এবিবিএ’র বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা

10
নিউইয়র্কঃ বক্তব্য রাখছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন (উপরে), (বাঁয় থেকে নিচে) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করছেন কৌশিক আহমেদ। ছবি-ঠিকানা।

ঠিকানা রিপোর্ট : আমেরিকান বাংলাদেশি বিজনেস এলায়েন্স (এবিবিএ)-এর উদ্যোগে
গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনকে কুইন্সের মেরিয়ট হোটেলে সংবর্ধনা প্রদান করে। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বক্তব্যের প্রারম্ভে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর পর মার্কিন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পেন্সের আমন্ত্রণে এ দেশে এসেছি। তারাই আমাকে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

প্রবাসীদের উদ্দেশে ড. মোমেন বলেন, দেশে বিনিয়োগের অনেক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সে সুযোগ প্রবাসীরা গ্রহণ করলে আপনাদের যেমন লাভ হবে, দেশেরও উন্নতি হবে। পার্শ্ববর্তী দেশ গণচীনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ৩২ ভাগ বৈদেশিক ঋণ আসে প্রবাসী সম্প্রদায়ের কাছ থেকে।

এ সময় মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান, সাবেক এমপি এম এম শাহীন, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন, কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুন নেছা, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সদস্য সচিব মইনুল ইসলাম, এবিবিএ’র প্রেসিডেন্ট ফখরুল ইসলাম দেলওয়ার, সদস্য সচিব ইয়াকুব খান, প্রধান সমন্বয়কারী শাহনেয়াজ, সহ-নির্বাহী সম্পাদক মোহাম্মদ বিলাল চৌধুরী, এটর্নি এন মজুমদার, সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এমএ আজিজ, ডা. জিয়াউদ্দিন আহমদ, সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমদ, ব্যবসায়ী রাহাত মোক্তাদির প্রমুখ। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন শিল্পপতি জহিরুল ইসলাম এবং পরিচালনা করেন সাদিয়া খন্দকার।

নিজের কর্মজীবনের কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি বড় ভাগ্যবান। বঙ্গবন্ধু যখন সরকার গঠন করেন, সে সময় আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছে। এরপরে বঙ্গবন্ধু কন্যা সরকার গঠন করেন। আমাকে ডেকেছেন। যাওয়া সম্ভব হয়নি। কেননা ছেলেমেয়েরা এখানে এসেছে। লেখাপড়া করছে। বড় হয়েছে। তিনি সবার প্রতি দোয়া প্রার্থনা করেন, যাতে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে অনেক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তন্মধ্যে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়া, মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নয়ন জটিল দেশে দেশকে নিয়ে যাওয়া। যেখানে সমান সুযোগ সুবিধা, সমান অধিকার ভোগ করা যাবে। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা নিশ্চিত হবে সেখানে।
বর্তমান জিডিপি প্রবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানে সম্প্রতি ৭.৮৬ সেখানে ৮.১৩ জিডিপি হবে। পৃথিবীর ৫টি দেশের মধ্যে প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় দেশ বাংলাদেশ ৩য় স্থানে।

দেশে দারিদ্র্যসীমার ব্যাপারে তিনি বলেন, বর্তমানে দারিদ্র্যসীমা অর্ধেকের চেয়ে নিচে। বর্তমান সরকার দারিদ্র্য বিমোচনে যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা অব্যাহত থাকলে আগামী ৫ বছরে তা ৫ ভাগও থাকবে না।

