৭৮টি কনস্যুলেটের নিজস্ব ভবন হবে

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন

14
নিউইয়র্ক : বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের ক্রেস্ট গ্রহণ করছেন ড. মোমেন। ছবি-ঠিকানা।

ঠিকানা রিপোর্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্দেশে বলেছেন, আমি শুধু আপনাদের সঙ্গে দেখা করার জন্যই নিউইয়র্কে এসেছি। আমি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আমন্ত্রণে খুব স্বল্প সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি। কিন্তু আমি যেহেতু আপনাদেরই মানুষ তাই একদিন আপনাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য নিউইয়র্কে এসেছি। আপনাদের সঙ্গে দেখা হয়ে ভীষণ ভাল লাগছে। আমি প্রবাসী হিসাবে দেশে মন্ত্রী হয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি দেশের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। এই কারণে খুশী।

নিউ ইয়র্ক : বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভায় আব্দুস শহীদের ফুলেল শুভেচ্ছা। ছবি-ঠিকানা।

প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ যে তিনি আমাকে তার উন্নয়নে ও দেশের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। দেশে উন্নয়নের যে জোয়ার বইছে এতে করে দেশে বিভিন্ন ধরণের কাজের সুযোগ হয়েছে। আপনারা দেশে বিনিয়োগ করুন। দেশের উন্নয়নে অংশীদার হোন। পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন গত রোববার ৭ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। যুক্তরাষ্ট্রে তিনি কয়েক ঘন্টার সফরে আসেন । এই সময়ে তিনি পাঁচটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ৭ এপ্রিল রোববার সকালে তিনি বিমানবন্দরে পৌঁছুলে তাকে সংবর্ধনা জানানো হয়। এই সময়ে বিমানবন্দরে আওয়ামী লীগ, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দসহ জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন, কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুন্নেসা এবং মিশনের ও কনস্যুলেটের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউ ইয়র্ক : বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভায় মঞ্চে অতিথিবৃন্দ। ছবি-ঠিকানা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী বিমানবন্দর থেকে সরাসরি এবিবিএ-এর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখান থেকে যান এস্ট্রোরিয়াতে। সেখানে উদ্বোধন করেন পিপল এন টেকের এস্ট্রোরিয়া অফিস। এরপর তিনি যোগ দেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন এর যুক্তরাষ্ট্র শাখার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। বিকেলেও তিনি আওয়ামী লীগের আরও দুটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এরপর তিনি সন্ধ্যায় ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। মানুষের ভালবাসা পেয়ে তিনি সিক্ত। তাকে এত ভালবাসার জন্য প্রবাসীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান।

নিউ ইয়র্ক : বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভায় মহানগর আওয়ামী লীগের ফুলেল শুভেচ্ছা। ছবি-ঠিকানা।

বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন জ্যাকসন হাইটসের বেলাজিনোতে তার সম্মানে সবংর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ ছাড়াও নিউইয়র্কের কমিউনিটির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ ছাড়াও আওয়ামী লীগ, মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, বাংলাদেশ সোসাইটি, ফোবানার একাংশ সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দন জানান। আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতারা অন্যান্য স্টেট থেকে এসেও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

নিউ ইয়র্ক : বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভায় চট্টগ্রাম সমিতির ফুলেল শুভেচ্ছা। ছবি-ঠিকানা।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়া। অনুষ্ঠান শেষ করার আগেই সমাপনী বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. খন্দকার মনসুর। এরপর প্রধান অতিথি বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন লাভলু আনসার।

নিউ ইয়র্ক : বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভায় যুব লীগের পক্ষে ফুলেল শুভেচ্ছা। ছবি-ঠিকানা।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে ও ক্রেস্ট দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। শুভেচ্ছা জানানো সংগঠন গুলোর মধ্যে ছিল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, স্বন্দীপ পৌরসভা কল্যাণ সমিতি, ফোবানা (একাংশ), চট্টগ্রাম সমিতি, ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভলপমেন্ট, কানেকটিকাট আওয়ামী লীগ, সিলেট সদর সমিতি, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, আমেরিকান ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন, বাংলাদেশ সোসাইটি, বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ, বুদ্ধিস্ট কমিউনিটি, এছাড়াও আরও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে ফুলের তোড়া তুলে দেওয়া হয়। খান শওকতের লেখা নাটকের একটি বই মন্ত্রীকে উপহার দেওয়া হয়।

