মুঠো মুঠো স্বর্ণ জয়ের প্রত্যাশা এবারও

1

স্পোর্টস রিপোর্ট : সুস্থ ও স্বাভাবিক ক্রীড়াবিদরা স্বর্ণ জিততে হিমশিম খান। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীরা মুঠো মুঠো স্বর্ণ জেতেন। দেশকে সোনাঝরা হাসি উপহার দেন। এবারও একই প্রত্যাশা নিয়ে আরব আমিরাতে যাবেন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদরা। ১৪-২১ মার্চ আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হবে স্পেশাল অলিম্পিক ওয়ার্ল্ড সামার গেমস। ৯টি ডিসিপ্লিনে বাংলাদেশের ১৩৯ জন ক্রীড়াবিদ ও কোচ গেমসে অংশ নেবেন। দল রওনা হবে গত ৮ মার্চ। ডিসিপ্লিনগুলো হলো অ্যাথলেটিক্স, সুইমিং, ব্যাডমিন্টন, ফুটবল, বোচি, বাস্কেটবল, হ্যান্ডবল, টেবিল টেনিস ও ভলিবল। ফুটবল ও হ্যান্ডবলে পুরুষ ও নারী দুই ইভেন্টেই অংশ নেবেন লাল-সবুজের ক্রীড়াবিদরা। গত ৪ মার্চ এসব তথ্য জানান স্পেশাল অলিম্পিক বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. শামীম মতিন চৌধুরী।

১৯৯৪ সাল থেকে স্পেশাল অলিম্পিক গেমসে অংশ নিয়ে আসছে বাংলাদেশ। প্রতিবার গেমস থেকে পদক জিতে আনেন লাল-সবুজের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীরা। আগে সুইমিং, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, বোচি, টেবিল টেনিস, ভলিবল ও পুরুষ ফুটবলে নিয়মিত অংশ নিত বাংলাদেশ। আবুধাবিতে এসব ডিসিপ্লিন ছাড়াও বাংলাদেশ এই প্রথম অংশ নিচ্ছে হ্যান্ডবল, নারী ফুটবল ও বাস্কেটবলে। স্পেশাল অলিম্পিক্সের পরিচালক ফারুকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এবার পুরুষ ফুটবল, সুইমিং, অ্যাথলেটিক্স, বোচি, ব্যাডমিন্টন থেকে স্বর্ণপদকের প্রত্যাশা করছি। তবে প্রথম অংশ নেয়া ডিসিপ্লিনগুলো থেকে কী পাব তা এখনই বলতে পারছি না।’ তিনি যোগ করেন, ‘অলিম্পিক গেমসে কোটি কোটি টাকা খরচ করলেও হিটেই বাদ পড়েন ক্রীড়াবিদরা। আর আমাদের ক্রীড়াবিদরা স্বর্ণপদক জিতে আনে। অথচ কোনো খরচ পাই না আমরা।’ কোচ কো-অর্ডিনেটর আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘স্পেশাল অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশ সব সময় মুঠো মুঠো পদক জিতে আনে। এবারও ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।’

পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে আক্ষেপ করলেন চেয়ারম্যান শামীম মতিন চৌধুরী। তার কথায়, ‘দেশে অনেক প্রতিষ্ঠিত কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু আমাদের দিকে কেউ হাত বাড়িয়ে দেয় না। সব সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে সাহায্য নিয়ে আমাদের যেতে হয়েছে। এবার বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান কোকাকোলা আমাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে। তাই যেতে পারছি। তা না হলে যাওয়াই হতো না।’

১৯৯৯ সালকে বাংলাদেশ স্পেশাল অলিম্পিকের সুবর্ণ যুগ আখ্যা দিয়ে প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আশরাফ দৌলা বলেন, ‘ওই বছর যুক্তরাষ্ট্রের ডারহামে আমরা ২১টি স্বর্ণপদক জিতেছিলাম। সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় রেকর্ড। প্রতিবারই প্রধানমন্ত্রী আমাদের ক্রীড়াবিদদের যাওয়ার আগে সহায়তা করেছেন। ফিরে আসার পর পুরস্কার দিয়েছেন।’

এবারের আসরে ১০৩ জন ক্রীড়াবিদ, ৩২ জন কোচ ও চারজন স্টাফ যাচ্ছেন। ক্রীড়াবিদদের মধ্যে ২৮ জন স্বাভাবিক খেলোয়াড়। তারা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীদের সমর্থন করবেন। এর আগে দু’জন ক্রীড়াবিদ পালিয়ে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। এ বিষয়ে ফারুকুল ইসলাম বলেন, ‘এবার প্রতি চারজন ক্রীড়াবিদের সঙ্গে একজন করে কোচ দিচ্ছি।

ঢাকা থেকে বিমানে যাওয়া এবং আসা পর্যন্ত প্রত্যেক কোচ তাদের ক্রীড়াবিদদের দেখেশুনে রাখবেন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here