দেশের জনসংখ্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশের একটি বড় অংশ তারুণ্যের। এ শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে দেশ ক্রমবর্ধমান উন্নতির শিখরে চলে যাবে। এসব স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য অংশীদারিত্বের উপর জোর দেন তিনি।
এয়ারপোর্টে প্রবাসীদের হয়রানির কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রবাসীরা যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। কনস্যুলেট অফিসে সেবার মান উন্নত করার ব্যাপারে হট লাইনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশসহ কনসাল জেনারেল অফিস বছরব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। এতে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ সম্পর্কে দেশ-বিদেশের মানুষ আরো বেশি করে জানতে পারবে। প্রতিবেশী ভারতের সাথে দু’দেশের সীমানা, সমুদ্রসীমা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে শেষ হয়েছে। ১১ লাখ রোহিঙ্গার বিষয়টি আলোচনার ম্যাধমে সম্মানের সাথে মিয়ানমারকে তাদের লোকদেরকে ফিরিয়ে নিতে হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যদি তাদেও তখন আশ্রয় না দিতেন, তবে বড় রকমের হত্যাকাÐ হতো। প্রবাসে গণসচেতনা সৃষ্টি করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য মিয়ানমারের উপর চাপ অব্যাহত রাখার কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এদেশে মূলধারার রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততার উপর জোর দেন। তিনি তার দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠায় সাথে যাতে পালন করতে পারেন, সেজন্য সবার সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
ঠিকানা পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ও সাবেক এমপি এম এম শাহীন বলেন, পৃথিবীতে একসাথে একইদিনে ৪টি সংবর্ধনা হয়েছে কি না, আমি জানি না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনের একই দিনে ৪টি সংবর্ধনা! এতে প্রমাণিত হয় ড. মোমেনের গ্রহণযোগ্য প্রবাসীদের কাছে কতোটা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছিলেন তাকে একটি দায়িত্ব দেবেন, এবং সে দায়িত্ব আপনাদের জন্য খ্যাতি নিয়ে আসবে। তিনি তার কথামতো আমাদের জন্য ড. মোমেনকে, বিশ্বে যারা প্রবাসী রয়েছেন, তাদের প্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব দিয়েছেন। এজন্য প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান তিনি।
ড. মোমেনও একজন প্রবাসী। তাই প্রবাসীদের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা- সব বিষয়েই তিনি অবহিত। তাকে আলাদা করে কোন কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না।
সরকারের উন্নয়নের উল্লেখ করে তিনি বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশ খুঁজে পাবেন না, যাদের মাথাপিছু আয় ৫শ’ টাকা থেকে বেড়ে ১৯শ’ টাকা দাঁড়িয়েছে। আমরা চাই বাংলাদেশও মালয়েশিয়ার মতো উন্নত দেশ হোক

বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতার কথা উল্লেখ করে এম এম শাহীন বলেন, এ সরকার বাংলাদেশকে বিশ্বময় সম্মান-মর্যাদায় পৌঁছে দেবে। বিগত নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে নিয়ে আমার কোন দ্বিধা নেই। আমি যে নৌকা প্রতীকে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি, এটাই আমার জন্য যথেষ্ট গৌরবের, অহঙ্কারের। নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।
এম এম শাহীন বলেন, যতোদিন বেঁচে থাকবো, ততোদিন বঙ্গবন্ধুর জন্য, শেখ হাসিনার জন্য কাজ করে যাবো, এটা আমার প্রতিজ্ঞা।

তিনি ভবিষ্যতে ড. মোমেনের নেতৃত্বে প্রবাসীদের মুখোজ্জ¦ল করার গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করে এবিবিএ’র সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন বলেন, আজকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য ৪টি সংবর্ধনা। যদি ৪০টি সংবর্ধনার সুযোগ থাকতো, তবে ৪০টি সংবর্ধনাই হতো। আজকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য যে আনন্দ, সে আনন্দ আগামীতে যেভাবে রোজা রাখার আনন্দ ও পরে ঈদের আনন্দের শুরু হবে সেরকম উৎসব শুরু হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্বন্ধে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, এখানে তিনি বহুদিন জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসাবে ছিলেন। এর বাইরেও তিনি প্রবাসীদের সাথে মিলেমিশে অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তারই একটি ব্যবসায়িক সংগঠন- এবিবিএ।

তিনি বলেন, জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি হিসাবে প্রবাসীদের সাথে মিলেমিশে যে কাজ আরম্ভ করেছিলেন, তার কাজকেই আমরা এখন অনুসরণ করছি মাত্র।
কনসাল জেনারেল সাদিয়া আফরোজ বলেন, তিনি যখন জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করেছেন, গভীর রাত জেগে কাজ করতেন। তিনি তার পেশাদারিত্ব থেকে বেরিয়ে প্রবাসীদের ব্যাপারেও যে কাজ করতেন। আমরা সেখান থেকে শিক্ষা নিয়েই কাজ করছি।
এজন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমরা তার কাছ থেকেই শিখেছি কিভাবে জনবান্ধব হতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তুলতে প্রবাসীদেরকে সাথে নিয়ে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের সাথে সাথে আমাদের সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা দিয়েছে, আপনাদের দাবি, নিউ ইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রাণের দাবি- নিউ ইয়র্কে কনস্যুলেটের স্থায়ী ভবন নির্মাণ, তার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে পবিত্র কোরআন তেলওয়াত করেন ইমাম কাজী কাইয়ুম। পবিত্র বাইবেল পাঠ করেন টমাস দুলু রায়। এরপর বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। মানপত্র পাঠ করেন সাপ্তাহিক বাঙালি পত্রিকার সম্পাদক কৌশিক আহমদ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রবাসী ও ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য ও ক্রেস্ট পৃথকভাবে প্রদান করা হয়।
আলোচনার প্রারম্ভে স্বাগতিক বক্তব্য প্রদান করেন এবিবিএ’র প্রধান সমন্বয়কারী ফখরুল ইসলাম দেলওয়ার। পরে সবাইকে মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়িত করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here