ঐক্যের ফোবানা কত দূরে?

    ঠিকানা রিপোর্ট : ‘সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে আলোর দেখা মিলেছে’- সাধারণত ভালো অর্থে এই প্রবাদটি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে ফোবানার ক্ষেত্রে এই প্রবাদ বড্ড বেমানান। ঐক্যবদ্ধ ফোবানার জন্য যত প্রচেষ্টাই চলুক না কেন সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে শুধু অন্ধকারই মিলছে। কোথাও কোনো আলোর দেখা নেই। গত তিন বছরে ঐক্যবদ্ধ ফোবানার নামে যত প্রচেষ্টা চলেছে সবই বৃথা গেছে। বরং কতিপয় ব্যক্তি ফোবানার নামে বাংলাদেশি কমিউনিটিকে বিভক্ত এবং মূলধারায় বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছেন।
    করোনা মহামারীর কারণে গত বছর ফোবানা হয়নি। এ বছর ৩, ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর (লেবার ডে উইকেন্ড) ম্যারিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ায় ৩৫তম ফোবানা কনভেনশনের আয়োজন করা হয়েছে। ভার্জিনিয়া ফোবানা কনভেনশনের দিন-তারিখ ঠিক থাকলেও ম্যারিল্যান্ড ফোবানার তারিখ বদলেছে। তবে এই তারিখ পরিবর্তন কোনো ঐক্যের সুবাতাস বয়ে আনেনি। করোনা পরিস্থিতির কারণে তারা তারিখ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন।
    এদিকে যেসময় ভার্জিনিয়াতে ফোবানা কনভেনশন হবে, একই সময়ে বিশ্বের রাজধানী খ্যাত নিউইয়র্কে হবে বাংলাদেশ সম্মেলন। ফোবানার আদলে বাংলাদেশ সম্মেলন হলেও আয়োজকদের দাবি, বাংলাদেশ সম্মেলন কোনোভাবেই ফোবানার বিকল্প অনুষ্ঠান নয়। গত পাঁচ বছর ধরে নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশিদের চিত্তবিনোদন এবং বাংলাদেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে তুলে ধরার প্রয়াসে তাদের এই আয়োজন।
    ৩২ বছর আগে ১৯৮৭ সালে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে যে প্রত্যয়ে ফোবানার যাত্রা শুরু, তা পূরণের অভিপ্রায়ে ঐক্যের বিকল্প নেই। ঐক্যের এই প্রত্যাশা অবশ্যই নিকট ভবিষ্যতে পূরণ হবে। আর এই ঐক্যের স্বপ্ন নিয়ে তিন বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানকে প্রধান করে একটি কমিটি হয়েছিল। কিন্তু ফোবানার ঐক্যের নিকট ভবিষ্যত কতটা নিকটে? ঠিকানার পক্ষ থেকে জানতে চাইলে ড, সিদ্দিকুর রহমান সকল প্রকার ঐক্যের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেন, ফোবানা আর কখনোই ঐক্যবদ্ধ হবে না। এখানে দলীয় কোনো বিষয়ে কারো সঙ্গে কোনো অনৈক্য নেই। উভয় ফোবানায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির লোকজন আছেন। শুধু একজন আরেকজনকে সহ্য করতে পারেন না। এটাই মূল কারণ।
    ঐক্যের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে কী না জানতে চাইল সিদ্দিকুর রহমান বলেন, চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই। পাতি নেতারা এখন ফোবানা চালায়। আগে পকেটের অর্থ খরচ করে নেতারা ফোবানা করতেন। এখন যারা ফোবানা করেন তাদের উদ্দেশ্য ভালো নয়। তিনি বলেন, একটি ফোবানা সম্মেলনের জন্য ৪-৫ লাখ ডলার তহবিল ওঠে। কিন্তু খরচ হয় এক থেকে দেড় লাখ ডলার। বাকী অর্থ পকেটে যায়। এজন্য কিছু লোক ফোবানা সম্মেলন করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।
    মূলধারার রাজনীতিক ও ফোবানার অন্যতম নেতা গিয়াস আহমেদ বলেন, ঐক্যবদ্ধ ফোবানার একটি ক্ষেত্র এখন তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যে মুহূর্তে ফোবানা এক হবে তখন লোগো নিয়ে কিছু লোক আদালতে গিয়েছিলেন। আদালত নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় দুই পক্ষ পৃথক লোগো নিয়ে ফোবানা করে আসছে। কিন্তু এক বছর আগে আদালত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে। ফলে এখন যে কেউ ফোবানার লোগো ব্যবহার করতে পারবে। অন্যদিকে ঐক্যবদ্ধ ফোবানার ব্যাপারে একের পর এক আলোচনা চলছে। আশা করছি, আগামী বছর ঐক্যবদ্ধ ফোবানা হবে।
    গিয়াস আহমেদ বলেন, আগামী নভেম্বরে ম্যারিল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ফোবানায় আমরা আমন্ত্রণ পেয়েছি। সেখানে আমরা যোগ দেব আশা করছি। এই যোগদানের মাধ্যমে ঐক্য প্রক্রিয়া আরো সুসংহত হবে। তিনি বলেন, আগে ঐক্যের কথা বললে কেউ পাত্তা দিত না। কিন্তু এখন অনেকের সুর নরম।
    ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় ৩৫তম ওয়াশিংটন ফোবানার হোস্ট কমিটির আহ্বায়ক শরাফত হোসেন বাবুও ঐক্যবদ্ধ ফোবানার ভবিষ্যত দেখতে পান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফোবানার ঐক্য এখন সময়ের ব্যাপার। আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। তিনি বলেন, ঐক্যের বিকল্প নেই। ইনশাল্লাহ আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রে ঐক্যবদ্ধ ফোবানা হবে।
    ম্যারিল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ফোবানার সদস্য সচিব শিব্বির আহমেদ ঠিকানাকে জানান, আমরা ঐক্যবদ্ধ ফোবানা চাই।