4

ঠিকানা অনলাইন ডেস্ক, নিউ ইয়র্ক: এসো হে বৈশাখ…। স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ। বাংলাদেশে রমনার বটমূলে গানে গানে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া এখন বাংলা বর্ষবরণের অন্যতম অনুসঙ্গ। ছায়ানটের সেই আয়োজনই হয়ে উঠেছে বাংলাদেশে বৈশাখ বরণের সবচেয়ে বড় উৎসব। ছায়ানটের আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে মিল রেখে নিউ ইয়র্কে গত কয়েক বছর ধরে সকালে বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার রীতি চালু করেছে আনন্দধ্বনি। আর দিনে দিনে সেই প্রচেষ্টা মানুষের এতটাই প্রাণ ছুঁয়ে গেছে যে, এখন নিউ ইয়র্কের বৈশাখের প্রথম দিনের সকাল মানেই আনন্দধ্বনির আয়োজনে সবাই মিলে মিশে একাকার হয়ে যাওয়া। এবারও যেমন ব্যতিক্রম হলো না। অসাম্প্রদায়িক চেতনা আর প্রবাসে আগামী প্রজন্মের মধ্যে দেশের সংস্কৃতির বিকাশই যেন এমন আয়োজনের মূল কথা।

জ্যামাইকার সুসান বি অ্যান্থনি স্কুল মিলনায়তনে সকাল ৭টায় শুরু হয়ে আনন্দধ্বনির সংগীত আয়োজন চলে একটানা চার ঘণ্টা। এতে একে একে শিল্পীরা পরিবেশন করেন দলীয় ও একক সংগীত, আবৃত্তি। শিশুদের অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠানে যোগ দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুন্নেসাসহ মূলধারার অনেক রাজনীতিবিদ।

এদিকে উদীচী যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজন শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রার আদলে র‌্যালি দিয়ে। জ্যাকসন হাইটসে এই আয়োজনে বিপুলসংখ্যক মানুষ যোগ দেন। পরে একটি স্কুল মিলনায়তনে দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বর্ষবরণে নিউ ইয়র্কের অন্যতম আয়োজন ছিল এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের আয়োজনে দুই দিনের বৈশাখী মেলা। এই মেলার উদ্বোধন করেন পিএস ৬৯ স্কুলে এই মেলার উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ মোত্তালিব বিশ্বাস। অতিথি ছিলেন জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন এবং কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুন্নেসা। এতে ছিল পোশাক প্রতিযোগিতা, র‍্যাফেল ড্রসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এ ছাড়া নিউ ইয়র্কজুড়ে সাংস্কৃতিক সংগঠন বিপা, বাফা, ড্রামা সার্কেল, নিউ অ্যামেরিকান ডেমোক্রেটিক ক্লাব, জ্যাকসন হাইটস বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন-জেবিবিএসহ বিভিন্ন সংগঠন বৈশাখী মেলার আয়োজন করে। এর বাইরেও ছিল ঘরোয়া আমেজের বর্ষবরণ। প্রাণে প্রাণ মিশিয়ে হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের বন্ধনে উচ্ছ্বল তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সী মানুষ দিনটিকে স্মৃতিময় করে রাখার জন্যে ভিড় করেছিলেন বাঙালি অধ্যুষিত এলাকাগুলোয়। আর বাংলাদেশি মালিকানাধীন রেস্টুরেন্টগুলো সেজে উঠেছিল বৈশাখী সাজে। ছিল বাহারি খাবারের পসরা। যা বহুজাতিক নিউ ইয়র্কের অন্যান্য মানুষদেরও দৃষ্টি কেড়ে নেয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here