শুধু মুসলিম নয়, খ্রিস্টানরাও বঞ্চিত হচ্ছে ট্রাম্পের বর্ণবাদী নীতিতে

ক্রমাগত কমছে বৈধ ইমিগ্রেশন

27


কাজী ইবনে শাকুর : প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবৈধ ইমিগ্র্যান্টের সাথে সাথে বৈধ ইমিগ্র্যান্টদেরও কমানোর প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে। অবৈধের কথা বলে তিনি বৈধদের প্রবেশাধিকারও নিষিদ্ধ করতে চান। ওভাল অফিসে পা দেয়ার সাথে সাথে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্র্যান্টদের সংখ্যা কমানোর কাজ শুরু করেন। তার প্রশাসন শুধু অবৈধ প্রবেশ করেছে এমন লোকদের পর এবার বৈধভাবে এদেশে প্রবেশের পথও বন্ধ করার পাঁয়তারা শুরু করে। শুরুতেই তার টার্গেট মুসলিম দেশ এবং রিফিউজি বন্ধ করা। এখন তিনি পরিবার ও দক্ষ জনশক্তির বিরুদ্ধে শুরু করেছেন মহড়া। অথচ তাতে কংগ্রেসের সম্মতি নেই।

ট্রাম্পের প্রথম প্রধান নীতি হচ্ছে ইমিগ্রেশন বন্ধ করা। তথাকথিত মুসলিম ট্রাভেল নিষেধাজ্ঞা। প্রেসিডেন্ট অফিস দখল করার কয়েক মাসের মধ্যেই তা বাস্তবায়িত হয়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারাভিযানে তিনিই প্রথম আমেরিকায় মুসলিম প্রবেশাধিকার বন্ধে অবস্থান নেন। অথচ মুসলিম দেশ মরক্কোই প্রথম আমেরিকাকে স্বীকৃতি দিয়েছিলো। আর ভারতের টিপু সুলতানই প্রথম জর্জ ওয়াশিংটনের কাছে ব্রিটিশ খেদানোর জন্য উপঢৌকন পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ট্রাম্প ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া ও ইয়েমেন- এ পাঁচটি দেশের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন ইমিগ্র্যান্ট প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে। নর্থ কোরিয়া ও ভেনেজুয়েলার উপরও চাপিয়ে দেয়া হয় ভিসা প্রতিবন্ধকতা। আর তা করা হয় যেনো এ কথা বলা না হয় যে, শুধুমাত্র মুসলমানদেরই নিষেধ করা হচ্ছে। আর তাতে সংবিধান লঙ্ঘন হয়েছে বলা যাবে না। তারপর মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে যেগুলোকে টার্গেট করা হয়েছে, সেসব দেশে ট্রাম্পের প্রথম দু’বছর ‘কুশাসনের’ আমলে ভিসা ইস্যু ৮৪ শতাংশ কমেছে। ইরানিদেরকে ইমিগ্রেশন ভিসা দেয়া ২০১৬ সালের ৭,৭২৭ থেকে ২০১৮ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ১,৪৪৯টি। ইয়েমেনিদের ক্ষেত্রে কমেছে ৯১ শতাংশ। এমন কি স্বল্পসময়ের জন্য ভ্রমণ ভিসাও একই পরিমাণে কমেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি ইউএস রিফিউজি কর্মসূচি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। ২০১৮ সালে মাত্র ২২ হাজার ৪৯১ জন রিফিউজি গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৬ সালে এ সংখ্যা ছিলো ৮৪ হাজার ৯৯৪। ২০১৮ সালে প্রশাসন ৪৫ হাজার রিফিউজি আনার কথা থাকলেও সেখানে মাত্র অর্ধেক আনা হয়েছে। ২০১৯ সালে বলা হচ্ছে ৩০ হাজার রিফিউজি আনা হবে, আর তা হচ্ছে ঐতিহাসিকভাবে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নেয়া সংখ্যার অর্ধেকেরও কম!
প্রশাসন শুধুমাত্র মুসলিম রিফিউজিদের ফিরিয়ে দিচ্ছে তা নয়। যদিও ট্রাম্প নির্যাতিত খ্রিস্টানদের সাহায্য করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন, তারপরও ২০১৮ সালে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মাত্র তিন ডজন খ্রিস্টান আনা হয়েছে। অর্থাৎ মাত্র একটি স্কুল বাসে বোঝাই করা যায় এমন সংখ্যা! প্রশাসন যুক্তি দেখায় যে, বিদেশেই রিফিউজিদের সহযোগিতা করা হবে। কিন্তু তা লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যাওয়ার মতো। কারণ ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট বিদেশে রিফিউজিদের সাহায্য কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

২০১৭ সালের মার্চে ভিসার আবেদন ব্যাপকভাবে স্ক্রীনিং করার জন্য প্রেসিডেন্সিয়াল স্মারক দেয়া হয়। পরে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে নয়া ফরেন এফেয়ার্স ম্যানুয়েল জারি করে স্টেট ডিপার্টমেন্ট কনস্যুলার অফিসকে ভিসা বাতিলের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়। আর তাতে অজুহাত পাবলিক চার্জ। অর্থাৎ ভবিষ্যতে যাতে সরকারি অনুদান নিতে না পারে। আর এতে ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরিতে স্ত্রী, পরিজন এবং মাতাপিতা আনার ক্ষেত্রে ইমিগ্রেন্ট ভিসা ২০১৭ সালে ২৫৪৪৩০ থেকে কমে ২০১৮ সালে আমেরিকান সিটিজেনদের পরিজন ভিসা দেয়া কমেছে ২৫ শতাংশ।

একই সময়ে ছাত্র ভিসা কমানো হয়েছে ১০৮,৭৯৯ বা ২৩ শতাংশ। বিদেশি ছাত্রদের অবৈধভাবে থাকলে ২৩৬৫২৬ তে নেমে এসেছে।

২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার স্টেট অব ইউনিয়ন বক্তৃতায় বলেছেন, আমি চাই অনেক বেশি সংখ্যক ইমিগ্র্যান্ট। কিন্তু তাদের বৈধপন্থায় আসতে হবে। কিন্তু ২ সপ্তাহ পর ইমিগ্রেশন বিভাগ এক আইন জারি করেছে, যাতে ১ লাখ সর্বোচ্চ শিক্ষিত ঐ-১ই ভিসাধারীর স্বামী বা স্ত্রীর বর্তমানে যে কাজ করার সুযোগ রয়েছে, তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কথা যা, কাজ তার উল্টো- এ হচ্ছে ট্রাম্পের আরেক নীতি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here