নিউ ইয়র্ক রাজ্য সিনেটে ধর্মীয় পোশাক ব্যবহারের বিল পাশ

47

ঠিকানা অনলাইন ডেস্ক, নিউ ইয়ক: হিজাব, টুপি, টারবান, পায়জামা-পাঞ্জাবি আইনসিদ্ধ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কর্মস্থলে।

৯ এপ্রিল মঙ্গলবার এমন একটি বিল সর্বসম্মতভাবে পাশ হয়েছে রাজ্য সিনেটে। উপস্থিত ৬০ সিনেটরের সবাই ভোট দেন এ বিলে (এস৪০৩৭)।

উল্লেখ্য, গত মাসে অনুরূপ একটি বিল পাশ হয়েছে নিম্নকক্ষ স্টেট এ্যাসেম্বলিতে। সেটি উত্থাপন করেছিলেন জ্যামাইকা নির্বাচনী এলাকার এ্যাসেম্বলি সদস্য ডেভিড ওয়েপ্রিন। আর উচ্চকক্ষ সিনেটে বিলটি উত্থাপন করেন একই এলাকার স্টেট সিনেটর জন ল্যু।

উভয় বিল যাবে রাজ্য গভর্ণরের কাছে স্বাক্ষরের জন্য। তিনি স্বাক্ষর করলেই তা আইনে পরিণত হবে।

এমন একটি বিল সর্বপ্রথম স্টেট পার্লামেন্টে উঠেছিল ২০১১ সালে। কিন্তু রিপাবলিকানদের আপত্তির কারণে তা কখনোই স্টেট সিনেটে পাশ হতে পারেনি। গত বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিউ ইয়র্ক স্টেট পার্লামেন্টের উভয়কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় ডেমোক্র্যাটরা।

স্টেট সিনেট লবিতে এ বিল নিয়ে ভোটাভুটির সময় ছিলেন বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী। তারা দেন-দরবারের মধ্য দিয়েই তা পাশ করাতে সক্ষম হন বলে জানিয়েছেন কমিউনিটি লিডার মাজেদা এ উদ্দিন।

কর্মস্থলে ধর্মীয় পোশাকের অবাধ ব্যবহারের রীতি চালুর করতে এমন বিধির পক্ষে দীর্ঘদিন থেকে সোচ্চার স্যাফেস্ট ( সাইথ এশিয়ান ফান্ড ফর এডুকেশন, স্কলারশিপ এ্যান্ড ট্রেনিং) এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মাজেদা উদ্দিন নিউ ইয়র্ক রাজ্যের রাজধানী থেকে জানান, ৯/১১ এর সন্ত্রাসী হামলার পর ধর্মীয় পোশাকের কারণে আমরা নানাভাবে নিগৃহীত হয়েছি। কর্মস্থলেই শুধু নয়, চলতি পথেও নানা ঘটনা ঘটেছে। অনেকের প্রাণ গেছে। এই বিল আইনে পরিণত হলে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক হামলার ঘটনা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এমন একটি বিধির জন্যে সোচ্চার থাকা অপর সংগঠনের মধ্যে ছিল বাংলাদেশী আমেরিকান এডভোকেসী গ্রুপ। এ গ্রুপের নেতা জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে অনেকেই ছিলেন পার্লামেন্ট ভবনে।

স্টেট সিনেটর জন ল্যু বলেছেন, কর্মস্থলে পোশাকের কারণে বিমাতাসুলভ আচরণের ঘটনাকে কখনোই মেনে নেয়া উচিত নয়। যে দেশের সংবিধান ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সবার অধিকার সংহত করেছে, সেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা ধর্মীয় কারণে হেনস্থা হবেন-এটি কল্পনাতীত।

তবুও কিছু লোক ও গোষ্ঠীর কারণে এতদিন নিউ ইয়র্কেও ঘটেছে অনেক ঘটনা। আর নয়। এখন সবারই অবাধে সবকিছু ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত হল।

জ্যাকসন হাইটস এলাকার সিনেটর জেসিকা র‌্যামোজ বলেন, আমরা কারা, কী পরছি, কীভাবে ধর্ম-কর্ম করছি, তা অন্যের বিদ্বেষের কারণ হতে পারে না। আর এসব কখনোই বিমাতাসূলভ আচরণের কারণ হতে পারে না। এই বিল সর্বসম্মতভাবে পাশের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিক আগ্রহের ব্যাপরটিও স্পষ্ট হল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here