খুন করে মায়ের পেট থেকে বাচ্চা চুরি!

    অভিযুক্ত রোজালবা (বামে) ও গর্ভকালীন মাফরা। ছবি সংগৃহীত

    ঠিকানা অনলাইন : ব্রাজিলে ৩৬ সপ্তাহের গর্ভবতী এক নারীকে খুন করে তার পেট থেকে বাচ্চা চুরি করে নেন আরেক নারী।

    রোমহর্ষক এই ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলীয় সান্তা ক্যাটারিনা প্রদেশের ক্যানেলিনহা শহরে। বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে গর্ভবতী মাকে হত্যা করে তার পেট চিরে বাচ্চা চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে ওই নারীর বিরুদ্ধে।

    ২৭ নভেম্বর শনিবার নিউইয়র্ক পোস্ট জানায়, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রোজালবা মারিয়া গ্রিম নামের ওই নারীকে ৫৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ব্রাজিলের একটি আদালত।

    মামলার সূত্রে জানা যায়, ক্যানেলিনহা শহরে ২৭ বছর বয়সী রোজালবার সঙ্গে ২৪ বছর বয়সী ফ্ল্যাভিয়া গোডিনহো মাফরার বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। একটি স্কুলে পড়াতেন মাফরা। ২০২০ সালের ২৭ আগস্ট মাফরাকে শহরের এক প্রান্তে একটি পুরাকীর্তির স্থানে ঘুরতে যেতে প্রলুব্ধ করেন রোজালবা। সেখানে যাওয়ার পর একটি নির্জন স্থানে মাথায় একের পর এক ইটের আঘাতে মাফরাকে হত্যা করেন রোজালবা।

    আঘাতের পর আঘাতে মাফরা নিস্তেজ হয়ে পড়লে একটি ধারালো ছুরি বের করেন রোজালবা। পরে এই ছুরি দিয়ে তিনি মাফরার পেট চিরে ফেলেন এবং পেটের ভেতর থেকে ৩৬ সপ্তাহের নবজাতকটিকে বের করে আনেন। পরে মাফরার মরদেহটি একটি চুল্লির ভেতর লুকিয়ে বাচ্চাটি নিয়ে পালিয়ে যান তিনি।

    নৃশংস এই ঘটনার পর রোজালবা তার প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে নবজাতকটির প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতালে যান। এর কিছুদিন আগেই প্রেমিককে রোজালবা জানিয়েছিলেন, তিনি সন্তানসম্ভবা। তাই প্রেমিকও নবজাতকটিকে নিজের সন্তান ভেবেছিলেন।

    হাসপাতালে গিয়ে কর্মীদের কাছে রোজালবা দাবি করেন, একটু আগেই তিনি বাচ্চাটির জন্ম দিয়েছেন। এই বাচ্চার এখন প্রাথমিক চিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু রোজালবার আচরণ ও শারীরিক সামর্থ্য দেখে সন্দেহ হয় হাসপাতালের কর্মীদের। তাই তারা ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে পুলিশকে খবর দেন।

    হত্যাকাণ্ড ও বাচ্চা চুরির সঙ্গে কোনো যোগসূত্র না থাকায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া রোজালবার প্রেমিককে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

    ১৫ ঘণ্টার শুনানিতে আদালতকে রোজালবা জানান, মাফরাকে হত্যার পরিকল্পনাই শুধু নয়, হত্যার পর বাচ্চাটিকে কীভাবে পেট থেকে বের করে আনবেন, তা নিয়েও বিস্তর পড়াশোনা করেছিলেন তিনি। মায়ের গর্ভে বাচ্চাটি পরিণত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

    ঠিকানা/এনআই