আমেরিকার প্রেক্ষাগৃহে ‘উনপঞ্চাশ বাতাস’ : কাহিনী ও চিত্রনাট্যে তৃপ্ত দর্শক

    ঠিকানা রিপোর্ট : দেশের সিনেমার জন্য নতুন এক ইতিহাস রচনা করছে ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’। ১৯ নভেম্বর শুক্রবার উত্তর আমেরিকার ১৬টি সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে বাংলাদেশের এই সিনেমা। এর মধ্যে রয়েছে বিখ্যাত টাইমস স্কয়ারের ফ্ল্যাগশিপ থিয়েটার রিগ্যাল ই-ওয়াক ফোরডিএক্স ও আরপিএক্স। এর আগে দেশের কোনো সিনেমা নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের সিনেমা হলে প্রদর্শিত হয়নি।
    সিনেমাটির অসাধারণ কাহিনী ও চিত্রনাট্য দর্শকদের বেশ তৃপ্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় এখন পর্যন্ত যারাই ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ দেখেছেন তাঁদের সবার এত ভাল লেগেছে যে অনেকে আবার দেখতে চাচ্ছেন।
    নিউইয়র্কের দর্শক অনিন্দ্য শ্রাবণ বলেন, ‘উইকেন্ড ট্রাফিক ঠেলে যতক্ষণে হলে পৌঁছলাম, ঠিক তখনই সিনেমা শুরু হলো। গল্প খুব সাবলীল ভাবে চলছে। তবে আগ্রহ বাড়িয়ে দিচ্ছে পরে কী হবে সেটার জন্য। তিনি বলেন, সিনেমার কাহিনী ও চিত্রনাট্য খুবই ভাল লেগেছে। একটানা চোখের পলক না ফেলেই দেখেছি। চমৎকার অভিনয়, সুন্দর গল্প, অসাধারণ দর্শন আর মমত্ববোধের চমৎকার মেলবন্ধন ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস।’
    আরেক দর্শক রেজা রহমান বলেন, কয়েকজন মিলে হলে গিয়ে ‘উনপঞ্চাশ বাতাস’ সিনেমাটি দেখলাম। এককথায় বলতে গেলে অনেক দিন পর অসাধারণ একটা সিনেমা দেখেছি। প্রথমার্ধে শার্লীন ও বর্ষনের অভিনয় দেখে ফিরে গিয়েছিলাম সেই কলেজ জীবনে। ছবির দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের সকলের কয়েকবার দু’চোখের পানি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছিল না।’
    টরন্টোর দর্শক রিয়াজ মাহমুদ বলেন, ‘ছবিটা দেখার পর ঘোরের মধ্যে আছি।
    আহমেদ হোসেন বলেন, সব মিলিয়ে বলব, ‘ছবিটা আসলে উপভোগ্য, দেখার মত হয়েছে। আপনি যদি ছবি দেখে আনন্দ পেতে চান, আনন্দ পেতে পারেন। চিন্তার খোরাক খুঁজতে চান, তাও খুঁজতে পারবেন।’
    টরন্টোর আরেক দর্শক তসলিমা শিমু বলেন, ‘ আস্তে আস্তে সিনেমাটা চলতে শুরু করল। কোথায় যেন মনে হল একটা ভ্রমণে বের হয়েছি। প্রথমে আমার সোনার বাংলাকে দেখলাম। আর তখনই বাংলাদেশ যেতে মন চাইলো। তারপর চোখ পরল মূল অভিনেত্রীর কস্টিউম। খুব অসাধারণ ডিজাইন। মনে হলো এবার দেশে গিয়ে এই ধরনের কিছু সালোয়ার-কামিজ কিনে আনব। তারপর ইমতিয়াজ বর্ষণের উপর চোখ পড়লো, গলার শব্দ শুনে মনে হল বেশ পাকা একজন অভিনেতা। একটা পর্যায়ে আমি কোথায় যেন হাঁটা শুরু করলাম বর্ষণ ছেলেটির সাথে। তার সরল কথা বলার ভঙ্গি, একবারের জন্যও মনে হচ্ছিল না তিনি অভিনয় করছেন। ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ সত্যি একটা অনুভূতি, এ কোনভাবেই সিনেমা হতে পারেনা।’
    এদিকে ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় মুক্তি পাবার মাধ্যমে দেশীয় সিনেমার নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে আন্তর্জাতিক পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান মোহাম্মদ অলিউল্লাহ সজীব, বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় একযোগে ১৬টি মাল্টিপ্লেক্সে বাংলাদেশি সিনেমা মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি অভূতপূর্ব ঘটনা। বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা এটিই প্রথম, রেকর্ড তো অবশ্যই। এমন ঘটনা যে ঘটতে পারে কিছুদিন আগেও সেটি ভাবা যায়নি।’
    টাইমস স্কয়ার ছাড়াও নিউইয়র্ক-এর আরও ৩টি থিয়েটারে মুক্তি পেয়েছে ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’। এটিও একটি রেকর্ড। থিয়েটারগুলো হলো- অ্যাস্টোরিয়ার রিগ্যাল ইউএ কাফম্যান অ্যাস্টোরিয়া ও আরপিএক্স, জ্যামাইকার জ্যামাইকা মাল্টিপ্লেক্স সিনেমাস এবং বেলমোর-এর বেলমোর প্লে হাউজ।
    এছাড়া লস অ্যাঞ্জেলেস, ইউনিয়ন সিটি (বে এরিয়া), ডালাস, প্ল্যানো, অস্টিন, হিউস্টন, ওয়েস্ট পাম বিচ, নর্থ মিয়ামি, ফেয়ারফেক্স, হ্যানোভার একটি করে ‘সিনেমার্ক’ থিয়েটার এবং কানাডার টরন্টো ও উইনিপেগ শহরের একটি করে ‘সিনেপ্লেক্স’ থিয়েটারে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি।
    উত্তর আমেরিকার দুই দেশে এমন রেকর্ড মুক্তি নিয়ে উচ্ছ্বসিত সিনেমাটির নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি ভালো চলচ্চিত্র বানানোর চেষ্টা করেছি। স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো সেটিকে উত্তর আমেরিকা তথা পৃথিবীর সেরা সব থিয়েটারে অনেক বড় পরিসরে মুক্তি দিয়েছে।
    ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ ও শার্লিন ফারজানা। এটি প্রযোজনা করেছে রেড অক্টোবর ফিল্মস। সিনেমাটিতে গান করেছেন বেজবাবা সুমন, শাওরিন, ভারতের সোমলতা, সিধু ও নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। ইতোমধ্যে গানগুলো দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
    দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরও প্রশংসিত হয়েছে সিনেমাটি। পাশাপাশি ১৯তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সমালোচক পুরস্কার ফিপ্রেসকি অ্যাওয়ার্ড ও লন্ডনে ২১তম রেইনবো চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা পরিচালকের পুরস্কার অর্জন করেছে এটি।
    প্রসঙ্গত, ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ স্বপ্ন স্কেয়ারক্রোর পরিবেশনায় ১৫তম সিনেমা।