্ধা খুঁজিয়া পাইবেন না। মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ডাইরেক্টরি বানাইয়া অনলাইনে দেন। মক্তিযোদ্ধাদের ট্রাসের সম্পদ অর্ধেক বিক্রি করিয়া প্রত্যেককে ৫০ লাখ টাকা করিয়া অনুদান প্রদান করেন। আপনি না থাকিলে ইহাদের আবারও তের দুয়ারে হাত পাতিতে হইবে। আর জাতির পিতার দেওয়া ৩০ ভাগ কোটা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য সকল চাকরি, ভর্তিসহ সর্বত্র বহাল রাখার ঘোষণা দেন। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নামও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সংসদ করিয়া এডহক কমিটি গঠন করিয়া দেন। ভাতাটা বাজেটে ডাবল করিয়া দিবার আদেশ দেন।

ফেনীর মুহুরী নদীতে শেষতক মোহমায়া ঘাটের পাকা পুল নির্মাণ হইতেছে। ব্রিটিশ জামানা হইতে এই পুলের জন্য আন্দোলন হইয়াছে। এখন তিন উপজেলার সংযোগস্থলের এই ব্রিজের কারণে চাঁদগাজী হইতে জিএমহাট, শনির হাট, গতিয়া ও ফুলগাজী-ছাগলনাইয়া একই জনপদে রূপানতরিত হইবে। বাকী রহিলো ফুলছড়ি ঘাট দিয়া মুহুরীর বাকী ব্রিজটি। এলাকাবাসী চলাচলের জন্য একটা অস্থায়ী পুল বানাইয়াছে। এই ব্রিজের প্রস্তাবনাও প্রকল্প জিএনপিতে আছে। মন্ত্রী কাদের চাচাও জানেন। কাজটি করিয়া দিলে এই এলাকার স্কুল-মাদ্রাসা ও হাট-বাজারে পাবলিকের বহুমুখী সুবিধা হইয়া যাইবে।

আজ আর লম্বা করিতে চাহিনা। এইখানেই শেষ করিতেছি। বিশেষ কি। ইতি

আপনারই ৬৮ হাজার গেরামের
নালায়েক নাখান্দা অধম
গেদুচাচা
গ্রন্থনা : খ. ম. হ. তাং ২ মার্চ-২০১৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here