পাগলের তাণ্ডবে ত্রিপুরায় পুলিশ অফিসারসহ নিহত ৫

    পাগলের হামলায় নিহত খোয়াই থানার সেকেন্ড অফিসার সত্যজিত মল্লিক। ছবি সংগৃহীত

    ঠিকানা অনলাইন : ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী খোয়াইতে শাবল দিয়ে এক পুলিশ অফিসারসহ পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে। ২৬ নভেম্বর শুক্রবার মাঝরাতের এই ঘটনার ঘাতক প্রদীপ দেবরায়কে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, প্রদীপ মানসিক ভারসাম্যহীন এবং মদ্যপান করেছিল।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার ভারতীয় সময় রাত ১২টা নাগাদ হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ওঠেন প্রদীপ। প্রথমেই শাবল নিয়ে মারতে যান স্ত্রী মীনা পাল দেবরায়কে। তিনি গুরুতর জখম অবস্থায় পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন। বর্তমানে আগরতলার জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    মীনা প্রাণে বাঁচলেও তার দুই সন্তানকেই খুন করে প্রদীপ। মাঝরাতে চিৎকার শুনে প্রতিবেশী কৃষ্ণ দাহ (৫৪) এগিয়ে এলে তাকেও খুন করে প্রদীপ। কৃষ্ণ দাসের ছেলে জানান, অন্যান্য প্রতিবেশীর বাড়িতেও হামলা চালানোর চেষ্টা করে সে।

    খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন খোয়াই থানার সেকেন্ড অফিসার সত্যজিত মল্লিক। তিনি গাড়ি থেকে নামতেই ঘাতক প্রদীপ তার পেটে শাবল ঢুকিয়ে দেয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান। নিহত অন্যজন প্রদীপের ভাই। পরে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী এসে ঘাতককে গ্রেপ্তার করে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ময়নাতদন্তের জন্য পাঁচটি মরদেহই মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। গ্রামবাসী জানান, পেশায় রাজমিস্ত্রি প্রদীপ মানসিক ভারসাম্যহীন। তবে এতটা হিংস্র হয়ে উঠবে, সেটা তারাও ভাবতে পারেননি।

    হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ফেসবুকে লিখেছেন, ‘নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে উন্মত্ত এক দুর্বৃত্তের হামলায় খোয়াই থানার সেকেন্ড অফিসার সত্যজিৎ মল্লিকের শহীদ হওয়ায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। নিষ্ঠাবান এই পুলিশ অফিসারসহ এ ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের আত্মার সদগতি কামনা করছি। পরিবার-পরিজনের প্রতি জানাই আমার গভীর সমবেদনা। ঈশ্বরের কাছে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’

    ঠিকানা/এনআই