প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে : হেলেন গ্রান্ট

    মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন পার্লামেন্ট অব দ্য ইউনাইটেড কিংডম-এর সংসদ সদস্য হেলেন গ্রান্ট -সংগৃহীত

    ঠিকানা অনলাইন : ইউএনডিপি, ফরেন, কমনওয়েলথ এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস এবং বাংলাদেশ সরকার এর সহযোগিতায় স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২২ নভেম্বর (সোমবার) ঢাকার কাছে কড়াইল বেদে বস্তি এলাকায় চলমান কার্যক্রম পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    কড়াইল বেদে বস্তি এলাকায় পরিদর্শন শেষে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন পার্লামেন্ট অব দ্য ইউনাইটেড কিংডম-এর সংসদ সদস্য হেলেন গ্রান্ট। এ সময় তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ এবং নারীর প্রতি নির্যাতন ও সহিংসতা নারীর অগ্রযাত্রায় অন্যতম প্রতিবন্ধকতা। দরিদ্র বসতিতে এটি একটি বড় ধরনের সংকট। আর্থিক অনটনের কারণে অনেকেই সন্তানের পড়ালেখার খরচ চালাতে পারেন না। এছাড়া হয়রানি নির্যাতনের ভয়ে কন্যা সন্তানকে ঘরে রাখটাও ঝুঁকিপূর্ণ। যে কারণে পরিণত বয়সের পূর্বেই তাদের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন। বিশেষ করে করোনাকালে এই সমস্যা আরও বেড়েছে। বাল্যবিবাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে নারীর প্রতি নির্যাতন ও সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কড়াইলের বেদে বস্তিতেও একই চিত্র লক্ষ্য করা যায়। এর প্রতিকারে পার্লামেন্ট অব দ্য ইউনাইটেড কিংডম-এর সংসদ সদস্য হেলেন গ্রান্ট সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

    প্রকল্পের আওতায় অত্র এলাকায় শিক্ষা ভাতা, ব্যবসা অনুদান, পুষ্টি সহায়তা এবং শিক্ষানবিশদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। যা শিক্ষা গ্রহণ এবং নারী উপার্জনের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নারী নির্যাতন ও সহিংসতা কমিয়ে আনতে ভূমিকা রাখছে। এছাড়া সেফ কমিউনিটি কমিটি গঠন করে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনে নির্যাতন বন্ধে সামাজিক ও আইনি সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। কমিউনিটির উন্নয়নে অবকাঠামো যেমন হাঁটাপথ, নর্দমা, সৌরবাতি এবং কমিউনিটি টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। এ সকল কাজও নারী নেতৃত্বে পরিচালিত সংগঠনের মাধ্যমে করায় দরিদ্র নারী জনগোষ্ঠীর অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রেখে চলেছে। তবে এখনো অনেক হতদরিদ্র মানুষের জন্য সহায়তা প্রয়োজন। এজন্য পার্লামেন্ট অব দ্য ইউনাইটেড কিংডম এর সংসদ সদস্য হেলেন গ্রান্ট ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। একাজে তাদের সহযোগিতা থাকবে বলে উল্লেখ করেন।

    উক্ত মতবিনিময় সভা এবং পরিদর্শন কার্যক্রমে আরও উপস্থিত ছিলেন বৃটিশ হাইকমিশনের ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জুডিথ হার্বাটসন্, ইউএনডিপি বাংলাদেশ-এর রেসিডেন্সিয়াল রিপ্রেজেনটেটিভ সুদীপ্ত মুখার্জি, প্রকল্পের স্টাফবৃন্দ এবং কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ এবং জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।

    ঠিকানা/এসআর