নিউ ইয়র্ক : বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোবানার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। ছবি-ঠিকানা।

এরপর মন্ত্রী এ কে এ মোমেন বক্তৃতা করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি জাতির পিতা হিসাবে যা যা উদ্যোগ দেশের ও মানুষের জন্য নেওয়ার দরকার ছিল তা নিয়েছিলেন। ২ মাসের মধ্যে বিদেশী সৈন্য দেশ থেকে ফেরত পাঠিয়েছিলেন। ১০ মাসের মাথায় বাংলাদেশে উন্নত শাসনতন্ত্র দিয়েছিলেন। ৭৬টি দেশের স্বীকৃতি নিতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি যে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখেছিলেন তা ছিল আধুনিক, উন্নত, সুখী সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন। তিনি স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করেছেন। এরপর তার কন্যা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আমাকে তার উন্নয়নের সহযোগী করেছেন এই জন্য আমি খুবই হ্যাপী। বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজ করতে পারছি।

নিউ ইয়র্ক : বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভায় সেক্টর কমান্ডার ফোরামের ফুলেল শুভেচ্ছা। ছবি-ঠিকানা।

তিনি আমাকে প্রবাসীদের মধ্য থেকে নিয়ে মন্ত্রী করেছেন। আমি প্রবাসী মন্ত্রী হিসাবে পরিচিত। দেশের সবাই আমাকে প্রবাসী মন্ত্রী হিসাবেই মনে করেন। ড. মোমেন বলেন, এখন আমি দুটি কাজ করছি। রাষ্ট্রদূত থাকাকালীন আমাদের মিশনের অফিসের জন্য জায়গা ও রাষ্ট্রদূতের জন্য বাড়ি কিনেছিলাম।

নিউ ইয়র্ক : বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভায় জাসদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা। ছবি-ঠিকানা।

এতে অতিরিক্ত খরচ হয়েছিল ৪৫ হাজার ডলার। এখন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদেশে ৭৮টি মিশন আছে। ওই সব মিশনের জন্য আমরা অফিসের জায়গা ও রাষ্ট্রদূতের জন্য বাসা কিনবো। এই জন্য আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। নিউইয়র্কের কনস্যুলেট জেনারেলের অফিসের জন্য জায়গা ও কনসাল জেনারেলের জন্য বাসা কেনার চেষ্টা করছি। কিন্তু সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে। আমরা খুঁজছি। পারলে আপনারাও আমাদেরকে সহায়তা করবেন। জানাবেন।

নিউ ইয়র্ক : বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভায় সুধীর একাংশ। ছবি-ঠিকানা।

আমি বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি হিসাবে কাজ করেছি। এখনও এই পদে রয়েছি। তবে এখন সরকারী দায়িত্ব পালন করার কারণে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের এই দায়িত্ব সেইভাবে পালন করতে পারছি না। আমার পক্ষে দায়িত্ব পালন করছেন নুরুল ইসলাম ঠান্ডু। তিনি যে দায়িত্ব পালন করছেন এই জন্য সন্তুষ্ট। তিনি সবশেষে আবারও সকলকে ধন্যবাদ জানান।

নিউ ইয়র্ক : বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভায় সুধীর একাংশ। ছবি-ঠিকানা।

নিউ ইয়র্ক : বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভায় সুধীর একাংশ। ছবি-ঠিকানা।
নিউ ইয়র্ক : বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভায় সুধীর একাংশ। ছবি-ঠিকানা।

নিউ ইয়র্ক : বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভায় সুধীর একাংশ। ছবি-ঠিকানা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here