আবু হুরায়রা মসজিদ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

    নিউইয়র্ক : মসজিদ আবু হুরায়রায় বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ। 

    ঠিকানা রিপোর্ট : ইসলামিক সেন্টার অব জ্যাকসন হাইটসের মসজিদ আবু হুরায়রার নির্মাণ কাজ কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন কয়েকজন মুসল্লি। গত ১১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মুসল্লিরা।
    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হানিফ আহমেদ, মো. শাহাবুদ্দিন, পারভেজ মাসুদ এবং ইঞ্জিনিয়ার নাজমুল হোসাইন।
    সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য রাখেন মসজিদ কমিটির সদস্য কায়েস আহমেদ। লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান পারভেজ মাসুদ। তিনি বলেন, মসজিদ নির্মাণে ঠিকাদার নির্ধারণ করার প্রক্রিয়া নিয়ম মতো হয়নি। মসজিদের জন্য অনুমোদিত ড্রইং অনুসরণ না করে ত্রুটিযুক্ত কাজ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মুসল্লিদের পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি দেওয়া হলেও তার কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। তাই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করতে বাধ্য হয়েছি আমরা।
    সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মসজিদ আল্লাহর ঘর এবং মুসলমানদের প্রাণের স্পন্দন। আল্লাহর ঘর কিছু লোকের কাছে জিম্মি থাকুক, এটা কারো কাম্য হতে পারে না। বৈশ্বিক মহামারীর ক্রান্তিকালে মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল বিপুল উৎসাহ নিয়ে। কিন্তু যতদিন যাচ্ছে মসজিদ নির্মাণ কাজ নিয়ে সাধারণ মুসল্লিরা সন্দিহান হয়ে পড়েছেন। তাদের সন্দিহানের কথা মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুর রউফ, কনস্ট্রাকশন ম্যানেজার অ্যান্টনি এনজিকে জানানো হয়েছে। কাজের ত্রুটির জন্য মসজিদ নির্মাণ কমিটির ইঞ্জিনিয়ার কমিটির মাধ্যমে ইনস্পেকশন করার অনুরোধ করি। কিন্তু তারা সাধারণ মুসল্লিদের কোনো কথা শুনতে রাজি নন এবং আমাদের কথাগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন।
    সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, একজন মুসল্লি হিসেবে মসজিদের অনিয়মের কথা বলতে বাধা থাকতে পারে না। আমরা এসব বিষয়ে সভাপতিকে বললে তিনি বিভিন্নভাবে আমাদেরকে হয়রানি ও মসজিদে মুসল্লিদের সামনে জুমার নামাজের সময় আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেন। গত ৫ নভেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের আগে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুর রশিদ মসজিদে উপস্থিত সবার সামনে ঘোষণা করেন যে ‘একদল লোক শুরু থেকেই মসজিদ নির্মাণ কাজ বন্ধ করার চেষ্টা করছে।’ এটি একটি মিথ্যা বিবৃতি। সত্য হল- মসজিদ কনস্ট্রাকশন কমিটির ৩ জন প্রকৌশলী ১৫ জুন নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেন এবং বেশ কয়েকটি বড় নির্মাণ ত্রুটি খুঁজে পেয়েছেন, যা তারা তাদের প্রতিবেদনে এবং নিচে উল্লেখ করেছেন। দেখা যাচ্ছে যে সাধারণ ঠিকাদার, অযোগ্যতার কারণে, অনুমোদিত অঙ্কনগুলি অনুসরণ করেনি যা এই ত্রুটিগুলি সৃষ্টি করেছিল।
    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আমরা সাধারণ মুসল্লিরা নির্মাণ কমিটির ইঞ্জিনিয়ারদের রিপোর্ট পড়ে একেবারে বিষ্মিত হই এবং বুঝতে পারি যে কেনো নির্মাণ কমিটির ইঞ্জিনিয়ারদের ইনস্পেকশন করার সুযোগ দিতে তারা বাধা ও মিথ্যা অজুহাত দিচ্ছিলেন। নবী হোসেন যিনি মসজিদের সাধারণ সম্পাদক, একইসঙ্গে মসজিদ নির্মাণ ঠিকাদার কোম্পানির পক্ষ থেকে সাইট সুপারভাইজার। আমরা মনে করি নবী হোসেন জেনেশুনে ঠিকাদারের কর্মী হিসাবে সকল ভুল কাজগুলি ধামাচাপা দিয়ে ঠিকাদারকে সাহায্য করেছেন। সভাপতি তার অজ্ঞতার জন্য ঠিকাদার এবং নবী হোসেনের ওপর নির্ভর এবং বিশ্বাস করে মসজিদের নির্মাণ কমিটির ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতিবেদন বিশ্বাস করেননি বরং তাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছেন। কার্যকরী কমিটি ঠিকাদারকে ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন এর কনট্রাক্ট থেকে ২ মিলিয়ন অগ্রিম পরিশোধ করেছেন কোন ইনভয়েস ছাড়া। অথচ নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নে এখনো ৪০% কাজ বাকি আছে। এমতাবস্থায় আমরা দাবি করি যে কার্যকরী কমিটি বিশেষ করে সভাপতি আব্দুর রউফ ও সাধারণ সম্পাদক অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করে এক বৎসরের জন্য সাধারণ মুসল্লিদের মধ্য থেকে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন এবং অনতিবিলম্বে মসজিদের নির্মাণ কমিটির হাতে নির্মাণ কাজের সম্পূর্ণ দায়িত্বভার হস্তান্তর করার জন্য আপনাদের মাধ্যমে কমিটির নিকট এ আহবান জানাই।