সত্ত্বা বিকিয়ে দেয়া মানুষের কলমে কবিতা তৈরি হয় না

ঠিকানাকে দেয়া আল মাহমুদের অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকার

81
মৃত্যুর কিছুদিন আগে ঠিকানার পক্ষ থেকে কবি আল মাহমুদের সাক্ষাতকার নেন মোস্তফা মহসীন।

‘সোনালী কাবিন’র কবি আল মাহমুদ তার অপ্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে বলেন- আমার জীবন হলো স্থপতি জীবন। কবিতা কারো হুকুমে লেখা হয় না।

কবিতা স্বাধীন। কোনো স্বত্তা বিকিয়ে দেয়া মানুষের কলমে কখনো কবিতা তৈরি হয় না, যা আসে তা আবর্জনা! আমি আর্থিক প্রাপ্তির মোহ উপেক্ষা করে আজীবন কবিতার খাতার মনোযাগী হয়েছি। বেলাশেষে আমিও পরিতৃপ্ত যে, আমার পাঠকরা আমাকে খালি হাতে যেতে দেননি। বাংলা কবিতার পাঠকেরা আমার দুটি হাত সোনা-হিরা-জহরতে ভরিয়ে দিয়েছেন।

সব একটু একটু করে পাশ কাটিয়ে আমি বিস্মৃতি অতিক্রম করে চলে যাচ্ছি। জীবনের চাওয়া-পাওয়া, তৃপ্তি-অতৃপ্তি বিষয়ে বরাবরের মতোই আল মাহমুদের স্পষ্ট উক্তি- আমি মানুষ। মানুষের অতৃপ্তি থাকে। কিন্তু তা আমি বাজারে বলে বেড়াই না। যা পাইনি, তা নিয়ে কোনো খেদ নেই। কারণ তা আমার ভাগ্যে ছিলো না। কিন্তু জীবনে যা পেয়েছি, তার মূল্য এতো বেশি এবং তাতে আমি এতো অবাক হয়েছি যে, কি চাওয়া পাওয়ার ছিলো- তা আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছে। মানুষ যেমন সুখে-দুঃখে কাতর হয়, ভালোবাসায় আনন্দ পায়, তেমনি আমিও সুখে-দুঃখে কাতর হয়েছি, প্রেমে আকুল হয়েছি। ভালোবাসা পেয়েছি।
সাহিত্য কর্মে প্রথমে বামপন্থার প্রকাশ এবং পরে মৌলবাদী ভাবধারা চিন্তা স্পষ্ট হওয়ার মাধ্যমে কবির মতাদর্শিক পরিবর্তন সবার কাছে স্পষ্ট হয়। স্বাধীনতা বিরোধী একটি দলের সাথে তার সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন ওঠে, তুমুল ঝড় ওঠে সেই সময়কার বুদ্ধিবৃত্তিক মহলে। কবির চিন্তা ও মতাদর্শিক পরিবর্তন অনেককে অবাক করলেও তাদের অনেকে শেষ পর্যন্ত তাকে সম্মান জানিয়ে গেছেন, সাহিত্যে তার ব্যতিক্রমী ও অনন্য সৃষ্টির কারণে। বলা হয়েছে- তাঁকে অবহেলা করা যায়, কিন্তু অস্বীকার করা যায় না!

আর জীবন-মৃত্যুর শেষ সন্ধিক্ষণে স্পষ্ট করে বলেন- তিনি একজন বিশ্বাসী মানুষ। বিশ্বাস করেন ধর্মের কল্যাণকর রূপ, আর এর উপাসনা। কবি তখন মোটামুটি সুস্থ। কয়েকদিন আগে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল থেকে ফিরেছেন। কবির মগবাজারের বাসায় সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করা হয়। ঠিকানার পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন তরুণ কবি মোস্তফা মহসীন।

ঠিকানা : বাংলা কবিতার অনেক পাঠক আপনাকে কবিতার বরপুত্র মনে করে। আপনার প্রতি মানুষের এই যে ভালোবাসা- তাকে কিভাবে দেখেন।

আল মাহমুদ : বাহ! বিষয়টি আমি এনজয় করি। আমিও তো ভালোবাসি। মানুষকে যেহেতু আমি ভালোবেসে মানুষ, আমি তা-ই বিনিময় দিতে চেষ্টা করি।

ঠিকানা : সাহিত্যচর্চা করে আপনি এই জীবনে যা পেয়েছেন, তাতে কি আপনি পরিতৃপ্ত?

