জয়তু বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক

3

ফনিন্দ্র সরকার

বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাস যোগ দিয়েছেন কর্মস্থলে। বিমানবন্দরে নেমেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে গভীরতর জায়গায় নিয়ে যেতে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। তাকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সুস্বাগতম। বাংলাদেশে এটা তার দ্বিতীয় নিয়োগ। ১৯৯৮ সালে সংস্কৃতি এবং তথ্য বিভাগের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়ে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষ সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এদেশের মাটি মানুষ সভ্যতার সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক থাকায় তিনি এখানে অবস্থানকালে কর্মময় দ্যুতি ছড়াতে সক্ষম হবেন। তদুপরি তিনি একজন বাঙালি।
বাংলাদেশ-ভারত সুপ্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম দেশ। এই বন্ধুত্বের রয়েছে অতি দীর্ঘতা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে ভারতের অকাট্য সমর্থন সেই সঙ্গে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে বিজয় অর্জনে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালনের মধ্য দিয়ে বন্ধুত্বের যে দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে, তা সত্যি অবিস্মরণীয় বটে। মার্চ মাস আমাদের স্বাধীনতার মাস। উত্তাল মার্চের কথা স্মৃতিপটে ভেসে উঠতেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে বাঙালি জাতি। আবেগঘন মার্চে রিভা গাঙ্গুলির ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশে যোগদান ঐন্দ্রজালিক যোগসূত্রের পূর্বাভাস। রিভা গাঙ্গুলি সম্পর্কের চলমান দৃষ্টান্তকে উচ্চাদর্শেম-িত করবেন এমন বিশ্বাস আমাদের। দু-দেশের সম্পর্ক উচ্চাদর্শে ম-িত হলে পারস্পরিক দৃষ্টিও ঊর্ধ্বমুখী হবে। ভারত-বাংলাদেশের মানুষের সর্বাধিক কল্যাণে কূটনীতির সহজাত সংস্কৃতি নতুনমাত্রা যোগ করবেন। আজ বিশ্বে পরস্পরের মধ্যে কলহ অবিশ্বাস বেড়েই চলছে। আত্মকেন্দ্রিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের হীন প্রচেষ্টার যাঁতাকলে পিষ্ট মানবজাতির বিস্মৃত মানবতা উদ্ধারে কূটনীতিকদের সঠিক কার্যক্রমে আত্মনিয়োগ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমান যুগের সহিংস নীতি পরিহার করে অহিংস নীতিকে অনুসরণ করতে হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই বিশ্বে অহিংস নীতি অবলম্বনকারীদের মধ্যে মহাত্মা গান্ধীই শ্রেষ্ঠ। তার জীবনের বিস্ময়কর দৃষ্টান্তকে পাথেয় করে পথ চলতে হবে কূটনীতিকদের। কূটনীতিকগণ নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন। রিভা গাঙ্গুলি মহাত্মা গান্ধীর ভারতের কূটনীতিক। তিনি সে আদর্শ লালন করে কূটনীতিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। গান্ধীজীর অহিংস নীতির একটি উদাহরণ তুলে ধরা যেতে পারে। গান্ধীজীর সময় (তখন ব্রিটিশ শাসন রাজ ছিল) ভারতের উত্তর প্রদেশের বলিয়া নামক একটি গ্রামে পুলিশ চড়াও হয়। সত্যাগ্রহ আন্দোলনের সময় পুলিশ ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। পুলিশ সদস্যরা গ্রামের মহিলাদের সঙ্গে অসদ্ব্যবহার করেছিল। কেউ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেনি। এ খবর পেয়ে গান্ধাজী অনুসন্ধানকারী দল পাঠালেন। মহিলাদের প্রতি পুলিশের এ আচরণের বিরুদ্ধে কেন গ্রামবাসীরা প্রতিবাদ করেনি- এ প্রশ্নের উত্তরে গ্রামবাসীরা বললেন ‘গান্ধীজী আমাদের অহিংস নীতি শিখিয়েছেন তাই প্রতিবাদ করিনি, বাধা দেইনি। গান্ধীজী এ কথা শুনে লজ্জিত হয়েছিলেন। তিনি সেই গ্রামে সশরীরে গিয়ে গ্রামবাসীদের বলেছিলেন, ‘তোমরা তোমাদের মা বোনদের ইজ্জত রক্ষা করতে পারলে না’ এ কেমন অহিংসা? আমি তো এমন অহিংসার কথা বলিনি। আমি অন্যায়ের প্রতিবাদ করার অহিংসার কথা বলেছি। জীবনে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে ও শান্তি রক্ষার স্বার্থে মন্দকে বাধা দিতেই হবে। এমন অহিংসাই গান্ধীজীর অহিংস নীতি। কাজেই কূটনীতিকদের পারস্পরিক সৎ সম্পর্কের স্বার্থে মন্দকে বাধা দেয়ার কৌশল অবলম্বন করতে হবে। এটা কেবল কূটনীতিকদের ক্ষেত্রেই নয়, মানব সভ্যতা ও বিশ্ব শান্তির স্বার্থেই সবাইকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। তবে কূটনীতিকদের দায়িত্বটা একটু বেশি।
আধুনিক সভ্যতায় কূটনৈতিক কালচারের ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। পারস্পরিক দেশের সঙ্গে ব্যবসা, বাণিজ্য শিক্ষা, সংস্কৃতি নানাবিধ সম্পর্কের সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে কূটনীতিক মিশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই মিশনের যিনি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি সে দেশের একজন প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত। তিনি রাষ্ট্রদূত কিংবা হাই কমিশনার। রিভা গাঙ্গুলি ভারতের একজন রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি হয়ে এখানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে দায়িত্ব পালন করবেন। ইতোপূর্বে অনেকেই এই দায়িত্ব পালন করে গেছেন। রিভা গাঙ্গুলি যার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তিনি শ্রী হর্ষবর্ধন শ্রিংলা ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে রিভা গাঙ্গুলি নতুনত্ব কী করেন সে প্রত্যাশা রয়েছে আমাদের। কেননা প্রত্যেক রাষ্ট্রদূত-ই ব্যতিক্রম কিছু কাজের মাধ্যমে তার পদটিকে বৈশিষ্ট্যম-িত করার চেষ্টা করেন। যেমন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে অনেক কাজ করেছেন সেইসঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা সহজীকরণে প্রক্রিয়া অবলম্বন করে একটা দৃষ্টান্তস্থাপন করেছেন যদিও ভিসার খরচ একটু বেড়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে বীণা সিক্রি ভারতের কূটনীতিক হিসেবে যোগদান করে ভারতীয় ভিসা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনেন। দীর্ঘকালের এজেন্সি প্রথা বাতিল করে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনায় ভিসা সেন্টার স্থাপন করেন। একেবারেই প্রস্তুতিহীন সে ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিক ভিসা প্রাপ্তিতে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়ে। অন্যদিকে ঢাকাসহ বাংলাদেশে যারা ভিসা প্রসেসিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন তারা আকস্মিক কর্মহীন হয়ে পড়েন। এক্ষেত্রে মানবিক মূল্যবোধের জায়গায় প্রচ- আঘাত প্রাপ্ত হয়। অসংখ্য পরিবার নির্ভরশীল ছিল ভিসা এজেন্সির ওপর। স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনায় ভিসা জটিলতার কারণে বীণা সিক্রি বেশ সমালোচিত হয়েছিলেন। এরপর ই-টোকেন সিস্টেম করা হয়। ই-টোকেনের মাধ্যমে ভিসা জমা দেয়ার তারিখ নেয়া হতো অনলাইনে আবেদন করে। সাধারণ মানুষ নতুন এই প্রযুক্তিতে আরো বিড়ম্বনার শিকার হয়। ভিসা প্রাপ্তির বিড়ম্বনা