ইংলিশ চ্যানেলে নৌকাডুবি, কমপক্ষে ২৭ জনের প্রাণহানি

    ঠিকানা অনলাইন : ফ্রান্স থেকে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার জন্য অবৈধভাবে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিতে গিয়ে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ২৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে। মৃতরা সবাই শরণার্থী এবং আশ্রয়প্রার্থী।

    আজ ২৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এবং কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। এর আগে ইংলিশ চ্যানেলে নৌকাডুবির ঘটনায় ৩১ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানিয়েছিল ফ্রান্স। পরে মৃতের সংখ্যা সংশোধন করে ২৭ জন বলে নিশ্চিত করেছেন ফরাসি কর্মকর্তারা।

    আলজাজিরা বলছে, ছোট ডিঙ্গি নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার সময় সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একপর্যায়ে ডুবে যায়। এতেই ওই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় জেলেদের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অন্যদিনের তুলনায় বুধবার যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সকে বিভক্তকারী এই সাগরের পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত ছিল। আর এর সুবিধা নিতেই অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছাতে নৌকায় উঠে রওয়ানা হন। পথিমধ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    জেলেরা বলছেন, অন্যদিনের তুলনায় বুধবার ইংলিশ চ্যানেল কিছুটা শান্ত থাকলেও এর পানি ছিল ভয়াবহ রকমের ঠান্ডা।

    ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বহু শরণার্থী যুক্তরাজ্যে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। এর আগেও বেশ কিছু শরণার্থী ছোট নৌকা ভাড়া করে ইংলিশ চ্যানেল পার করার চেষ্টা করেছেন। এছাড়া ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে ইউরোপ থেকে বহু শরণার্থী যুক্তরাজ্যে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এর আগেও নৌকাডুবিতে মৃত্যু হয়েছে অনেকের।

    আলজাজিরা বলছে, ইংলিশ চ্যানেলে একটি খালি ডিঙ্গি নৌকা এবং আশপাশে বহু নিশ্চল ও নিথর মানুষকে ভেসে থাকতে এক ব্যক্তি উদ্ধারকারী সংস্থার কাছে ফোন দেন। এরপরই ফ্রান্স ও ব্রিটেন যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। উভয় দেশের এই উদ্ধার তৎপরতায় কমপক্ষে তিনটি নৌকা এবং তিনটি হেলিকপ্টার অংশ নেয়।

    ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন জানিয়েছেন, নৌকাডুবির এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চার ব্যক্তিকে আটক করেছে ফরাসি পুলিশ। তিনি ইংলিশ চ্যানেলে এই নৌকাডুবি ও প্রাণহানির ঘটনাকে তার দেখা সবচেয়ে বড় অভিবাসী বিপর্যয় বলে মন্তব্য করেছেন।

    এছাড়া ইংলিশ চ্যানেল থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাদেরকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। দীর্ঘসময় তীব্র ঠান্ডা পানির মধ্যে থাকার করণে তারা গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।

    এছাড়া নিহতদের পরিচয় এবং তারা কোন দেশের নাগরিক তা এখনও জানা যায়নি।

    অবশ্য, ইংলিশ চ্যানেলে নৌকাডুবির এমন ঘটনা এটিই প্রথম নয়। অতীতে সাঁতার কেটে ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে যেতেও চেষ্টা করেছেন শরণার্থীরা। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইংলিশ চ্যানেল পার করার সময় ১৩০০ শরণার্থীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছিল ফরাসি সরকার।

    এছাড়া ২০১৯ সালে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিতে গিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছিল। আর ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সকে বিভক্তকারী এই পানিতে সাত জনের মৃত্যু হয়।

    ঠিকানা/এসআর