প্রথম বাংলা সাহিত্যে নববর্ষ প্রসঙ্গ

4

সম্প্রতি বাংলা নববর্ষ সম্বন্ধে অনেকেই মাঝে মধ্যেই প্রশ্ন করে যে পৃথিবীর সর্বপ্রথম বাংলা সাহিত্য গ্রন্থ চর্যাপদে ২৫৬১ বাংলা সাল কিভাবে ১৪২৫ হলো ? হিন্দুরাজনীতির ব্রাহ্মণ্যবাদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদের ২৫৬২ বাংলা সাল (বুদ্ধাব্দ) কে বাদ দিয়ে সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে ‘আল্লাহ উপনিষদ’ রচনা করলো এবং ইসলামিক বঙ্গাব্দের জন্মদাতা হিজরি সালকে (১৪৩৯) বিকৃত করে ১৪২৫ বঙ্গাব্দ বানিয়েছিল! হিন্দুরাজনৈতিকগণ ইসলামিক হিজরি (১৪৩৯) সালকে ভেঙে চন্দ্র বা সূর্য ক্যালেন্ডারের নামে হিন্দুমার্কা বঙ্গাব্দ (১৪২৫) রচনা করেছেন। প্রথমে ইংরেজিতে ঢাকা (Dacca) বানান ভুল ছিল এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর তা শুদ্ধ (Dhaka) করা হয়েছিল। বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদের বঙ্গাব্দ বুদ্ধপূর্ণিমায় ২৫৬২তম বুদ্ধাব্দের শুভ বুদ্ধজয়ন্তি বর্ষ থেকে এবং বাংলাদেশে বগুড়ার পুন্ড্রবর্ধনে বাংলা ভাষার জনক গৌতমবুদ্ধ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন! ভাষা আন্দোলন না হলে, বাংলা ভাষা ও বৌদ্ধধর্মের মতো দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্র থেকে চিরতরে হারিয়ে যেতো!

প্রতারণার রাজনীতিতে মহাভারতে হিংসার বিভীষিকা বন্ধ হয়ে গেল একমাত্র গৌতমবুদ্ধের অহিংসা পরমধর্মে। সম্রাট অশোক বর্ণাশ্রমবাদী (গীতা ৪/১৩ এবং ১৮/ ৪৪ জাতিভেদ প্রথা) বৈদিক ব্রাহ্মণ্যধর্ম এবং জৈনধর্ম ত্যাগ করে বুদ্ধের ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। হিন্দুধর্মে জাতিভেদ প্রথায় অখন্ড মানব জাতিকে খন্ড বিখন্ড করে (১) ব্রাহ্মণ (২) ক্ষত্রিয় (৩) বৈশ্য এবং (৪) শূদ্র , দলিত বা অনগ্রসর জাতি (সিডিউল কাষ্ট) সৃষ্টি হল। গৌতমবুদ্ধের শিক্ষা : অহিংসা পরম ধর্ম। রাজনীতি এবং সমাজনীতি মানবাধিকার মেনে জীবন যাপন করা সর্বশ্রেষ্ঠ নীতির রত্নমালা। বৈদিক শাসকগণ দক্ষিণ এশিয়াসহ ভারতের বৌদ্ধধর্মকে অজগরের মতো গিলেছেন। আজকের ভারত সরকার বৈদিক পন্থী মহাভারতের অমর অবদান ছিল দুর্যোধন দাবাখেলায় জয়ী হয়ে রাজসভায় বৌদি (বা পঞ্চপান্ডব ভাইদের পত্নী) দ্রৌপদীর বস্ত্র হরণের ষড়যন্ত্র। বিভেদ বিদ্বেষের নামই কি জাতিভেদ প্রথা বা রাজনীতি? প্রকৃতিকে নিয়ে ভারত রাজনীতির দাবাখেলা (সতরঞ্জি) শুরু করেছে। মহাভারতের লেখক ঋষি বেদব্যাস তাঁর মায়ের (সত্যবতী) কুমারীকালের কলঙ্ক হলেও ধৃতরাষ্ট্র, পান্ডু এবং বিধূরের জন্মদাতা ছিলেন। সপ্তপুরুষ পরিশুদ্ধ নিয়ে গৌতমবুদ্ধের জন্ম এবং তিনি অহিংসা পরম ধর্ম প্রচার করেন। ভারত সরকার যখন দানব (ও দান্দা নদী, নেপালের দক্ষিণ পশ্চিম সীমান্তে) নদীতে বাঁধ দিয়ে দানব হয়ে বুদ্ধের জন্মভূমি ধ্বংস করতে উদ্যত তখন চীন সরকার তা (লুম্বিনী) রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর।
১১৯২ সালে রাজা লক্ষণ সেনের মহামন্ত্রী হলায়ুধ মিশ্র হিন্দু রাষ্ট্রধর্মের নেতা হয়ে ‘শেক শুভোদয়া’ শীর্ষক বই লিখেছিলেন। তিনি তাঁর রচিত দিনলিপি বইতে মুসলিম তুর্কী মিশনের যোদ্ধাদের সাথে মহামন্ত্রীর গোপন ষড়যন্ত্রে রাজালক্ষণ সেনকে সরিয়ে বখতিয়ার খিলজিকে বাংলার সিংহাসন আরোহণে সাহায্যের ঘটনাবলী অকপটে রচনা করে স্বীকার করলেন। এমনকি রাজা লক্ষণ সেনের সভাকবি উমাপতি ধর পরে বখতিয়ার খিলজির সভাকবি হলেন কেন?

একান্ত ভাবেই হিন্দুত্বের রাম রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বিনা দোষে বালীকে পেছন থেকে অপ্রস্তুত অবস্থায় হত্যা করেছিলেন! ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে মোগল সম্রাট আকবর বাংলা সন চালু করেন। তবে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার জন্যে সোনার বাংলার অন্যতম শাসক মহাবীর ঈশা খাঁ সম্রাট আকবরের সেনাপতি মানসিংহের সাথে মুখোমুখি যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলেন। মানুষের দেশ মানুষের মনেরই সৃষ্টি! হিন্দু যেই মানব, মুসলমানও সেই মানব। মানুষ মানুষকে হিংসা করা আইনত: দন্ডনীয় অপরাধ। নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন, বাংলা একাডেমীর অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে “ভাষা চেতনা বাঙালির গর্বের বিষয়” শীর্ষক ভাষণে বলেন, “অনেকেই মাঝে মধ্যেই প্রশ্ন করে যে ১৪০০ সাল হলো কী ভাবে। এখন ১৪১৭ তে কী ভাবে এলো, ১৪১৭ হচ্ছে মক্কা থেকে মদীনায় মোহাম্মদের (সা.) যাওয়ার দিন থেকে গণনার স্মারক। প্রথম দিকে লুনার এবং তারপরে সোলার ক্যালেন্ডার এই দুটি মিলিয়ে করা। আকবর সোলার ক্যালেন্ডারে বিশ্বাস করতেন। এটি কিন্তু বাংলা ছাড়া সাব কন্টিনেন্টের কোনো অঞ্চলে আর থাকেনি।
বাঙালি বৌদ্ধগণ (১২০৩ অ. উ.) মুসলমান হয়ে ও ১৯৫২ সালে ২১ শে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার জন্যে জীবন দান করেছেন।
কানাডা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here