এড়াতে মানুষ দালালদের শরণাপন্ন হতো। চিহ্নিত কিছু দালাল ছাড়া কারও পক্ষেই জমার তারিখ নেয়া সম্ভব হতো না। ইন্ডিয়ান ভিসার ব্যাপক চাহিদার কারণে দালালরা কেবল ডেট অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্যে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করত। দীর্ঘসময় এই ব্যবস্থাপনায় ভিসা ইস্যু করা হতো। ইন্ডিয়ান ভিসা কীভাবে ইস্যু হবে সেটা সম্পূর্ণ ভারতীয় দূতাবাসের বিষয়। এতে কারো করার কিছু ছিল না। পত্র পত্রিকায় লেখালেখি হয়েছে অনেক। আমি ব্যক্তিগতভাবে ডেট অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিলের জন্যে দূতাবাসের প্রথম সচিব (রাজনৈতিক) রাজেশ উইকি মহোদয়ের কাছে অনুরোধ করলে তিনি তা বিবেচনার আশ্বাস দেন। কিছুদিন পর ডেট নেয়ার প্রথা বাতিল করা হয়। তার পর ভিসা প্রার্থীগণ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। প্রায় বছরখানেক যাবৎ বৃহৎ পরিসরে ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে ভিসা সেন্টার খোলা হয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগেও ভিসা সেন্টার চালু রয়েছে। এখন কোনো জটিলতা নেই। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের দৃঢ়তায় ভিসা সহজীকরণ অন্যতম একটি প্রধান শর্ত। এটা বিবেচনায় নেয়ার কারণেই এখন ভিসা জটিলতার অবসান হয়েছে। বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক যে উচ্চতায় পৌঁছেছে তা ধরে রাখতে এবং সম্পর্ককে আরো গভীর করতে বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক বন্ধনকে দৃঢ় করতে হবে। আমরা জানি ভারত একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সেই সাথে মানবিকও বটে। এর অনেক উদাহরণ রয়েছে। সম্পর্ক কেবল রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের নয়। সম্পর্ক হতে হবে মানুষের সঙ্গে মানুষের। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ভারতীয় প্রথম হাইকমিশনার ছিলেন সুবিমল দত্ত। তিনি এদেশের সাধারণ মানুষের মনের রাজ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন। দেব মুখার্জি, পিনাক চক্রবর্তী, মনিলাল ত্রিপাটি, মচুকান্দ দুবে, রজিত মিত্র, পঙ্কজশরন এবং হর্ষবর্ধন শ্রিংলা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। বর্তমান হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলিকে আমি যতটা জানি তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে অনেক দূর নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন। তিনি অত্যন্ত ধার্মিক এবং মানবিক। আজ পুরনো একটি কথা মনে পড়ছে, তা হলো- রিভা গাঙ্গুলি দাস যখন বাংলাদেশে কালচার ও তথ্য বিভাগের প্রধান ছিলেন তখন পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী ছিলেন ডেপুটি হাইকমিশনার, সম্ভবত ১৯৯৯ সালে পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর পিতা বাংলাদেশে মৃত্যুবরণ করেন। বারিধারার যে বাসভবনে পিনাকদা থাকতেন খবর পেয়ে আমিও গিয়েছিলাম। মৃতদেহের শিয়রে বসে রিভা গাঙ্গুলি খুবই চমৎকারভাবে গীতা পাঠ করছিলেন। সেই পাঠের সুরধ্বনি মনে করলে এখনো হৃদয়ে ঝংকার দেয়। এমন আবেগঘন পাঠ খুব কমই শুনেছি। বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতারাও সে সময় উপস্থিত ছিলেন। সেদিন আমার উপলব্ধি হয়েছে রিভা গাঙ্গুলি খুবই ধার্মিক একজন মানুষ। কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ধর্ম-চর্চায় নিবৃষ্ট ব্যক্তি সার্বিক কল্যাণের কাজটি যথার্থভাবেই করবেন।