আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য জামায়াত হুমকি

4

রাজনৈতিক ডেস্ক : জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চরমপন্থী দলগুলোকে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের জন্য হুমকি উল্লেখ করে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ কংগ্রেসে একটি প্রস্তাব আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য ইন্ডিয়ানার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জিম ব্যাংকস কংগ্রেসে এ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। পরে প্রস্তাবটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য হাউজ অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবে ধর্মভিত্তিক এই রাজনৈতিক দলটি যেন আর রাজনীতি চালাতে না পারে, সে জন্য এর সক্ষমতার ভিত্তিমূলে আঘাত করতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপিসহ বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যান্য চরমপন্থী সংগঠনের সংস্পর্শ থেকে দ্ব্যর্থহীনভাবে দূরে থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়।

প্রস্তাবে দক্ষিণ এশিয়ায়, বিশেষ করে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে ধর্মীয় দলগুলোকে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, আল কায়দা ও তালেবানের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সদস্যদের যোগাযোগ রয়েছে। এই দলটি এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত চরমপন্থী দলগুলো দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।

ফলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা সহিংসতার গুরুতর ঝুঁকির মুখে রয়েছে। কংগ্রেসম্যান ব্যাংকস বলেন, বাংলাদেশের আইনজীবী ও বিরোধী রাজনীতিক ড. কামাল হোসেন প্রকাশ্যেই বিএনপিকে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। রিপাবলিকান এই কংগ্রেসম্যানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রেও জামায়াতে ইসলামীর ভাবধারা পোষণ করে এমন অনেক সংগঠন রয়েছে, যারা তহবিল সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত।

এ ক্ষেত্রে তিনি উদাহরণ হিসেবে ইসলামিক সার্কেল অব নর্থ আমেরিকা, শেয়ার লিডারশিপের নাম উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব সংগঠন খোলাখুলিভাবেই জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বলেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর বারবার হামলা, ধর্মীয় চরমপন্থার বিস্তার এবং জামায়াতে ইসলামীসহ সংশ্লিষ্ট মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের জন্য হতাশাব্যাঞ্জক।

তাই ধর্মীয় চরমপন্থা ও জঙ্গিবাদের বিস্তার রোধে মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র রক্ষার মতো বিষয়গুলোয় যুক্তরাষ্ট্রকে আরও সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ও এর বাইরে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত সব প্রতিষ্ঠানে ইউএসএআইডি, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, হোমল্যান্ড সিকিউরিটিজসহ অন্যান্য সংস্থার তহবিল সরবরাহ বন্ধ করারও দাবি জানানো হয়েছে প্রস্তাবে।

এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে ইসলামিক সার্কেল অব নর্থ আমেরিকা, আইসিএনএ রিলিফ, হেল্পিং হ্যান্ড ফর রিলিফ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, দ্য মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here