কাউন্সিলর সোহেল হত্যা : সিসিটিভির ফুটেজ ভাইরাল

    ছবি সংগৃহীত

    ঠিকানা অনলাইন : কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেলকে হত্যায় অংশ নেওয়া সন্ত্রাসীদের গুলি করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

    সুজানগরের পাথুরিয়াপাড়ায় থ্রি-স্টার এন্টারপ্রাইজ নামে কাউন্সিলরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে তাকে গুলির ভিডিও পাওয়া না গেলেও প্রতিষ্ঠানটির সামনের একটি রাস্তায় অস্ত্রধারীদের গতিবিধি ধরা পড়েছে ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরায়।

    ২ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, সোহেলের কার্যালয় থেকে পশ্চিম দিকে সুজানগর থেকে পাথুরিয়াপাড়া সড়কে দুই যুবক প্রকাশ্যে গুলি চালাচ্ছে। এ সময় আশপাশের সব দোকানপাট বন্ধ ছিল। রাস্তায়ও কাউকে চলাচল করতে দেখা যায়নি।

    ফুটেজে আরও দেখা যায়, গুলি করতে থাকা যুবকদের মুখে মুখোশ। তারা বিভিন্ন ছাদের দিকে লক্ষ্য করে গুলি করছে। ওই সময় উপর থেকে তাদের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে তারা আরও উত্তেজিত হয়ে গুলি ছুড়তে ছুড়তে পশ্চিম দিকে গিয়ে ফের পূর্ব দিকে কাউন্সিলরের কার্যালয়ের দিকে চলে যায়।

    এর কিছুক্ষণ পরই স্থানীয়রা বাড়িঘর থেকে বের হয়ে দৌড়ে পূর্ব দিকে কাউন্সিলরের কার্যালয়ের দিকে যান। ভিডিও ফুটেজে এক যুবকের হাতে দুটি এবং আরেক যুবকের হাতে একটি পিস্তল দেখা যায়।

    র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লা ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন বলেন, ‘ওই এলাকার সব সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। আশা করি, শিগগির জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।’

    নিজ কার্যালয়ে ২২ নভেম্বর সোমবার বিকেল ৪টার দিকে কাউন্সিলর সোহেলসহ গুলিবিদ্ধ হন অন্তত ৬ জন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহেল ও তার সঙ্গী হরিপদ সাহার মৃত্যু হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনওয়ারুল আজিম জানান, বিকেল ৪টার দিকে কাউন্সিলর সোহেল সুজানগরে তার কার্যালয়ে বসে ছিলেন। এ সময় মুখোশ পরা ১৫ থেকে ২০ জন তাকে গুলি করে। এতে কাউন্সিলর সোহেল লুটিয়ে পড়েন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন হরিপদ সাহা, পাথুরিয়াপাড়ার মো. রিজু ও মো. জুয়েল এবং সুজানগর এলাকার সোহেল চৌধুরী ও মাজেদুল।

    স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ করতে করতে চলে যায়।

    ১৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হানিফ মিয়া জানান, নেতাকর্মীদের নিয়ে কাউন্সিলর সোহেল তার কার্যালয়ে বসে ছিলেন। মোটরসাইকেলে এসে কয়েকজন সন্ত্রাসী অতর্কিত গুলি চালায়।

    কাউন্সিলর সোহেলের ভাগনে মোহাম্মদ হানিফ জানান, ‘সবাই আসরের নামাজ পড়ছিলেন। এ সময় প্রচণ্ড গোলাগুলির আওয়াজ কানে আসে। গিয়ে দেখি মামা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। আমি নিজে মামাকে কাঁধে করে বের করি।’

    হামলাকারীরা নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের হতে পারে বলে মনে করেন হানিফ। চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে এ ঘটনা বলে জানান স্থানীয়রা।

    ঠিকানা/এনআই