দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থদের অধিকারসমূহ-

15

মোহাম্মদ এন মজুমদার : আমাদের চারপাশের মানুষ প্রতিনিয়তই কোন না কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়, আঘাতপ্রাপ্ত হয় শারীরিক ও মানসিকভাবে। সেজন্য প্রত্যেক আঘাতপ্রাপ্তরই আইনানুগ ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। ক্ষতি সাধানকারী বা অপরাধী ব্যক্তি বা তার ইন্সুরেন্স কোম্পানিকে সব সিভিল মামলায় ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। অবশ্য অপরাধকারীকে রাষ্ট্র শাস্তির সম্মুখীন করেন, সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপট।
আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তি কখন, কোথায়, কিভাবে, করা ভুলের বা গাফিলতির কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হলো- এটি একটি বিবেচ্য বিষয়। এ প্রসঙ্গে প্রত্যেক ঘটনার সঙ্গেই এ বাক্যটি জড়িয়ে আছে- কেবা করিলো কাজ, কখন কোথায়, কেনোবা করিলো কাজ কে তার সহায়।’ এ একটি বাক্যই অনেক প্রশ্নের সৃষ্টি করে।

-যেমন : কারো বাসায় বেড়াতে গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হলে, আপনার অধিকার রয়েছে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে কোন প্রকার গাফেলতির জন্য মামলা করা।

-যেমন : কোন দোকানে বাজার করতে বা কোন রেস্টুরেন্টে বিনা অনুমতিতে খোলা অবস্থায় বা ব্যবসা চলাকালীন গিয়ে বাথরুম ব্যবহার করতে গিয়ে পড়ে গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হলে দোকান বা রেস্টুরেন্টর মালিকের বিরুদ্ধে গাফেলতির মামলা করতে পারেন।

-যেমন : আপনার নিজ নিজ কর্মস্থলে কর্মরত অবস্থায় আপনি যদি ক্ষতিগ্রস্থ হন, তাহলে আপনি ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। এটাকে বলা হয় ‘ওয়ার্কার কমপেনসেশান।’

সিটির অপরিচ্ছন্ন ও ভাঙা রাস্তাঘাটে পড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হলে সিটির বিরুদ্ধে মামলা করা যেতে পারে। একইভাবে পার্ক এবং স্কুলে খেলাধুলার সময় ডিফেকটিভ রাস্তা-ঘাট, পার্কে পড়েও ক্ষতিগ্রস্থ হলে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি আইনানুগ প্রতিকার পেতে পারেন।

প্লেন, ট্রাক, বিমান- সব যানবাহনই তাঁর যাত্রীদের নিরাপত্তা বিধানে বাধ্য এবং কোন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্থ হলে সেই মালিক বা সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন।
এছাড়া অনেক দুর্ঘটনা আছে, যেখানে দুর্ঘটনার মামলা এবং ওয়ার্কার কমপেনসেশানের মামলা দুটিই হতে পারে।

যেমন : কন্সট্র্যাকশান এক্সিডেন্টের কেইসসমূহ। কন্সট্র্যাকশান তথা ঘর-বিল্ডিং ইত্যাদির নির্মাণকালে দুর্ঘটনার শিকারদের প্রচুর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে নিউ ইয়র্ক স্টেটের লাইসেন্সধারী আইনজীবীর মাধ্যমে, বিশেষ করে এক্ষেত্রে যাদের দীর্ঘকালের অভিজ্ঞতা রয়েছে, সেসব ল-ফার্মের স্বরণাপন্ন হওয়া অত্যাবশ্যক।

লেখক পরিচিতি : এই প্রবন্ধটির লেখক মোহাম্মদ এন মজুমদার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং নিউইয়র্কস্থ টরো ল সেন্টার থেকে আইনে এলএলএম ডিগ্রিধারী, তিনি নিউইয়র্কস্থ একটি ল ফার্মে ১৯৯৯ সাল থেকে কর্মরত আছেন। এ ছাড়াও তিনি নিউইয়র্কের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি ব্রঙ্কস প্লানিং বোর্ড-৯ এর সদস্য ফাস্ট ভাইস চেয়ারম্যান এবং ল্যান্ড এন্ড জোনিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ১৯১০ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উপরোক্ত লিখাটি লেখকের সুদীর্ঘকালের ল ফার্মে কর্ম অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ল স্কুলের শিক্ষা থেকেই লিখা। এটিকে লিগ্যাল এডভাইজ হিসেবে গ্রহণ না করে আপনাদের নিজ নিজ আইনজীবীর সহযোগিতা নিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here