চাপে আ’লীগ, বিএনপি খুশি

4

রাজনৈতিক ডেস্ক : ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম নিয়ে গণমাধ্যমে যে সমালোচনা চলছে তা দ্রুত সামাল নিতে চায় আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা মনে করেন, কোনোভাবেই ইস্যুটি জিইয়ে রাখা যাবে না। কারণ সমালোচনা জমে উঠলে দায় আওয়ামী লীগের কাঁধেই আসবে। তাই যত দ্রুত সম্ভব ‘যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে’ উত্তরের ভোটের সমালোচনার অবসান চান তারা। এ দিকে ভোটের এমন চিত্রে বেশ খোশমেজাজে আছেন বিএনপিপ্রধান সরকারবিরোধী রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। আলাপকালে এই খুশির কথা জানিয়ে তারা বলেন, এখন ভোটের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা বিএনপির জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ; আবার সুযোগও। গত ১ মার্চ আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগণ্য ভোটার উপস্থিতি দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে হতাশ করেছে। ভোটারদের এত কম উপস্থিতি ঘটবে ভাবতেই পারেননি তারা। ওই নেতারা বলেন, ভোটার কমের পেছনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও কিছুটা দায়ী। কারণ জয় নিশ্চিত ভেবে মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম যেমন জনসংযোগে ‘সিরিয়াস’ হননি, তেমনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও মাঠে নামেননি। এর ফলে ভোটারদের ভেতরে ভোটের উৎসব ছড়ায়নি এবং ভোটের দিন প্রায় ভোটারশূন্য ছিল অনেক কেন্দ্র।

ক্ষমতাসীন দলের সম্পাদকমÐলীর এক সদস্য বলেন, ভোটার উপস্থিতি কম নিয়ে যেসব বক্তব্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আসছে, সেগুলো বলা হলেও ভেতরে-ভেতরে অনুসন্ধান চালানো হবে প্রকৃত কারণ বের করতে। প্রচারে ঘাটতি ছিল, মেয়র প্রার্থী হিসেবে আতিকুল ইসলামকে নেতাকর্মীরা গ্রহণ করতে পারেননি দলের ভেতরে এসব আলোচনা রয়েছে।

কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা জানান, গত ১ মার্চ আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভোটার উপস্থিতি কম কেন তা জানতে চান। অধিকাংশ নেতা দলীয় প্রার্থীর দুর্বলতার কথা জানান। বলেন, আতিকুল ইসলাম জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যেমন যোগাযোগ রক্ষা করেননি, তেমনি ভোটারকে কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়ে যাওয়ার পরিবেশ তৈরিতেও সক্ষম হননি। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নেতারা কম ভোটার উপস্থিতির জন্য এ বিষয়টিকেই সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আলাপকালে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলেন, সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা মনে করেছিলেন, তারা যেভাবে নির্বাচিত হয়েছেন, একইভাবে মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম নির্বাচিত হবেন। তাই আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীও ভোট দিতে যাননি। দল-মত-নির্বিশেষে জনগণের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার এই ঘটনায় খুশি বিএনপিসহ ফ্রন্টের অন্য নেতারা।

তারা বলছেন, সরকারের ভোট ছিনতাই-ডাকাতির কারণে দেশের জনগণ বীতশ্রদ্ধ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের বশংবদ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কারণে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তারা আরও বলছেন, আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেবে না। দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে না। এখন ভোটের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা বিএনপির জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ; সুযোগও বটে। বিএনপি দলের পুনর্গঠন শেষে ঘুরে দাঁড়াবে এবং সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে সরকারের ভোট ছিনতাই-ডাকাতির কারণে দেশের জনগণ ভোটের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠেছে। ভোটের প্রতি অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে। যাদের ভোট দেবেন তাদের বিজয়ী না দেখিয়ে সরকার যাকে বলবে তাকে নির্বাচিত করবে ইসি। তাই বিএনপি জনগণকে ভোট বর্জনের আহŸান না জানালেও জনগণ স্বেচ্ছায় ভোট বর্জন করেছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here