আল মাহমুদ : আমিতো কম পাইনি! যথেষ্টই পেয়েছি। একজন মানুষ এক জীবনে এতো পায় না। আমি এ জন্য কৃতজ্ঞ আমাদের দেশ ও জনগণের কাছে। আমার পরিচিত বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন সবার কাছে। আমার পরিবেশের কাছে, প্রকৃতির কাছে। আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় আমি সামান্য লেখাপড়া জানা মানুষ, আমি বাংলা কবিতার সূর্য ছুঁয়েছি, বেলাশেষে এটা পরিতৃপ্তির বিষয়।

ঠিকানা : আপনি ভাষা আন্দোলনও করেছেন। ছোট ছিলেন তখন। কিশোর বয়সে ১০ লাইনের একটি কবিতা লেখার কারণে পুলিশ আপনার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করেছিলো।

আল মাহমুদ : হ্যাঁ, পুলিশ হুলিয়া জারি করেছিলো।

ঠিকানা : সেই সময় আপনার ভ‚মিকা সম্পর্কে জানাতে চাই। এতো ঝুঁকি কিশোর বয়সে কিভাবে নিয়েছিলেন?

আল মাহমুদ : যেহেতু কবিতাই আমি করতাম। কাব্যচর্চার ভেতরেই বড় হয়েছি। আর আমার সাথে যারা ছিলেন, তারা সবাই সাহসী মানুষ ছিলেন। অনেক সাহসী মানুষ ছিলেন তারা! তাদের মনোবল থেকেই আমার মনে সাহস সৃষ্টি হয়েছে। আমি কোনো কিছু করলে দৃঢ়তার সাথে করেছি। কিছু বললে সেই বলার একটা কার্যকারণ, সম্পর্কসূত্র থেকেছে। এখনো তাই করি।

ঠিকানা : এই চেতনা থেকেই কি আপনি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন?

আল মাহমুদ : হ্যাঁ। আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। আমি তখন কলকাতায় ছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের জন্য যে প্রচারণার দরকার ছিলো, তাতে আমি অংশগ্রহণ করেছি।

ঠিকানা : মুক্তিযুদ্ধের এই অভিজ্ঞতা নিয়েই তো আপনি ‘কাবিলের বোন’ লিখেছেন। অনেকের মতে, মুক্তিযুদ্ধের ওপর এটা ভালো উপন্যাস। বাংলা ভাষায় মুক্তিযুদ্ধের ওপর ভালো লেখা কমই আছে, এটা এদের মধ্যে অন্যতম ভালো উপন্যাস।

আল মাহমুদ : শুধু মুক্তিযুদ্ধ বলছো কেনো? বাংলা সাহিত্যে উপন্যাস জগতের মধ্যে ‘কাবিলের বোন’ একটা ভালো উপন্যাস। একেবারে পরিপূর্ণ উপন্যাস। উপন্যাসের যে আঙ্গিক, রীতি, স্থাপত্য কৌশল- এসব পুরোপুরি মেনে কাবিলের বোন লিখেছি আমি। এর প্রশংসাও আছে। সমালোচনাও আছে। সমালোচনা যে নেই তা নয়, কিন্তু আমি যে প্রশংসা পেয়েছি, তা অল্প বাঙালি লেখকই পেয়েছেন। আমার লেখার জন্য জীবিতকালে আমি সম্মান কমতো পাইনি। আমার কোনো নালিশ নেই কারো বিরুদ্ধে।

ঠিকানা : সমকাল তার কোনো লেখককেই সম্ভবত মর্যাদা দেয়নি!

আল মাহমুদ : হ্যাঁ, তা ঠিক।

ঠিকানা : কলকাতায়ও আপনার বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছ। বাংলাদেশের খুব কম কবি এ সৌভাগ্যের অধিকারী।

আল মাহমুদ : কলকাতাতে আমি ছিলাম তো অনেক দিন। মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় আমি কলকাতায় ছিলাম। আমার সাহিত্যের জন্য কলকাতা আমাকে আগে থেকেই চিনতো।

ঠিকানা : কলকাতায় আপনার লেখা নিয়ে ছবি হয়েছে।

আল মাহমুদ : হ্যাঁ। ‘জলবেশ্যা’ নিয়ে। তারা আমার অনুমতি নিয়েই এটা করেছে।

ঠিকানা : এই ছবিকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করছেন।

আল মাহমুদ : ‘জলবেশ্যা’ আমি দেখিনি। আমি আশঙ্কা করেছিলাম বেশ অদল-বদল হবে। কিন্তু আমি শুনেছি, খুব একটা অদল-বদল হয়নি।

ঠিকানা : আপনিতো ছড়াও লিখেছেন এবং তাতে সফলও হয়েছেন। আবার ’৭১-এর পরে গল্পও লিখেছেন এবং সেখানেও সফল হয়েছেন।

আল মাহমুদ : এটা একজন লেখকের স্বাভাবিক কর্ম। ছোট গল্প আমি আগে থেকেই লিখতাম। কমবেশি লিখতাম। সেসব দুই খণ্ড বেরিয়েছে।

ঠিকানা : অনেকেই বলে থাকেন আপনার একটা বাঁক বদল হয়েছে। বিশ্বাসের বাঁক বদল। জাসদের মুখপত্র ‘গণকণ্ঠ’ সম্পাদনা করেছেন। কিন্তু আরাধ্য বিপ্লব সফল হলো না!

আল মাহমুদ : কবিদের ক্ষেত্রে এটা স্বাভাবিক ঘটনা। এমনিতেতো আর বদলায় না মানুষ! আমি পড়াশুনার মধ্য দিয়ে এসেছি। ব্যাপক পড়াশুনা করেছি। ব্যাপক পড়াশোনা, দেশ-বিদেশে ভ্রমণ, নানা কারণেই এটি হয়েছে। আমি ইউরোপ গিয়েছি। ফ্রান্সের প্যারিসের রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়েছি। ফুটপাথ ধরে হেঁটেছি। দেখেছি, পেঁজা তুলার মতো তুষারপাত হচ্ছে! আর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব এ দেশে সফল না হবার কারণ, এ দেশের সাধারণ মানুষ ধর্মের প্রতি সহানুভূতিশীল। এ কারণে রব-জলিলদের চেষ্টাটা সফল হয়নি।

ঠিকানা : মৃত্যুকে আপনি কিভাবে দেখেন?

আল মাহমুদ : মৃত্যুকে আমি আমার ধর্মীয় চেতনা থেকে দেখি। আমি বিশ্বাস করি মৃত্যুর পরেও জীবন আছে। সেই জীবনে আমি থাকবো।

ঠিকানা : সেই জীবনে আপনার চাওয়া কি?

আল মাহমুদ : হ্যাঁ, স্বস্তিকর জীবন। শান্তির জীবনের অকাক্সক্ষা। মৃত্যুর পর কী হবে, তা তো আর জানা যায় না! তবে আমি এটুকু বলতে পারি, মৃত্যুতে আমার জীবন শেষ হবে না। মৃত্যুর পরও আমার জীবন আছে। সেখানে আমার সময় অতিক্রান্ত হবে। আমি ভালো যা করেছি, তার জন্য সেখানে আমি পুরষ্কৃত হবো। আর মন্দ যা করেছি, তার জন্য আল্লাহ যদি মাফ করে দেন, তাহলেতো আর কোনো কথাই নেই।

