‘জলবায়ু নয়, রাজনীতি পরিবর্তন কর’ লেখা ব্যানার নিয়ে আন্দোলনে নেমেছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীর

8

ঠিকানা অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা : ‘জলবায়ু নয়, রাজনীতি পরিবর্তন কর’ লেখা ব্যানার নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আন্দোলনে নেমেছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ক্লাসে না গিয়ে রাজপথে বিক্ষোভ করেছে তারা।

১৬ বছরের সুইডিশ শিক্ষার্থী গ্রেটা থানবার্গ জলবায়ু পরিবর্তন রোধ করার জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে গত আগস্টে তিনি এককভাবে যে ধর্মঘট শুরু করেছিলেন, তা এখন ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের শতাধিক দেশে। তার ওই একক আন্দোলন এখন রূপ নিয়েছে বৈশ্বিক শিক্ষার্থী ধর্মঘটে। শতাধিক দেশের শিক্ষার্থীরা গ্রেটা থানবার্গের আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে ধর্মঘট পালন করেছেন। এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতেও গত শুক্রবার শিক্ষার্থীরা ধর্মঘট পালন করেন। তারা স্কুল ছেড়ে বেরিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন রুখে দেয়ার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

সুইডেন ও বেলজিয়ামের পর এবার লন্ডনে শিক্ষার্থীরা পার্লামেন্ট স্কয়ার,অক্সফোর্ড, ডাউনিং স্ট্রিট, ম্যানচেস্টার ও অন্যান্য স্থানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে। ‘জলবায়ু নয়, রাজনীতি পরিবর্তন কর’ সম্বলিত ব্যানার উত্তোলন করে স্লোগান দেন তারা। ফ্রান্সের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সামনে জড়ো হয় শতশত শিক্ষার্থী। প্রতি বছর কমপক্ষে ৪ ভাগ গ্রীন হাউস গ্যাস নিঃসরণের স্লোগান দেন তারা। বিক্ষোককারীরা বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবেন তারা।

পরিবেশ আন্দোলনকারীদের দাবি, জলবায়ু পরিবর্তন রোধে পদক্ষেপ নেয়ার দাবিতে ডাকা ধর্মঘটে যোগ দিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ১৪ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী। যার মাধ্যমে আন্দোলনের সূত্রপাত, সেই গ্রেটা থানবার্গ বলেন, আমরা প্রমাণ করেছি যে, পরিবর্তন ঘটানোর জন্য কেউই ছোট না। আর আপনি যা করছেন, অবশ্যই সেটি বড় বিষয়।

গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন রোধে সবচেয়ে বড় ছাত্র ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়েছে গত শুক্রবার। এদিন বিশ্বের ১২৮টি দেশের ২ হাজার ৩৩টি শহরে শিক্ষার্থীরা জলবায়ু আন্দোলনে যোগ দেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্সসহ প্রভাবশালী সব দেশেই শিক্ষার্থীরা জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ত্বরিৎ পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আন্দোলন করেছেন। তারা আহ্বান জানিয়েছেন, বিশ্বনেতারা যেন জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি কমানোর জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। পরবর্তী ধর্মঘটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ই এপ্রিল।

শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। জাতিসংঘর নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএনউইমেন গ্রেটা থানবার্গের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছে। নিজস্ব টুইটার অ্যাকাউন্টে দেয়া এক বার্তায় সংস্থাটি বলেছে, টেকসই ভবিষ্যতের জন্য আমাদের তরুণ প্রজন্মের কথা শোনা দরকার। থানবার্গই তার প্রমাণ। অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক উইনি বিয়ানিয়ামা বলেন, শিক্ষার্থীদের স্কুল ছেড়ে বেরিয়ে আসার অর্থ হলো আমরা ব্যর্থ হয়েছি।

কিছু রাজনীতিবিদ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সমর্থন করলেও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র মতো অনেক রাজনীতিবিদ শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। থেরেসা মের মুখপাত্র বলেন, ‘সবাই চায় তরুণরা এই ইস্যুর সঙ্গে জড়িত হোক, কারণ তারাই এর দ্বারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে, আমরা সকলের জন্য সুন্দর ভবিষ্যত গড়তে কাজ করছি। কিন্তু শিক্ষা গ্রহণের সময়ের অপচয় সম্পর্কেও শিক্ষকদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।’ থেরেসার এই মন্তব্যের সমালোচনা করে থানবার্গ টুইটে লেখেন, ‘ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জনকে শিক্ষা গ্রহণের সময়ের অপচয় বলছেন। কিন্তু রাজনীতিবিদরা পদক্ষেপ গ্রহণে ৩০ বছর অপচয় করে ফেলেছেন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here