বাসায় ফিরেছেন গাফ্ফার চৌধুরী

    ঠিকানা রিপোর্ট : ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের রচয়িতা, যুক্তরাজ্য প্রবাসী ঋদ্ধ সাংবাদিক ও প্রখ্যাত কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী গত ২৩ নভেম্বর মঙ্গলবার হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে গেছেন। এর আগে তাকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তিনি লন্ডনের মিডলসেক্স এলাকায় বসবাস করছেন।

    পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ৮৭ বছর বয়সী আব্দুল গাফফার চৌধুরী নিউমোনিয়ার আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। হাসপাতালে নিউমোনিয়ার চিকিৎসার পাশাপাশি তাঁর কিডনির সমস্যা ধরা পড়ে। বর্তমানে তাঁর দুটি কিডনিই ঠিকমত কাজ করছে না। এই বয়সে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্ভব নয় বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

    সূত্র জানায়, আব্দুল গাফফার চৌধুরী জীবন সায়াহ্নে এসে দাঁড়িয়েছেন। হাসপাতালে এই মুহূর্তে তাঁর কোনো চিকিৎসা নেই বলে চিকিৎসকেরা জানিয়ে দিয়েছেন। তাঁকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বাসায় থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। চিকিৎসকের এই পরামর্শের পর মঙ্গলবার দুপুরে গাফফার চৌধুরীকে বাসায় নেয়া হয়েছে। বাসায় তিনি খুব কাছের মানুষ ছাড়া কারো সঙ্গে দেখা করছেন না। খুব পরিচিত ছাড়া কারো ফোনও ধরছেন না তিনি।

    ২৩ নভেম্বর মঙ্গলবার গাফফার চৌধুরীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন নিউইয়র্কের একজন সাংবাদিক-সংস্কৃতিকর্মী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সাংবাদিক-সংস্কৃতিকর্মী ঠিকানাকে জানান, চিকিৎসকেরা গাফফার চৌধুরীকে সাত মাস সময় দিয়েছেন। তারপরও তিনি মানসিকভাবে এখনো অনেক শক্ত রয়েছেন। তবে কিছু আফসোসের কথা পুনব্যর্ক্ত করেছেন তিনি। বিশেষ করে বাংলাদেশে মৌলবাদের উত্থান ও বর্তমান সরকারের ভূমিকায় নিজের হতাশার কথা ব্যক্ত করে বলেছেন, মৃত্যুর আগে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ দেখে যেতে পারলাম না। সরকার মৌলবাদীদের এতটা প্রশ্রয় দিয়েছে যে তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার সাহস দেখায়। অথচ খালেদা জিয়ার শাসনামলেও তারা এমন সাহস দেখাতে পারেননি।

    গাফফার চৌধুরী জীবন সায়াহ্নে এসে তাঁর গ্রামের বাড়ি বরিশাল যাবার ইচ্ছা ব্যক্ত করে বলেন, খুব ইচ্ছা করছে বরিশাল যাবার। কিন্তু শরীরের সেই শক্তি আর নেই। তবে অসুস্থতার খবর শুনে বাংলাদেশ থেকে যাঁর একটি ফোন কল আশা করেছিলেন, তিনি এখনো খোঁজ নেননি বলে আক্ষেপ করেন গাফফার চৌধুরী।

    বাংলাদেশ নিয়ে হতাশার কথা পুনর্ব্যক্ত করে বর্ষীয়ান সাংবাদিক গাফফার চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতাম। কিন্তু স্বপ্ন পূরণ হলো না। তিনি বলেন, বাংলাদেশে দুই রাজার শাসন দেখে গেলাম। জনগণ প্রজা হয়েই থাকলো। অথচ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় এমনটি হবার কথা ছিল না। এই রাজতন্ত্রের জন্য একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ হয়নি।

    উল্লেখ্য, আবদুল গাফফার চৌধুরী ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ এর রচয়িতা। এছাড়াও তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের মাধ্যমে নিবন্ধিত স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা সাপ্তাহিক ‘জয়বাংলা’র প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন।