9

ঠিকানা অনলাইন ডেস্ক, যুক্তরাষ্ট্র : ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন মার্কিন সংবিধানের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, মার্কিন কংগ্রেস এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে অংশগ্রহণের অনুমোদন দেয়নি। সুতরাং এটি অসাংবিধানিক।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে উচ্ছেদ করে রাজধানী সানা দখলে নেয় ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পালিয়ে যান হাদি। ২০১৫ সালের মার্চে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মিত্রদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব। সৌদি জোটের অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত নারী-শিশুসহ ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। গত ডিসেম্বরে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে মানবিক সহায়তার জন্য ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতেই ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন বন্ধে সিনেটর মাইক লি-কে সঙ্গে নিয়ে সিনেটে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন স্যান্ডার্স। বুধবার এ প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মঙ্গলবার নিজের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন স্যান্ডার্স।

বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, ইয়েমেনে সৌদি জোটের সামরিক আগ্রাসনে মার্কিন সমর্থনের অবসান ঘটাতে কাল আমরা সিনেটে যে প্রস্তাবের ওপর ভোট দেবো, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক। এই যুদ্ধ একইসঙ্গে একটি মানবিক ও কৌশলগত দুর্যোগ। এটি বন্ধের সুযোগ কংগ্রেসের হাতে রয়েছে।

তিনি বলেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হস্তক্ষেপের ফলে ইয়েমেন এখন বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক দুর্যোগ প্রত্যক্ষ করছে। জাতিসংঘের হিসাবে, ১০০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে দুর্ভিক্ষের সবচেয়ে গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে ইয়েমেন। ইতোমধ্যেই ক্ষুধার কবলে পড়েছে দেশটির এক কোটি ৪০ লাখ মানুষ। গত কয়েক বছরে ক্ষুধার যন্ত্রণায় প্রায় ৮৫ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই যুদ্ধ চলতে থাকলে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করবে আরও লাখ লাখ মানুষ। মানবিক সংকটের বাইরে এই যুদ্ধ আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও একটি দুর্যোগ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। উপরন্তু কংগ্রেস এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে অংশগ্রহণের অনুমোদন দেয়নি। সুতরাং এটি অসাংবিধানিক।

বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, কংগ্রেসের উচিত তার ‘ওয়ার পাওয়ার রেজুলেশন’-এর অধীনে তার ক্ষমতা প্রয়োগ করা এবং ইয়েমেনের এই যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়া। গত ডিসেম্বরে সিনেট এই একই প্রস্তাব পাস করে ইতিহাস তৈরি করেছে।

বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, ইয়েমেনে মানবিক বিপর্যয়ের মাত্রা আরও খারাপ হয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনও হস্তক্ষেপ অসাংবিধানিক। সিনেটের পর প্রতিনিধি পরিষদেও বিলটি পাস হওয়ার ব্যাপারে আমার আত্মবিশ্বাস রয়েছে।

উল্লেখ্য, ট্রাম্পের ভেটো উপেক্ষা করে প্রস্তাবটিকে কংগ্রেসে পাস করাতে হলে দুই কক্ষেই দুই তৃতীয়াংশ ভোট নিশ্চিত করতে হবে ডেমোক্র্যাটদের। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও সিনেট এখনও রিপাবলিকানদের দখলে। সিনেটের অনেক রিপাবলিকান সদস্যও আগ্রাসনে মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতার বিরোধী। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই প্রস্তাব যথার্থ নয়। কেননা, ইয়েমেন যুদ্ধে মার্কিন বাহিনী শুধু বিমানের জ্বালানি ও অন্য সহায়তা দিচ্ছে, তারা সরাসরি যুদ্ধ করছে না।

ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে, প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে তা সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এর ফলে জঙ্গিবাদের বিস্তার রোধে মার্কিন সক্ষমতা ক্ষুণ্ন হবে। তবে ইয়েমেনে সৌদি জোটের সামরিক আগ্রসনকে মানবিক বিপর্যয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here