গ্রিনকার্ডধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ

    করোনায় আটকে পড়াদের সুখবর

    ঠিকানা রিপোর্ট : যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনকার্ডধারী অনেক বাংলাদেশি করোনাকালে দেশে আটকা পড়েছিলেন এবং এক বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে আছেন। ওই সময়ে তারা অনেক চেষ্টা করেও এখানে আসতে পারেননি। তারা চাইলে এখন যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারবেন। যদিও অনেকেই এক বছর, দেড় বছর কিংবা এর বেশি সময় বাংলাদেশে অবস্থান করার পর এসবি-১ রিটার্নিং রেসিডেন্ট ভিসার আবেদন না করেই বা অনুমতি না নিয়েই এয়ারপোর্টে এসেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার সুযোগ পেয়েছেন। আবার কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্র সফর করে বাংলাদেশে ফিরেও গেছেন।
    যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী, গ্রিনকার্ডধারী কোনো ব্যক্তি অনুমতি ছাড়া এক বছরের বেশি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকতে পারবেন না। এ ছাড়া যদি কেউ সিটিজেনশিপের জন্য এখানে থাকার সময় গণনা করাতে চান, তাহলে তিনি কোনোভাবেই একনাগাড়ে ছয় মাসের বেশি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকতে পারবেন না। কিন্তু তার যুক্তরাষ্ট্রে আসতে যেতে কোনো বাধা থাকবে না। এ অবস্থায় এখন যারা করোনার কারণে এক বছরের বেশি সময় গ্রিনকার্ডধারী হয়েও দেশের বাইরে থাকছেন, তাদের এই সময়ের বিষয়টি পরে কোনো জটিলতা সৃষ্টি করবে কি না, এখনো এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার কারণে হয়তো ছাড় দেওয়া হতে পারে। যারা এক বছরের বেশি সময় পার করে ফেলেছেন, তারা এসবি-১ রিটার্নিং রেসিডেন্ট ভিসার আবেদন করে সেটি ঢাকা থেকে নিয়ে আসাই ভালো। এতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের জটিলতা তৈরি হবে না।
    ইউএসসিআইএসের নীতি অনুসারে, আমেরিকার বাইরে থেকে কেউ রি-এন্ট্রি পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। আমেরিকা ছাড়ার আগে তাকে অবশ্যই এর জন্য আবেদন করতে হবে। এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এন্ট্রি পারমিটের মেয়াদ বাড়ানো যাবে না। যে সকল এলপিআর আমেরিকার বাইরে এক বছরেরও বেশি সময় বা তাদের রি-এন্ট্রি পারমিট মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় ধরে রয়েছেন, তারা সাধারণত তাদের এলপিআর স্ট্যাটাস ত্যাগ করেছেন বলে ধরে নেওয়া হবে।
    ইউএসসিআইএস বলেছে, যদি কারো কেস এসব পরিস্থিতির যেকোনো একটির মধ্যে পড়ে এবং তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসতে চান, তাহলে তাকে এসবি-১ রিটার্নিং রেসিডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। কারো গ্রিনকার্ড হারিয়ে গেলে কিংবা চুরি হয়ে গেলে তারা ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে বোর্ডিং ফয়েলের জন্য আবেদন করতে পারেন।
    বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকার বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু রয়েছে। মার্কিন নাগরিকদের ফ্লাইটের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
    একজন গ্রিনকার্ডধারীকে বাংলাদেশ ভ্রমণের সময় এসব বিষয় যেমন জেনে রাখা প্রয়োজন, পাশাপাশি গ্রিনকার্ডধারী যারা এখন বাংলাদেশে আছেন, তাদেরকেও বাংলাদেশে অবস্থানকালে এসব তথ্য জেনে রাখা প্রয়োজন। কারণ অনেক সময় অনেক তথ্য না জানার কারণে অনেক ধরনের জটিলতা তৈরি হয়। সিটিজেনদের জন্য তার নিজের পূর্বের দেশে বা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা স্ব স্ব দেশে অবস্থিত দূতাবাসগুলোতে ২৪ ঘণ্টার বিশেষ সেবা চালু থাকলেও গ্রিনকার্ডধারীদের জন্য আলাদা করে সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা নেই।