সিলেট ও ময়মনসিংহের স্কুল চ্যাম্পিয়ন

বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল

1

স্পোর্টস রিপোর্ট : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকেল ৪টা ৬ মিনিটে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে উপস্থিত হলে সবাই করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান। শেখ হাসিনা যখন মাঠে আসেন তখনও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপের ফাইনালের কোনো দলই গোলের মুখ দেখেনি। ছোট ছোট মেয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচটি দেখে আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। সেই ২০১০ সালে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ও পরের বছর শুরু হয়েছিল বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ। দুটি টুর্নামেন্টেরই চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপদের পুরস্কৃত করেছেন শেখ হাসিনা। গত ৪ এপ্রিলও তার ব্যত্যয় হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ফুটবল বাংলাদেশের মানুষের অত্যন্ত জনপ্রিয় খেলা। মাঠে-ঘাটে, একেবারে গ্রাম পর্যায়ে খেলা চলে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়েও ফুটবল দল গঠিত হয়। আমার দাদা, বাবা ফুটবল খেলতেন এবং খেলা দেখতে পছন্দ করতেন। আমি ফুটবল পরিবার থেকেই উঠে এসেছি। আমার ভাই শেখ কামাল এবং শেখ জামালও ফুটবল খেলতেন। আমার নাতি-পুতি, জয়ের মেয়ে, রেহানার ছেলে-মেয়ে সবাই ফুটবল খেলে। কাজেই এই খেলাটির প্রতি আমাদের আলাদা আন্তরিকতা আছে। গত ৪ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলে নীলফামারী সদরের দক্ষিণ কানিয়ালখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় সিলেটের জৈন্তাপুরের হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ম্যাচ জয়ের নায়ক সালমান আহমেদ। ম্যান অব দ্য ফাইনালের পুরস্কার পায় সালমান। টুর্নামেন্টের সেরা হন নীলফামারীর দক্ষিণ কানিয়ালখাতার গোলকিপার মো. আনিসুল। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন টুর্নামেন্টের তৃতীয় স্থান অর্জন করা দল রাজশাহীর শংকর পাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রিয়াদ হোসেন। অন্য দিকে বঙ্গমাতা গোল্ডকাপে লালমনিরহাটের পাটগ্রামের টেপুর গাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে একই ব্যবধানে হারিয়ে সাফল্যের হাসি হাসে ময়মনসিংহের নান্দাইলের পাঁচরুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রমি ইসলাম ফাইনালে গোল করে দলকে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি এনে দেয়ার পাশাপাশি জিতে নেন ওম্যান অব দ্য ফাইনালের পুরস্কার। ওম্যান অব দ্য টুর্নামেন্টের খেতাব জেতেন লালমনিরহাটের টেপুর গাড়ি বিদ্যালয়ের লিভা আক্তার।

দুই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন দল তিন লাখ টাকা এবং রানার্সআপ দুই লাখ করে টাকা পুরস্কার পেয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড়রা ১৫ হাজার এবং রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়রা ১০ হাজার টাকা করে পুরস্কার পান। সেই সঙ্গে প্রত্যেককে একটি করে পদক পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপের খেলোয়াড়রাই জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের সুনাম অর্জন করছে। ফুটবলে মেয়েরা আজ আন্তর্জাতিক সম্মান বয়ে আনছে। বাংলাদেশ বিশ্বে একটি ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। আমার মনে হয় পৃথিবীর আর কোনো দেশে এত বড় আয়োজনের (বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ) খেলা নেই। এবার বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা গোল্ডকাপে অংশ নেয় ৬৫ হাজার ৭০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১ লাখ ১৬ হাজার ৯০০ শিক্ষার্থী। আর বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে ৬৫ হাজার ৭৯০টি বিদ্যালয়ের ১১ লাখ ১৮ হাজার ৫১৫ জন। যারা এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আমি তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
প্রতিযোগিতার সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পর থেকে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করছি।

ফলে খেলাধুলায় আমাদের ছেলেমেয়েরা আজ পারদর্শিতা দেখাচ্ছে। নারী অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৮ এবং জাতীয় দলে ৫০ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ৩৬ জনই বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এসেছে। ধীরে ধীরে তারা জাতীয় পর্যায়ে খেলোয়াড় হিসেবে অবস্থান করে নিচ্ছে। শেখ হাসিনার কথা, এ ছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সাফল্য পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি ভুটানে অনূর্ধ্ব-১৮ দল এএফসি কাপে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। অনূর্ধ্ব-১৫ দল হংকংয়ে অনুষ্ঠিত জকি কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে যে খেলাধুলা শুরু করেছি, তার ফলাফল এটা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here