H-1B ভিসার প্রিমিয়াম প্রসেসিং বিদেশি ছাত্রের জন্য ভরসা নয়, বরং ভয়ের

12

মঈনুদ্দীন নাসের : ইউএসসিআইএস যে কারবার শুরু করেছে তাতে ১ এপ্রিল H-1B ভিসা ফাইলিংয়ের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে নতুন জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। ইমিগ্রেশন পরামর্শক ও ইমিগ্রেশন এটর্নিরা বলেছেন, ইমিগ্রেশন বিভাগ হঠাৎ করে যে প্রিমিয়াম প্রসেসিংয়ের ঘোষণা দিয়েছে, তাতে অনেক আবেদনকারীই H-1B ভিসার সুযোগ নিতে পারবে না। এতে প্রধানত প্রভাব পড়বে আন্তর্জাতিক ছাত্রদের ওপর, যারা স্টাটাস পরিবর্তন করে H-1B ভিসা পেতে চায়, যাতে তারা আমেরিকায় ছাত্রত্ব শেষ করে নতুন ক্যারিয়ার শুরু করতে পারে।

গত ১৯ মার্চ ইউএসসিআইএস বা ইমিগ্রেশন বিভাগ প্রিমিয়াম প্রসেসিং (বা অধিক অর্থ দিয়ে দ্রুত প্রসেসিং)-এর জন্য নতুন প্রক্রিয়ার ঘোষণা করেছে। ঘোষণায় বলা হয়- ২০২০ অর্থ বছরে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের জন্য আগামী ১ এপ্রিল H-1B ভিসা আবেদনকারীরা একজন নন-ইমিগ্র্যান্ট ওয়ার্কার হিসেবে ও-১২৯ ফর্মে আবেদন করার সময় একই সাথে প্রিমিয়াম প্রসেসিংয়ের জন্য ফর্ম ১-৯০৭-ও পূরণ করতে পারবে। H-1B ভিসার ডাটা এন্ট্রিকে প্রাধান্য দেয়ার স্বার্থে H-1B ক্যাপশনে আবেদন খুব শীঘ্রই প্রিমিয়াম প্রসেসিংয়ের জন্য নেয়া হবে না। তবে বলা হয়েছে- ইমিগ্রেশন বিভাগ ২০১৯ সালের ২০ মে-র মধ্যে এই প্রিমিয়াম প্রসেসিং শুরু করবে। এ বিষয় প্রসেসিং শুরুর আগে জনগণকে জানানো হবে।

প্রিমিয়াম প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে কোনো আবেদনের সিদ্ধান্ত ১৫ দিনের মধ্যে জানানো হবে। তবে তার জন্য অতিরিক্ত ফি দিতে হবে ১,৪১০ ডলার। এটি গুরুত্বপূর্ণ যে, প্রিমিয়াম প্রসেসিং ছাড়া H-1B মামলার সিদ্ধান্ত দিতে ১০ থেকে ১৩ মাস সময় লাগে।

আর এ নতুন প্রক্রিয়ার কারণে অনেক মামলা ডিল করছে এমন ল’ অফিসকে সমস্যায় ফেলে দেয়া হয়েছে যে তা নয়, তাতে স্বাভাবিকভাবে যারা প্রিমিয়াম সার্ভিসের সুযোগ নিতে পারবে না, তাদেরকে আরো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। এ ঘোষণা দিতে সর্বশেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করে কতিপয় আবেদন প্রিমিয়াম প্রসেসিং এবং বাকি আবেদন স্বাভাবিক প্রসেসিংয়ে ঠেলে দিয়ে এ কর্মসূচির সুযোগ গ্রহণকারীদের কেলেঙ্কারীর দিকে ঠেলে দিয়েছে। শত শত আবেদন চূড়ান্ত কোয়ালিটি কন্ট্রোলের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে, সেগুলোকে বাছাই করতে হবে, পুনরায় খুলতে হবে, নতুন ফর্ম যোগ করতে হবে এবং পরিশেষে তৈরি করে ভিন্ন ঠিকানার পাঠাতে হবে।

হাস্যকর বিষয় হলো, এর বেশি প্রভাব অনুভ‚ত হবে তাদের ক্ষেত্রে, যারা এ নতুন প্রক্রিয়ার উপকারিতা নিতে ইচ্ছুক। কারণ ইমিগ্রেশন লটারির মাধ্যমে H-1B ভিসা বাছাই করতে চায়। বিশেষ করে আমেরিকায় গ্র্যাজুয়েট করা আন্তর্জাতিক ছাত্ররা সমস্যায় পড়বে। অধিকাংশ H-1B ভিসা কর্মসূচির আবেদনকারীরা আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট। তারা চাইবে, শুরুতে তাদের আবেদন প্রিমিয়াম প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে প্রসেস হোক। কারণ প্রিমিয়াম প্রসেসিং ই-মেইলে আবেদনের রিসিপ্ট পাঠাবে। যেসব ছাত্রের H-1B লটারিতে নাম উঠবে, তাদের কাছে তা হবে চাকুরির মতোই গুরুত্বপূর্ণ। অথবা তাদের কাছে তা ডায়াগনোস্টিক টেস্টের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। আর তারা রেজাল্ট জানা পর্যন্ত থাকবে চনমনে। মেইল করা আবেদন দু’সপ্তাহ বিলম্ব হয়ে থাকে ই-মেইল আবেদন থেকে। আর তা উল্লেখযোগ্য হারে বেনিফিসিয়ারীদের জন্য তারতম্যের সৃষ্টি করে।

অন্যান্য ইমিগ্রেশন এটর্নি একই সমস্যা দেখে। তারা মনে করে, হাজার হাজার আবেদনকারী পুনরায় এটর্নির শরণাপন্ন হবে প্রিমিয়াম প্রসেসিংয়ের জন্য। আর তাতে এ আবেদন সাবমিট করার পর পুনরায় তা প্রসেস করার জন্য খুলতে হবে। আর এ কথা সত্য যে, ছাত্ররা প্রিমিয়াম প্রসেসিং করতে চাইবে। কারণ তা তাদের জন্য মনের শান্তির মতো। আর অনেকে উদ্বিগ্ন এ কারণে যে, তাতে অনেক আন্তর্জাতিক ছাত্রকে এভিডেন্সের অনুরোধ করা হবে। আর এজন্য যে সময় দরকার তাতে শুরু হয়ে যাবে ‘নোটিস টু এপিয়ার’ অর্থাৎ এ দেশ থেকে বিতাড়নের প্রক্রিয়া। যদি ছাত্ররা সব সময় যে তাদের নন-ইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাস বজায় রেখেছে, সে খতিয়ান দিতে না পারে, তাহলে অবস্থা হবে গুরুচরণ।

আবার H-1B নিয়োগকর্তার ডাটা ঘর বানানো ভালো নয় বলে অনেকে মনে করেন। আর ডাটা ঘর নির্মাণ বা (ডাটা হাব) যদিও উপকারী তথ্য জোগাবে, তারপরও তাতে ইমিগ্রেশনবিরোধী সেন্টিমেন্টও জাগিয়ে দেবে। আর তাতে মনে হয়, যারা বিদেশি কাজে নিয়োগ দেবে, তাদের ওপর নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী পড়বে। কাজেই আন্তর্জাতিক ছাত্রদের জন্য নতুন ঘোষণা সুখের চাইতে দুঃখ বেশি বয়ে আনবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here