ব্যাংকরাপসির মাধ্যমে দেনার দায় থেকে অব্যাহতি প্রসঙ্গে

9

দেনা পরিশোধে অক্ষমতা এবং ভোক্তাদের পক্ষে ঋণ পরিশোধের অপারগতার ক্ষেত্রে ঋণ গ্রহণকারীরা যখন তাদের দেনা পরিশোধে অক্ষম হন, তখন ঋণের দায়ে জর্জরিত ব্যক্তি ব্যাংকরাপসি ফাইলিংয়ের মাধ্যমে ঋণের দায়মুক্ত হতে পারেন। ব্যাংকরাপসি ফাইলিং চ্যাপ্টার-৭, চ্যাপ্টার-১১ এবং চ্যাপ্টার-১৩, এ তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত।

যারা সাধারণত কর্মজীবী পেশাজীবী সাধারণ মানুষ, কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন, যাদের ব্যবসা কিংবা লিকুইডেবল এসেট না থাকে, তারা চ্যাপ্টার-৭ ব্যাংকরাপসি ফাইলিং করতে পারেন। চ্যাপ্টার-৭ ফাইলিংয়ের মাধ্যমে আবেদনকারীরা সব ধরণের দেনার দায় থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন। এতে আবেদনকারী তার বসতবাড়ি এবং চলাফেরা করার জন্য একটি গাড়ি রাখতে পারেন। তবে ব্যাংকরাপসি ফাইলিংয়ের মাধ্যমেও কিছু কিছু দেনার দায় থেকে অব্যাহতি পাওয়া যায় না। যেমন : স্টুডেন্ট লোন, চাইল্ড সাপোর্ট, আলামনি ও কতিপয় সরকারি পাওনা ব্যাংকরাপসির মাধ্যমে মওকুফ পাওয়া যায় না।
সুতরাং, ব্যাংকরাপসি ফাইলিংয়ের আগে এ বিষয়ে বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেয়া অত্যাবশ্যক। উল্লেখ্য, সরকারি পাওনার আওতায় পড়ে লটারি কেলেঙ্কারির পাওনাও।
যাদের নামে বাড়ি আছে, তথা বসতবাড়ি আছে, তাদেরও দেখতে হবে বাড়িতে ইক্যুইটির পরিমাণ কতো। যেমন, বাড়ির দাম বা বর্তমান মূল্য (-) লোন এমাউন্ট = ইক্যুইটি। আবার ইক্যুইটির একটি অংশ দায়ের অব্যাহতিযোগ্য। সুতরাং বাড়ির মালিকরাও ব্যাংকরাপসির মাধ্যমে দেনার দায়মুক্ত হতে পারেন। তবে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
ব্যাংকরাপসি ফাইলিংয়ের মাধ্যমে আপনার ক্রেডিট স্কোর ডাউন হলেও, সেই ক্রেডিট স্কোর পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ ব্যাংকরাপসি কোডের সংশোধিত আইনসমূহ আবেদনকারীদের পক্ষে। সুতরাং দেনার দায়ে জর্জরিত কোন ব্যক্তি ঋণ পরিশোধে অক্ষম হলে ব্যাংকরাপসি ফাইলিংই উত্তম। যারা একবার ব্যাংকরাপসি ফাইল করেছেন, তারা পরবর্তী ৭ বছর পর্যন্ত পুনরায় ব্যাংকরাপসি করতে পারবেন না। তবে, ৭ বছর পর ফের ব্যাংকরাপসি ফাইল করতে পারেন।

ব্যাংকরাপসি ফাইলিংয়ের সময় আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ রাখতে হবে, সেটি হচ্ছে- যাদের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো মিটিগেশনান বা মামলা রয়েছে, তারা বিশেষ করে যাদের দুর্ঘটনার মামলার রয়েছে, তাদের প্রাপ্ত অর্থ ব্যাংকরাপসির আওতাভুক্ত হতে পারে। এছাড়া ট্যাক্স রিটার্নের প্রাপ্ত টাকাও ব্যাংকরাপসির আওতায় হতে পারে।
ব্যাংকরাপসি সংক্রান্ত আরো মৌলিক তথ্য জানতে চাইলে কল করুন ৯১৭-৫৯৭-৬৩৪৯ নম্বরে।

লেখক পরিচিতি : এই প্রবন্ধটির লেখক মোহাম্মদ এন মজুমদার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং নিউইয়র্কস্থ টরো ল সেন্টার থেকে আইনে এলএলএম ডিগ্রিধারী, তিনি নিউইয়র্কস্থ একটি ল ফার্মে ১৯৯৯ সাল থেকে কর্মরত আছেন। এ ছাড়াও তিনি নিউইয়র্কের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি ব্রঙ্কস প্লানিং বোর্ড-৯ এর সদস্য ফাস্ট ভাইস চেয়ারম্যান এবং ল্যান্ড এন্ড জোনিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ১৯১০ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উপরোক্ত লিখাটি লেখকের সুদীর্ঘকালের ল ফার্মে কর্ম অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ল স্কুলের শিক্ষা থেকেই লিখা। এটিকে লিগ্যাল এডভাইজ হিসেবে গ্রহণ না করে আপনাদের নিজ নিজ আইনজীবীর সহযোগিতা নিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here