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এমন এক ভবিষ্যতের যা-কিনা দু-দেশের বহুত্ববাদকে সমন্বিত করতে সক্ষম হবে। কূটনীতিকদের একটা বিশ্বাস নিয়ে কাজ করতে হয়। বিশ্বাসকে যদি সুরক্ষিত করা না যায় তাহলে কূটনীতিক সব রীতিনীতি ভেঙ্গে পড়বে। যা বর্তমান বিশ্বে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘটছে। বর্তমান সমাজ আত্ম প্রতিষ্ঠার রাজনীতি দিয়ে ভরা। এখানে বিদ্যা এবং প্রকৃত জ্ঞানের স্থান নেই। এ অবস্থায় শান্তির ভাবনা হবে নিরর্থক। আত্ম প্রতিষ্ঠার যে রাজনীতি সমকালীন সমাজে বিস্তৃতি ঘটছে তার সঙ্গে একজন কূটনীতিককে খুবই কৌশলী হয়ে কাজ করতে হয়। যে কৌশল অবলম্বন করতে জানে না সে-ই ব্যর্থ হয়। এ রকম অনেক উদাহরণ রয়েছে। রিভা গাঙ্গুলি রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। বিভিন্ন দেশে কূটনীতিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও প্রচুর। বাংলাদেশে আসার আগে তিনি দিল্লিতে পররাষ্ট্র দফতরের আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বিভাগের মহাপরিচালক ছিলেন। সারা বিশ্বের সংস্কৃতি নিয়ে তার গবেষণা রয়েছে। অভিজ্ঞতার ঝুলি পরিপূর্ণ। তার লব্ধ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তিটাকে অধিকতর মজবুত করবেন বলে বিশ্বাস করি। আজ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অন্য এক উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে দুই-দেশের কূটনীতিক ও রাষ্ট্র নায়করা স্বীকার করে বিভিন্ন সময় বিবৃতি দিয়ে আসছেন। তারপরও এদেশের মনে প্রাণে ভারত বিদ্বেষ মানুষের সংখ্যাও কম নয়। কাজেই সদা সতর্ক থাকতে হবে। এই যে সম্পর্কের উচ্চতা নিয়ে কথা বলছি, এই উচ্চতার প্রকৃত মাপকাঠি কী তা নির্ধারণ করাও জরুরি। বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। অর্থনীতির কূটনীতিকে অধিক গুরুত্ব দিতে গিয়ে মানবিক মূল্যবোধের জায়গা কিন্তু ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতি ও মানবিক মূল্যবোধকে সমন্বিত করেই কূটনৈতিক সম্পর্কের স্থায়িত্ব, দায়িত্ব নিয়ে দীর্ঘায়িত করতে হবে। আমি জানি, জিজ্ঞাসু ব্যক্তি ছাড়া অন্যকে উপদেশ দেয়া বিধেয় নয়। বিনা জিজ্ঞাসায় উপদেশ দিলে তার কোনো মূল্য থাকে না। তবে মূল্যহীনে একটা নিগূঢ় সত্য লুকিয়ে থাকে। সে সত্যের সন্ধানে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই।
বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। সীমান্ত সমস্যা, করিডর সমস্যা, সমুদ্র সমস্যা সমাধান হয়েছে। ছিটমহলবাসীদের দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা রাষ্ট্র পরিচয় সমস্যারও সমাধান হয়েছে। বাণিজ্যিক ঘাটতির সমস্যাও সমাধানের পথে। তিস্তা চুক্তিও অচিরেই হয়ে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দুটি দেশ একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার রয়েছে। দুদেশের ক্ষুধা দারিদ্র্য নিরসনেও দুটি দেশ ঐকমত্যের ভিত্তিতে অগ্রসর হচ্ছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ত জীবনই মানুষের পক্ষে শ্রেষ্ঠ জীবন; কঠিন নিয়মানুবর্তিতা পালন ছাড়া ঐ জীবন লাভ করা যায় না। মানুষ যাতে ঐ স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত জীবন লাভে সমর্থ হয় কূটনীতিকদের এই দীক্ষা, দর্শনের অনুগামী হয়ে কাজ করতে হবে। রিভা গাঙ্গুলির কর্মময় জীবনের সমৃদ্ধি কামনা করছি। জয়তু বাংলাদেশ- ভারত সম্পর্ক।
লেখক : কলামিস্ট ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here