৬০১ ওয়েভার প্রসঙ্গে-

12

যুক্তরাষ্ট্রের ও-১৩০ পিটিশনের মাধ্যমে গ্রিনকার্ডধারী এবং সিটিজেনদের বিভিন্ন রাষ্ট্র থেকে তাঁদের আত্মীয়-স্বজনদের আনার সুযোগ রয়েছে। এখনো পর্যন্ত বহির্বিশ্ব থেকে অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে আগমন ও স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগই বলা যেতে পারে। ও-১৩০ পিটিশনের মাধ্যমে যারা যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ পান এবং ও-১৩০ এবং ও-৪৮৫ ফাইলিং, তথা এডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস ফাইলিংয়ের মাধ্যমে যারা যুক্তরাষ্ট্র থেকেই গ্রিনকার্ড পেতে চান, তাদের অনেকেই ইতিপূর্বে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টাকালে বহিস্কারাদেশ পেয়ে থাকেন, আবার অনেকেই ভিন্ন নাম, ভুল নাম ও জন্ম তারিখ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টায় অভিযোগে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে অনেক সময় ৬০১ ওয়েভার প্রযোজ্য হতে পারে। ৬০১ ওয়েভার পদ্ধতিটিকে সংক্ষেপে বলা যায়, প্রচলিত আইনের ব্যতিক্রম বা ইতিপূর্বে কৃতকর্মের ক্ষমাপ্রার্থনা করে অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্রে আবাসনের বিশেষ আবেদন বলা যায়। এটি একটি দীর্ঘ এবং প্রচুর কাগজপত্র, তথা সাপোর্ট ডকুমেন্ট জমা দিতে হয়। যেমন ভিসাপ্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রে আগমনে ব্যর্থ হলে তার এবং তার পরিবারের কি কি ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়, ভিসাপ্রার্থীর Extra ordinary and unusual hardship, তথা ‘চরম ও অসাধারণ ভোগান্তির’ সম্মুখীন হবেন- এ মর্মে প্রমাণ করতে হবে। চরম ও সাধারণ ভোগান্তির প্রমাণস্বরূপ ভিসা প্রার্থীকে নিম্নলিখিত তথ্য-প্রমাণাদি দাখিল করতে হবে:
ভিসাপ্রার্থীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, প্রচুর রেফারেন্স লেটার, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, সাইকোলোজিক্যাল ইভাল্যুয়েশান, রিকমেন্ডেশান লেটার, ভিসাপ্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে ফেডারেল ও স্টেট ট্যাক্সের কপি, বিশেষ অর্জনসমূহ, অধিৎফ সমূহ। আবেদনকারী এবং ভিসাপ্রার্থীর স্ব স্ব স্টেটমেন্টসমূহ বিস্তারিত লিপিবদ্ধ করতে হবে। সব ডকুমেন্ট স্টেটমেন্ট ও তথ্যের মাধ্যমে ভিসাপ্রার্থী বা গ্রিনকার্ডপ্রার্থীকে এ মর্মে প্রমাণ করতে হবে যে, ইতিপূর্বে প্রদেয় ভুল ও মিথ্যা তথ্য প্রদানের ফলে সরকারের কোন ক্ষতি হয়নি এবং উক্ত ভুল ও মিথ্যা তথ্যাদি প্রদান আবেদনকারী ইচ্ছাকৃত ও অসৎ উদ্দেশ্যে প্রদান করেননি। শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশের জন্যই বা গ্রিনকার্ড পাওয়ার জন্যই দিয়েছিলেন। এই তথ্যগত ভুলের বিষয়টি বাদ দিলে আবেদনকারী একজন সৎ ও নীরিহ মানুষ- এ মর্মে যথেষ্ট প্রমাণ ও তথ্য দিতে হবে।

৬০১ ওয়েভার একটি অপেক্ষাকৃত জটিল ও দীর্ঘ পিটিশন বিধায় কেবল সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিজ্ঞ ল ফার্ম ও আইনজীবীরাই এ ক্ষেত্রে ভালোভাবে আবেদন তৈরি করতে পারেন। ৬০১ ওয়েভার সংশ্লিষ্ট আরো তথ্যের জন্য কল দিতে পারেন ৯১৭-৫৯৭-৬৩৪৯
মেডিকেইড ফ্রড থেকে বিরত থাকুন
‘মেডিকেইড ফ্রড’ একটি মারাত্মক অপরাধ। ৪০ বছর আগে চালুকৃত এ প্রকল্পটিকে ‘মধুর পট’ বা ‘বক্স অব হানি’ বলা হয়। অসাধু ফার্মেসি, অসাধু ডাক্তার, থেরাপিস্ট, ডেন্টিস্ট এবং অসাধু ব্যক্তিরা এ সুযোগে বিলিয়ন-বিলিয়ন ডলার চুরি করার অপরাধে অভিযুক্ত ও জরিমানা দিতে বাধ্য হয়েছেন। সম্প্রতি এটর্নি জেনারেল লাটিশা জেমস কয়েকটি ফার্মাসিকে কনভিকশনের আওতাভুক্ত করেছেন।
যাঁরা গবফরপধরফ গ্রহণ করছেন, তাদেরকে পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আপনার আয়-ব্যয় ও অন্যান্য সম্পদের সঠিক বিবরণী দিতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মীদের প্ররোচনায় মিথ্যা ও ভুল তথ্য দিয়ে কখনোই মেডিকেইড গ্রহণ করবেন না।
আরো তথ্যের জন্য কল দিন : ৯১৭-৫৯৭-৬৩৪৯।

লেখক পরিচিতি : এই প্রবন্ধটির লেখক মোহাম্মদ এন মজুমদার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং নিউইয়র্কস্থ টরো ল সেন্টার থেকে আইনে এলএলএম ডিগ্রিধারী, তিনি নিউইয়র্কস্থ একটি ল ফার্মে ১৯৯৯ সাল থেকে কর্মরত আছেন। এ ছাড়াও তিনি নিউইয়র্কের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি ব্রঙ্কস প্লানিং বোর্ড-৯ এর সদস্য ফাস্ট ভাইস চেয়ারম্যান এবং ল্যান্ড এন্ড জোনিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ১৯১০ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উপরোক্ত লিখাটি লেখকের সুদীর্ঘকালের ল ফার্মে কর্ম অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ল স্কুলের শিক্ষা থেকেই লিখা। এটিকে লিগ্যাল এডভাইজ হিসেবে গ্রহণ না করে আপনাদের নিজ নিজ আইনজীবীর সহযোগিতা নিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here