সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে ফায়ার হিরো সোহেল রানার শেষযাত্রা

1

কিশোরগঞ্জ : গত ৯ এপ্রিল বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদর দফতরে সোহেলের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরে ফায়ারম্যান গত ৯ এপ্রিল বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে সোহেল রানার নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। নিজ কর্মস্থলে সহকর্মীদের ভালোবাসা এবং শেষ শ্রদ্ধায় সিক্ত হয়েছেন তিনি। পরে কিশোরগঞ্জে নিজ গ্রামের বাড়িতে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন এই ফায়ার হিরো। সকালে সোহেল রানার নামাজের জানাজায় অংশ নেন সোহেল রানার পরিবারের সদস্যরা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন, সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমদ খান, পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইব্রাহীম খান, এনটিএমসির ডিজি জিয়াউল আহসানসহ বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। জানাজা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ফায়ারম্যান সোহেল রানা আহত হওয়ার পর তার সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রথমে তাকে সিএমএইচ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। তার জন্য সবাই দোয়া করবেন।’

এর আগে সকালে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) হিমঘর থেকে ফায়ারম্যান সোহেল রানার লাশ তার কর্মস্থল ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরে আনা হয়। এরপর কিছুক্ষণের জন্য সোহেলের মুখটি শেষবারের মতো দেখার জন্য তার সহকর্মীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এ সময় সোহেলের সহকর্মীদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন সোহেল রানার ভাই উজ্জল মিয়া।

এ সময় সোহেল রানার ভাই উজ্জল মিয়া বলেন, ‘আমার ভাই দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। তিনি ছোট বেলা থেকেই মানুষের জন্য কাজ করতেন, পরোপকারী ছিলেন। ভাই দেশের জন্য জীবন দিয়েছে এ জন্য আমরা গর্বিত। আমরা চাই সবাই যেন তার মতো দেশের জন্য কাজ করতে পারি। আমার ভাইয়ের যদি কোনও ভুল-ত্রæটি থাকে তাহলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। দোয়া করবেন সে যেন জান্নাতবাসী হয়’।

‘আমার ভাই ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে আমরা পথে বসে গেছি। আমরা চাই প্রধানমন্ত্রী যাতে আমাদের পরিবারের প্রতি সুদৃষ্টি দেন’, কান্নাজড়িত কণ্ঠে আকুতি জানান উজ্জল মিয়া।
এরপর সোহেলের লাশ তার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিজ বাড়িতে সোহেল রানার শেষ যাত্রায় তার সঙ্গী হয়েছেন পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here