যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা প্রসঙ্গে

110

যুক্তরাষ্ট্র অদ্যাবধি একটি শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক, সভ্য ও গণমানুষের অধিকারের রক্ষাকবচ হিসাবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। আজও স্ট্যাচু অব লিবার্টি বিশ্বব্যাপী স্বাধীনতাকামী ও উন্নত জীবনের প্রত্যাশাকামীদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। সুতরাং বাংলাদেশ থেকে শুরু করে পৃথিবীর প্রত্যেকটি রাষ্ট্র থেকেই মানুষ বিভিন্ন কারণে এ দেশে আশ্রয়প্রার্থী হচ্ছেন। রাজনৈতিক, সামাজিক কোন বিশেষ গোত্র বা গোষ্ঠী হিসেবেই হোক, বা ডোমেস্টিক ভায়েলেন্সের শিকারই হোক, মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় প্রার্থনা করছেন। এ প্রসঙ্গে সম্যক প্রাথমিক ধারণা দেয়াই এ লেখার উদ্দেশ্য।
প্রথমত, কোন আইনজীবী বা অন্য কোন ফরম প্রস্তুতকারী বা কোন ল ফার্ম একজন আবেদনকারীকে কোনো গ্যারান্টি দিতে পারবেন না যে- আপনার আবেদন মঞ্জুর হবে।
দ্বিতীয়ত, আপনার সব ঘটনাবলি সত্য, ভালো আইনজীবী থাকা স্বত্ত্বেও আবেদন না-মঞ্জুরও হতে পারে। আবার ভালো লিগ্যাল রিপ্রেজন্টেশন ছাড়াও ইমিগ্রেশন অফিসারের বিশ্বাসযোগ্য হওয়ার কারণে আপনার আবেদন মঞ্জুর হতে পারে।

তৃতীয়ত, আবেদনসমূহ প্রথমত সার্ভিস সেন্টারেই প্রেরণ করা হয়। সেখান থেকেই একজন আবেদনকারীকে প্রাথমিক ইন্টারভিউর জন্য ডাকা হয়। প্রাথমিক ইন্টারভিওতে ইমিগ্রেশন অফিসার প্রশ্নাবলি ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদনকারীকে ডাকেন।
প্রাথমিক ইন্টারভিউতে আবেদনকারী যদি এ মর্মে ইমিগ্রেশন অফিসারকে সন্তুষ্ট করতে সক্ষম হন যে, আবেদনকারীর জীবন বা স্বাধীনতা অথবা উভয়ই তাঁর স্বদেশে নিরাপদ নয়, কিংবা স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আবেদনকারী সমূহ হুমকির সম্মুখীন হতে পারেন, সেক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন অফিসার তাঁর কাছে প্রদেয় তথ্য, উক্তি, যাবতীয় সাক্ষ্য-প্রমাণাদি যাচাই সাপেক্ষে ইচ্ছা করলে তাৎক্ষণিক আবেদন মঞ্জুর করতে পারেন। আবার আবেদনে কিছুটা বিশ্বাসযোগ্যতা থাকলে আবারো ব্যাপক অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছায়ের জন্য আবেদনটি ইমিগ্রেশন জাজের কাছে পাঠাতে পারেন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রশাসনিক নির্দেশনামা মোতাবেক Asylum এপ্লিকেশনসমূহ Last come First Service ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। ফলে ক্ষেত্র বিশেষে আবেদনের ২/১ মাসের মধ্যেই ইমিগ্রেশন অফিসে ইন্টারভিউ হয়ে যেতে পারে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২/১ মাসের মধ্যে ইন্টারভিউ হয়ে আবেদনকারীর আবেদন প্রত্যাখান করেও নোটিশ দিতে পারেন। তবে সাধারণ রুল হচ্ছে- আবেদন বাতিল করে আবেদনকারীকে আদালতে সোপর্দ করা। ইমিগ্রেশন আদালতে নির্ধারিত জাজের মামলার পরিমাণের ওপর নির্ভর করে মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারিত হয়। বর্তমানে পরবর্তী হিয়ারিং পাওয়ার জন্য ২/৩ বছরও অপেক্ষা করতে হয়। ইমিগ্রেশন কোর্টে সাধারণত ২ থেকে ৩টি তারিখ পড়ে। প্রথমে মাস্টার হিয়ারিং ও ফাইনাল ইন্ডিভিজুয়াল হিয়ারিং। তবে, আবেদনকারী বা তাঁর আইনজীবী প্রস্তুত না থাকলে Last come First Service হিয়ারিংয়ের তারিখ পেছানো যেতে পারে।

আইনজীবীদের ফি নির্ভর করে মামলার জটিলতা এবং আইনজীবীর পেশাগত অভিজ্ঞতার ওপর। তবে, অসত্য, ভুয়া, মিথ্যা মামলা দাখিল, ভুয়া ও বেনামে Asylum ফাইল করা দণ্ডনীয় অপরাধ।

লেখক পরিচিতি : এই প্রবন্ধটির লেখক মোহাম্মদ এন মজুমদার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং নিউইয়র্কস্থ টরো ল সেন্টার থেকে আইনে এলএলএম ডিগ্রিধারী, তিনি নিউইয়র্কস্থ একটি ল ফার্মে ১৯৯৯ সাল থেকে কর্মরত আছেন। এ ছাড়াও তিনি নিউইয়র্কের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি ব্রঙ্কস প্লানিং বোর্ড-৯ এর সদস্য ফাস্ট ভাইস চেয়ারম্যান এবং ল্যান্ড এন্ড জোনিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ১৯১০ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উপরোক্ত লিখাটি লেখকের সুদীর্ঘকালের ল ফার্মে কর্ম অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ল স্কুলের শিক্ষা থেকেই লিখা। এটিকে লিগ্যাল এডভাইজ হিসেবে গ্রহণ না করে আপনাদের নিজ নিজ আইনজীবীর সহযোগিতা নিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here