ঠিকানা : আপনার সাহিত্য সম্পর্কে মূল্যায়ন করুন।

আল মাহমুদ : আমি গল্প, উপন্যাস, কবিতা, ছড়া, প্রবন্ধ লিখেছি। এর সংখ্যা অনেক, একেবারে কম না। খণ্ড খণ্ড হলেও ১০ খণ্ড হবে। বেশ মোটা। এই যে লিখেছি, বিরামহীনভাবে লিখেছি। চোখে দেখি না, শরীর খারাপ, এখন আর লিখতে পরি না। চিন্তাভাবনা না করে গল্প লেখা যায় না। গভীর চিন্তা, মানুষকে ভালো করে দেখা, মানুষের জীবনকে ব্যাখ্যা করা, মানুষের আত্মাকে বর্ণনা করা- এটাতো আমি করেছি। আমি যতোটুকু পেরেছি করেছি।

ঠিকানা : আপনি গান কেনো লিখেননি?

আল মাহমুদ : কথাটাতো ঠিক! কারণ আমার জন্ম হয়েছে যেখানে ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা, এটি আসলে তো গানের এলাকা। বহু বড় বড় ওস্তাদের জন্ম হয়েছে সেখানে। আমার সমসাময়িক একজন বড় সঙ্গীতজ্ঞ, নাম বাহাদুর হোসেন খাঁ। তার সাথে আমার দেখা হয়েছে। কথাও হয়েছে। বেশিদিন আমরা একসাথে থাকতে পারিনি। কারণ পরে তিনি চলে গেলেন কুমিল্লায়। বাহাদুর হোসেন খাঁ, তার পরিবারের লোকজন আমার ক্লাসমেট ছিলো। যেমন, রাজা হোসেন খাঁ। এরা হলো সঙ্গীতের পরিবার। এদের ছেলেমেয়েরা আবার অন্যরকম। ঠিক আমাদের মতো না। তারা যন্ত্রে পারদর্শী। যদি আমি কবিতা না লিখতাম, তাহলে আমি মিউজিশিয়ান হতাম। গানের লোক হতাম। শিল্পী হতাম কি না, জানি না! কিন্তু গান আমার বিষয় হতো।

ঠিকানা : আপনার কোনো অতৃপ্তিবোধ আছে? জীবনে কোনো কিছু পাননি বা যেমন কারো থাকে, ও রকম হতো পারলে ভালো হতো?

আল মাহমুদ : আমিতো মানুষ। আর মানুষের অতৃপ্তিতো থাকেই। অতৃপ্তি আছে আমার অনেক বিষয়ে। সেটি আমি বাজারে বলে বেড়াই না।

ঠিকানা : দু’য়েকটা বলবেন?

আল মাহমুদ : না। বলে বেড়াই না, কারণ যা পাইনি, সেটা পাইনি। সেটি আমার ভাগ্যে ছিলো না। আর যেটি পেয়েছি, সেটি এতো বেশি, এতো বিপুল যে, মনে হয় সেটি আমি না চাইতেই পেয়েছি। আশা করিনি, কিন্তু আমি পেয়ে গেছি! এই আর কি!

ঠিকানা : এই দেশে কিছু প্রগতিমনা সমালোচক আছেন, যারা আপনার ‘সোনালী কবিন’র পরে কোনো সাহিত্যকীর্তি আছে বলে স্বীকার করেন না!

আল মাহমুদ : কারা তারা? তারা আমাকে অস্বীকার করতে পারে, আমার কবিতাকে অস্বীকার করতে পারে না। আমি আল মাহমুদ তো আজ আছি, কাল থাকবো না! কিন্তু আমার কবিতা? চিরকাল থাকবে। কবিতা আমাকে বাঁচিয়ে রাখবে, নাকি আমি কবিতাকে বাঁচিয়ে রাখবো? কবিতাই আমার জীবন, কবিতাই আমার পরিচয়। আমিতো বলেছি, আমি শুধু কবি, আর কিছু নই।

ঠিকানা : আপনার কবিতায় নারী-শরীর খুব দারুণভাবে চিত্রিত হয়েছে। আপনার এই নারীর প্রতি প্রেমজ-কামজ আকাক্সক্ষা কিভাবে তৈরি হলো?

আল মাহমুদ : দেখো নারীতো কখনো মা, কখনো স্ত্রী, কখনো বোন- এটা সামাজিক একটা প্রেক্ষাপট। কিন্তু নারীতো শেষমেশ কারো না কারো প্রেয়সী। বিষয়টিকে আমি কবিতায় শিল্পসম্মত রূপ দিতে চেয়েছি, এতে নারীর শরীর আসবেই, শরীর আসা দোষনীয় কিছু নয়।

ঠিকানা : আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে, ঠিক কিভাবে কবিতা লিখার হাতেখড়ি আপনার?

আল মাহমুদ : খানিকটা স্মরণ করতে পারবো বোধহয়। কারণ আমি ইশকুলেই কবিতা লিখতে শুরু করেছিলাম। লুকিয়ে লুকিয়ে কবিতা লিখতাম। আমাদের বাড়িতে, যদিও খুব রক্ষণশীল ধর্মীয় পরিবার, তবু কবিতার একটা জায়গা ছিলো। কারণ আমার দাদা কবিতা লিখতেন। তাঁর নাম ছিলো আবদুল ওহাব মীর। তাঁর নানা শখ ছিলো। লড়াইয়ের মুরগি পুষতেন তিনি, আর কবিতা, জারি গান এ সব লিখতেন। সারি গান করতেন। যেমন একটা জারি গানের ধোঁয়া হলো এ রকম- ‘পত্র পাইয়া হানিফায়, পত্র পাইয়া হানিফায় শূন্যে দিল উড়া- দুই ভাই মইরা গেল কবুতরের জোড়া।’ এটা একটা ধোঁয়া। ঘুরে ঘুরে এসে এটা বলতেন। পায়ের মধ্যে ঘুঙুর বাঁধা থাকতো। এই পরিবেশে আমি কবিতা লেখার তাড়না অনুভব করি। আমি লিখি, পড়ি।

ঠিকানা : মুক্তিযুদ্ধের সময় কী কবিতা লিখতেন?

আল মাহমুদ : কেন মনে হয়, কবিতা লিখি নাই! আমার কবিতা হ্যান্ডবিলি করা হতো। প্রতিটি ক্যাম্পে ক্যাম্পে মুক্তিসেনারা আমার কবিতা পড়তেন। এটা আমার দারুণ অনুপ্রেরণা।

ঠিকানা : শুনেছি আপনার কবিতা কলকাতাতে এতোই সমাদৃত ছিলো যে, ওখানকার মেয়েরা বøাউজের ভেতর রাখতো!

আল মাহমুদ : হ্যাঁ এটা সত্যি ঘটনা। এবং আমি মনে করি, এটা একজন কবির এক জীবনের সর্বোচ্চ পাওয়া।

ঠিকানা : আপনার সময়ের কোন কোন কবির সাথে আপনার ভালো সম্পর্ক ছিলো?

আল মাহমুদ : শামসুর রাহমানের সাথে আমার বেশ ভালো বন্ধুত্ব ছিলো। সেতো চলে গেছে। শহীদ কাদরী এখন প্রবাসে থেকে মারা গেলো। আহা ফজল
শাহাবুদ্দীনও! উনিও নাই- আমরা একসাথে লিখতাম। সেই সড়কে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব।

ঠিকানা : পরবর্তী জন্মে বিশ্বাসী? সেখানে নিজেকে কি রূপে দেখতে আগ্রহী?

আল মাহমুদ : পরবর্তী জন্ম সম্পর্কে আমি সন্দিহান। তবে সেটা সত্যি হলে, আমি পরবর্তী জন্মে কবি হয়ে জন্ম নিতে চাই, শুধুই কবি!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here